ঢাকা, বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

খিচুড়ি রান্না শিখতে নয় ব্যবস্থাপনা দেখতে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত : 10:46 AM, 16 September 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করা শিখতে কোন কর্মকর্তাকে বিদেশ পাঠানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন। এ ধরনের সংবাদকে বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবাদটি পুরোপুরি অসত্য। আর সিনিয়র সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেন বলেছেন, খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়, পুরো ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ের সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব। প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করা শিখতে কোন কর্মকর্তাকে বিদেশ পাঠানো হচ্ছে না। এ ধরনের সংবাদ বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত। আমরা এক হাজার কর্মকর্তাকে খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন শিখতে বিদেশে পাঠাচ্ছি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা পুরোপুরি অসত্য। এ সংবাদের মাধ্যমে আমাদের মন্ত্রণালয়ের সুনাম ক্ষুণœœ করা হয়েছে। যেসব গণমাধ্যম এ বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

সরকার গত বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার হিসেবে রান্না করা খিচুড়ি সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধনও করেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন। তাহলে এখন খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করার পদ্ধতি শিখতে বিদেশে কর্মকর্তাদের পাঠাতে হবে কেন, এমন প্রশ্নে বলেন, এ ধরনের একটি সংবাদ গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয়েছে। আজ আবার বিভিন্ন পত্রিকায়ও একই সংবাদ দেখলাম। গতকাল থেকেই আমরা এ নিয়ে বিভিন্নজনের প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি। এ ধরনের সংবাদের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই।

ডিপিইর এ প্রস্তাবের বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, ওই প্রস্তাব আমরা এখনও দেখিনি। স্কুল ফিডিং কর্মসূচী বাস্তবায়নের অর্থ চেয়ে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তবে যে কোন প্রকল্প নেয়ার সময় ওই বিষয়ে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জন বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের একটি বিষয় উল্লেখ থাকে। এটি যে কোন প্রকল্প বা কর্মসূচীর একটি রীতি। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এ প্রকল্পে বিদেশ সফর করে অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রয়োজন হবে বলে আমার মনে হয় না। অধিদফতরেরও এ ধরনের কোন প্রস্তাব পেশ করার কথা নয়। তাছাড়া বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তা পাঠানোর প্রয়োজন হলে অধিদফতর অবশ্যই আমাদের সঙ্গে আলোচনা করত।

অন্যদিকে খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়, পুরো ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেন। বলেন, সেটার জন্য কিন্তু আমরা বিদেশে লোক পাঠাচ্ছি না। এ প্রকল্পটি এখনও অনুমোদন হয়নি। গতকাল পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যের সভাপতিত্বে এটার পিইসি মিটিং ছিল। মিটিংয়ে সেটির বিষয়ে আমাদের কাছে কিছু কোয়ারি করেছে। সেগুলোর আমরা জবাব দেব। জবাবের পর যদি তারা সন্তুষ্ট হয় তাহলে একনেকে উত্থাপিত হবে। একনেকে অনুমোদিত হলে জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন করতে পারব। সুতরাং আমরা খিচুড়ি রান্না করার জন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বিদেশে পাঠাচ্ছি না। আমরা টাকাও চাই না এটার জন্য। কোন একটা পত্রিকা লিখেছে যে ৫/১০ কোটি টাকা চেয়েছি, নো।

সিনিয়র সচিব বলেন, এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মিড ডে মিল চালু করতে হবে। কিভাবে ম্যানেজ করব? সেই ম্যানেজমেন্ট দেখার জন্য আসলে যে সমস্ত উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে এই ব্যবস্থা চালু আছে সেই ব্যবস্থা দেখার জন্য এবং দেশে-বিদেশে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কম্পোনেন্ট রেখেছি সক্ষমতা অর্জনের জন্য।

খিচুড়ি রান্না করার জন্য আমরা কোন কর্মকর্তা বা আমরা বিদেশে যাচ্ছি না। সিনিয়র সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় স্কুল ফিডিং পলিসি অনুমোদিত হয়েছে। এই পলিসির ভিত্তিতে ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করেছি। বর্তমানে প্রকল্পটি ১০৪টি উপজেলায়। সেটি ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হবে। সেই নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখে আমরা ২০২৩ সাল পর্যন্ত একটা প্রকল্প প্রণয়ন করে দাখিল করেছি।

যারা চালু করেছে তাদের নিয়ে এসে প্রশিক্ষণ করা যাচ্ছে না কেন? সচিব বলেন, যে সমস্ত দেশ চালু করেছে সেখানে অভিজ্ঞতাটা দেখার থাকে, এটা তো একদিনে হয়নি। তারা অনেকদিন ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন করে কিভাবে পারফেক্টলি কাজ করছে। সেই অভিজ্ঞতা অর্জনের একটা প্রস্তাব, এটা পরিকল্পনা কমিশন এবং একনেক অনুমোদন না করলে থাকবে না। ভারত নিশ্চয় কোন দেশকে ফলো করেছে, তাই না। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোন কোন দেশকে তো আমরা ফলো করি। প্রশিক্ষণে কত টাকা রাখা হয়েছে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। দেখতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT