ঢাকা, মঙ্গলবার ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পথে ১৪ রোহিঙ্গা শরণার্থী আটক ◈ পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিশ্বে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : রাষ্ট্রপতি ◈ ‘পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশে শান্তি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর’ ◈ প্যানেল থেকে নিয়োগের সুযোগ কোন নেই স্পষ্ট জানিয়ে দিলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ◈ আগামী ১ জানুয়ারি ২০২০ চালু হচ্ছে ‘নগর অ্যাপ’: মেয়র আতিকুল ◈ এই মুহূর্তে ওমরায় যাওয়ার সুযোগ নেই : ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনবে সৌদি-ভারত-নেপাল-ভুটান ◈ বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বাংলাদেশের পরিপন্থী পাকিস্তানের এজেন্ট ছিল ॥ আবদুল মুহিত ◈ ঢাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণ খাল দখল ॥ তাপস ◈ সাজার রায়ে আমৃত্যু উল্লেখ না করলে যাবজ্জীবন ৩০ বছর

গ্রামীণ রাস্তা, অবকাঠামো নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ

প্রকাশিত : 01:55 PM, 18 November 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে কাজের কোয়ালিটি যেন ঠিক থাকে, সেটা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় সাত হাজার ৫০৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা খরচে পাঁচটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে সরকার দেবে সাত হাজার ৪২৬ কোটি ৬১ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী/সচিবরা শেরেবাংলা নগর থেকে একনেক সভায় অংশ নেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাসহ বিস্তারিত তুলে ধরেন।

একনেক সভায় ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির বিষয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) খুবই গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যে, আমরা অনেক কাজ করছি গ্রামীণ রাস্তা, গ্রামীণ অবকাঠামোর। কাজগুলো সত্যিকার হচ্ছে কি না, কোয়ালিটিফুল (মানসম্মত) হচ্ছে কি না, সেগুলো ভাল করে পরখ করতে হবে। সেখানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন, মাল্টিপ্লেয়ার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাজের কোয়ালিটি যেন ঠিক থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তায় যেন পানি না জমে। কারণ রাস্তায় পানি জমলে সেটা নষ্ট হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী আরেকটা মাস্টারপ্ল্যান করার কথা বলেছেন কোন্ রাস্তা, কত রাস্তা, কোথায় করা হবে – সে বিষয়ে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা বিভাগের সচিব। সভায় ৫৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ খরচে ‘ঘূর্ণিঝড় আমফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তাগুলো খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতি দ্রুত এগুলো করতে হবে। তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয় যারা রাস্তা করে বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটা করতে হবে। যাতে কোন ওভারলেপিং না হয়। কোন কাজটুকু করতে হবে, কত কাজ বাকি থাকছে, কোন্ মন্ত্রণালয় করলে ভাল হয়, এগুলো সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। আগামী বর্ষা আসার আগেই যেন মূল কাজগুলো হয়ে যায়। তাতে সাশ্রয়ী হবে।

ঘূর্ণিঝড় আমফান ও বন্যায় সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্টগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো মেরামতের জন্য ৫ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এই অর্থ পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার টেকসই সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধমে পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্র্র্র্রয় করে ওই এলাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ব্যবস্থা সহজ করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সড়ক অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কৃষি-অকৃষি খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

একনেক সভায় নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব বলেন, নদী ভাঙ্গন রক্ষায় মূল কৌশল হবে আমাদের একটা চ্যানেলে সবসময় প্রবাহ রাখা। প্রয়োজনে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নিয়মিত আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং রাখতে হবে। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখলে ভাঙ্গন থেকে আমরা অনেকাংশে রক্ষা পাব। এজন্য কোন ডুবোচর বা কোন চর যদি থাকে, সেগুলো চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বর্ষায় যখন পানির খুব চাপ বেড়ে যায় তখন সেই চাপ যেন আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, এজন্য একটা বাফার জোন থাকতে হবে বাঁধের পাশাপাশি। যাতে বাঁধ বা লোকালয়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে পানিগুলো সেখানে থাকতে পারে। আর বড় নদীর পাশে যেসব ছোট ছোট নদী থাকে, সেগুলো অনেক সময় ভরাট হয়ে যায়। সেগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। যার কারণে বড় নদী অনেক প্রশস্ত হয়ে যায়, আমাদের প্লাবিত করে ফেলে বা বাঁধ ভেঙ্গে ফেলে। এই কাজগুলো যে ড্রেজিং, ক্যাপিটাল ড্রেজিং, নিয়মিত ড্রেজিং, বাফার জোন তৈরি করা, ছোট ছোট নদীগুলো খনন করা, রক্ষণাবেক্ষণ করা এগুলো প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিল। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বন্যা বা নদীর প্লাবন পলি বয়ে নিয়ে আসে। এই পলি পড়া যেন আবার বন্ধ না হয়, সে বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে বলে যোগ করেন আসাদুল ইসলাম।

সচিব বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে চারটিই স্থানীয় সরকার বিভাগ/স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এবং একটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। আর প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি প্রকল্প নতুন এবং দুটি সংশোধিত।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সচিব জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙ্গন হতে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলাধীন কাতলামারী ও সাঘাটা উপজেলাধীন গোবিন্দি এবং হলদিয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প। এতে খরচ হবে ৭৯৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বাকি চারটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার বিভাগ/স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। সেগুলোর মধ্যে ‘ঘূর্ণিঝড় আমফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে পাঁচ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পে খরচ হবে ৩৯৩ কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার মধ্যে সরকার দেবে ৩১৪ কোটি ৭২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থা খুলনা সিটি করপোরেশন দেবে ৭৮ কোটি ৬৮ লাখ ১২ হাজার টাকা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ/স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত দুটি প্রকল্পের মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প: বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ৯৫০ কোটি থেকে সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের নবেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। এর সময় বাড়িয়ে করা হলো ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

আর ‘শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। প্রকল্পটির খরচ ১২৬ কোটি ৫৯ লাখ ৯২ হাজার থেকে সংশোধন করে বাড়ানো হয়েছে ২২৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের মার্চে শুরু হওয়া এ প্রকল্প ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংশোধনীতে এর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হলো ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

একনেক সভায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম; শিক্ষামন্ত্রী ডঃ দীপু মনি; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও সদস্যরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT