ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম

ঘন কুয়াশা ও শীতে বিপর্যস্ত দেশ

প্রকাশিত : 08:28 AM, 12 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ঘন কুয়াশা আর শীতে বিপর্যস্ত সারাদেশ। ফলে নৌ বিমান ও সড়কে যান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না। ঘন কুয়াশার কারণে শীতের উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়াবিদরা জানান টানা কুয়াশার কারণে প্রায় সপ্তাহ যাবত সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। সড়কে দৃষ্টি সীমা নেমে আসছে। ফলে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

কুয়াশার কারণে কয়েকদিন ধরে জনজীবন কিছুটা বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিমান, ট্রেন, যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। যদিও বেলা বাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। কুয়াশার প্রভাব পড়ছে শীতের উঠতি ফসলের ওপর। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে বিক্ষিপ্তভাবে দুই-একদিন ঘন কুয়াশা পড়লেও সমস্যা নেই। কিন্তু টানা কয়েকদিন ধরে কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে আলু, তৈলবীজ, ডাল প্রভৃতি রবি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কুয়াশারযুক্ত পরিবেশে ফসলে সংক্রমণ হয় বেশি। তবে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক রাসায়নিক প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তারা।

এদিকে কুয়াশার পাশাপাশি এবার শীত বাড়ার আভাস দিয়েছে। তারা জানিয়েছে রবিবার থেকে ঘন কুয়াশা কেটে পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তারা জানায় সারাদেশে ঘন কুয়াশা থাকলে তাপমাত্রা খুব বেশি কমেনি। কিন্তু ঘন কুয়াশা, আর সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গড় পার্থক্য কমে আসার কারণে শীত বাড়ছে। তবে কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর তাপমাত্রা আরও কমবে।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক মহাসড়ক এবং বিস্তীর্ণ জনপদে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। সড়কে চলার সময় বিপরীতদিকে থেকে আসা যানবাহন দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারণে মূলত এই ঘটনা ঘটছে। এ কারণে রাস্তায় সতর্ক হয়ে যানবাহন চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানান ঘন কুয়াশায় সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারছে না। ফলে সড়কে দৃষ্টিসীমা একেবারেই নেমে যাচ্ছে। ফলে বিপরীতদিক থেকে আসা কোন যানবাহন সহজেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।

শুক্রবার ঘন কুয়াশার কারণে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে কেউ হতাহত না হলেও মূলত ঘন কুয়াশায় পথ দেখতে না পেয়ে বাসটি উল্টে যায় বলে জানা গেছে। শুক্রবার মানিকছড়ির সদরের গবামারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে গত মঙ্গলবার ঘন কুয়াশার কারণে টাঙ্গাইলে ট্রাক ও পিক-আপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়। পুলিশ বলছে, ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন দুটি পরস্পরকে দেখতে না পাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে শীতকালে সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হচ্ছে ঘন কুয়াশা। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রায় প্রতিদিন মাঝ রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। ফলে দুপুরের কয়েক কিলোমিটার জ্যাম পড়ছে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় আবহাওয়া অফিস জানায় মধ্যরাত থেকে সকাল অবদি সেদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকবে। তারা জানায় রবিবার থেকে কুয়াশার দাপট কাটবে। এরপর বেড়ে যাবে শীত।

আবহাওয়া অফিস জানায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর চলতি শীত মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর আগে হাল্কা বৃষ্টিপাতও হতে পারে। প্রথমদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হবে। পরবর্তীতে দেশজুড়েও শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হবে। এর প্রভাবে সারাদেশজুড়ে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত থাকবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই। উত্তরে হাওয়া এখনও সক্রিয় হয়নি। পশ্চিম হিমালয়ে এখন পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তুষারপাত চলছে। তুষারপাত বন্ধ হওয়ার পর উত্তরে হাওয়া সক্রিয় হবে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও এর আশপাশের এলাকা পর্যন্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য এলাকায় মাঝারি থেকে হাল্কা কুয়াশা পড়তে পারে।

কুয়াশার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে ফেরি চলাচল নদী বন্দরগুলোর জন্য আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, আজ সকাল ১০টা থেকে আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে দেশের নদী অববাহিকায় হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ৪০০ মিটার অথবা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে। এসব এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তবে কোনও সঙ্কেত দেখাতে হবে না।

নীলফামারী ॥ উত্তরের জেলা নীলফামারীজুড়ে শুক্রবার সারাদিন দেখা মিলেনি সূর্যের। এতে করে উত্তরে পাহাড়ী হিমেল হাওয়ায় শীত একটু বেশিই অনুভূতি হয়েছে। সঙ্গে ঘন কুয়াশা জেঁকে বসেছে শীত। শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এছাড়া ঘরকুয়াশার কারণে সৈয়দপুর-ঢাকা আকাশপথে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১১টি বিমানের একটিও চলাচল করতে পারেনি।

শীতের কারণে অনেক দিনমজুর ঘর থেকে বের হতে না পারায় কাজে যোগ দিতে পারেননি। অন্যদিকে, কুয়াশা থাকায় সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপলব কুমার ঘোষ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোন বিমান ওঠা নামা করতে পারেনি। প্রতিদিন ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা আকাশপথে ইউএস-বাংলার ৫টি নভো এয়ারের ৫টি ও বিমান বাংলাদেশের ১টি বিমান চলাচল করে। শুক্রবার ঘন কুয়াশার কারণে কোন বিমান চলাচল করতে না পারায় এতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে সঙ্কেত না দেয়ার কারণে ঢাকা থেকে কোন বিমান ছেড়ে আসতে পারেনি। ভিজিবিলিটি (দৃষ্টিসীমা) কম থাকায় উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সৈয়দপুর থেকে ঢাকাগামী বেশকিছু যাত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে দেখেন বোডিং পাস দেয়া হচ্ছে না। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে রানওয়ে ছিল অন্ধকার।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT