ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ কুষ্টিয়ায় অস্ত্রসহ ২০ বছর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আটক উদ্ধারকৃত পিস্তল – ২টি, ম্যাগাজিন – ৩টি, গুলির খোসা – ২ রাউন্ড ◈ পরাজয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ ◈ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ হেরে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ ◈ ‘যারা রাজপথ পাহারা দেবে, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হবে’ ◈ এবারের পিইসি পরীক্ষাও বাতিল ◈ কুরআন অবমাননা ও পূজামণ্ডপে হামলা দুই বিষয় সামনে রেখে চলছে তদন্ত ◈ আফগানিস্তানের সর্ব শেষ ইহুদি ব্যক্তি কাবুল ছেড়েছেন ◈ সারা দেশে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে ◈ কারাগারে ফিরতেই হবে, আতঙ্কে সময় কাটছে নাজানিনের ◈ কুরআন অবমাননা ও পূজামণ্ডপে হামলা দুই বিষয় সামনে রেখে চলছে তদন্ত

ক্ষমতায় গিয়ে ভাস্কর্য সড়ানোর হুকার হেফাজতের!

প্রকাশিত : 08:35 PM, 13 December 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক বক্তব্যের বিরোধীতা করতে গিয়ে এবার দেশে ‘ইসলামী হুকুমত’ কায়েমের হুঙ্কার দিলেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙ্গার হুমকি দেয়া হেফাজত ও খেলাফত মসলিশের এ নেতা হুশিয়ারি দিয়েছেন. ‘ তারা ক্ষমতায় গেলে ভাস্কর্য সরিয়ে না ফেলার অবকাশ থাকবে না।’

এদিকে হেফাজতের হাতে ইসলামকে ছেড়ে দেয়া যাবেনা বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশের হক্কানী আলেম সমাজ। দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেফাজত ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, সাবেক আমির আল্লামা শফিকে ওনারা হেফাজত করেনি বরং লাঞ্ছনা করে কবর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় হেফাজতে ইসলামের কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তার ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে হেফাজত একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান মন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। জয় বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি, এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

আমরা বাংলাদেশকে একটি আধুনিক উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করছি, করে ফেলেছি। তবে এখানে দুঃখের বিষয় একটি সতর্কতায় আমি শেষ করতে চাই, সেটা হল যে, একটা শ্রেণি আছে আমাদের দেশে তারা ইতোমধ্যে খুব মাথা উঁচু করেছে দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায়… তারা হুমকি দিচ্ছে বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানিয়ে দেবে। তাদেরকে আমরা কী বলি? তাদেরকে আমরা কী ডাকি? তাদেরকে আমরা রাজাকার ডাকি। একাত্তরে ছিল জামায়াত আর এখন হেফাজতও সেই নতুন রাজাকার হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

জয়ের এ বক্তব্যের বিরোধীতায় নেমেছে এবার হেফাজত। এক্ষেত্রে আবার সামনে এসেছেন জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙ্গার হুমকি দেয়া হেফাজত ও খেলাফত মসলিশের এ নেতা মামুনুল হক। জয়ের বক্তব্যের বিরোধীতা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে ভাস্কর্য সরিয়ে না ফেলার অবকাশ থাকবে না। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব জয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেছেন, ভাস্কর্য বিরোধিতার সঙ্গে রাজাকার হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। ভাস্কর্য বিষয়ের সাথে রাজাকারের কোন সম্পর্ক আছে বলে আমরা মনে করি না। কুরআন, সুন্নাহ আলোকে ভাস্কর্য বা মূর্তি বা যেকোন প্রাণীর দেহ বিশিষ্ট অবয়ব সেটা ইসলাম গ্রহণ করে না। এটা রাজাকারের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না।

হেফাজতের ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক একই সঙ্গে খেলাফত মসলিশেরও নেতা। দলের নিবন্ধন আছে দাবি করে তিনি বলছেন, তারা একটা নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে রাজনীতিতে আছেন। যদি ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে ইসলামী আইন অনুসারে দেশে ভাস্কর্য রাখার অবকাশ থাকবে না। আমি একটা নিবন্ধিত সংগঠন খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের দায়িত্বে আছি, আমরা তো রাজনীতি করছি। এবং আমাদের অনেকগুলো ইসলামী সংগঠন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধিত হয় রাজনীতি করছে। আমাদের সকলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ঘোষণা হল আমরা দেশে রাষ্টীয় পর্যায়ে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে চাই। আমাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হলে, ইসলামি হুকুমত বাস্তবায়িত হলে ভাস্কর্য সরিয়ে না ফেলার কোন অবকাশ থাকবে না।

এদিকে ‘হেফাজত’ নামের আড়ালে কর্মকান্ড চালানোর তীব্র বিরোধী করেছেন দেশের হক্কানী আলেম সমাজ। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছেন, হেফাজত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে। ইসলামের হেফাজতকারী হয়ে তারা এরকম করছে। এখন আমরা ইসলামকে হেফাজতের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন হাক্কানী আলেম ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাকিম চৌধুরী, মাওলানা ইলিয়াস ইব্রাহিম বিক্রমপুরী, মুফতি সোলায়মান বিন কাশেম, মাওলানা ইলিয়াস ইব্রাহিম ও ক্বারি হাফিজুল হক প্রমুখ। হক্কানী আলেম ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, ভাস্কর্যের কয়েকটি দিক আছে। ভাস্কর্যের সাংস্কৃতিক, ধার্মিক এবং রাজনৈতিক দিক আছে। ধর্মীয় দিক থেকে বলতে গেলে, আমরা আমাদের ছোট বাচ্চাদের পুতুল কিনে দিই।

সেটা কিন্তু ভাস্কর্যের অংশ বিশেষ। আমাদের প্রিয়জনদের ছবি আমরা ঘরে টানিয়ে রাখি, সেটাও ভাস্কর্যের অংশ। হেফাজত ভাস্কর্য নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে, তার মধ্যে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে। ‘ভাস্কর্য জায়েজ- এই কথা আমি বলছি না। কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা তো ইসলাম সমর্থন করে না। মামুনুল হকের পিতা আল্লামা শায়খুল হাদিসকে নিয়ে আমরা কওমি স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন।

আমরা তাকে কওমি জননী বললাম। জননীর সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক হবে মধুর। আমাকে কিছু বললেও সংবাদ সম্মেলন করে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারি না। কিন্তু আজকে হেফাজতে ইসলাম ইসলামের হেফাজতকারী হয়ে এরকম করছে। ’

তিনি আরো বলেন, ওনাদের সাবেক আমিরের মৃত্যুর আগে কি অবস্থা হয়েছিল। ওনাকে হেফাজত করেনি বরং লাঞ্ছনা করে কবর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। এখন আমরা ইসলামকে হেফাজতের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। এজন্য আমরা হাক্কানী আলেম সমাজ জাতিকে জানাতে চাই, গুটিকয়েক আলেম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শুধু হুংকার দিচ্ছে, জাতির জনককে নিয়ে অপমান করে কথা বলছে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। বঙ্গবন্ধু মুসলমান ছিলেন, আমরাও মুসলমান। ইসলামের ভাষায় বলতে হলে শালীন ভাবে বলতে হবে। ’

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ইলিয়াস ইব্রাহিম বিক্রমপুরী বলেন, বাংলাদেশেও বহু আগে থেকেই অনেক ভাস্কর্য আছে। জিয়ারও ভাস্কর্য আছে। কিন্তু এই ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার কথা কেউ কখনো বলেনি বা বাধাও দেয়নি। হঠাৎ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে কেউ কেউ সমাজে ফেতনা- ফাসাদ তৈরি করতে চাচ্ছে। যারা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিচ্ছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের বিধর্মী এবং কাফের বলেছিল।

এক সময় মানুষের চাঁদে যাওয়া বিশ্বাস করতে এমনকি টেলিভিশন দেখাকেও কেউ কেউ বাধা দিয়েছিল। ভাস্কর্যের মতো একসময় ছবি এবং ইংরেজি শিক্ষাকেও হারাম বলা হয়েছিল। এমনকি পবিত্র হজ্জে যাওয়ার জন্য ছবি তোলা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, যা সবই পরে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইসলামের জায়গা থেকে আমরা বলবো যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উদার অসাম্প্রদায়িক নীতিতে আমরা ধর্মকে পালন করবো। দেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, ধর্ম দিয়ে আমরা জাতিসত্তাকে বাধাগ্রস্থ করবো না, ধর্ম দিয়ে আমরা ফেতনা-ফাসাদ তৈরি করবো না।

ধর্মের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রে কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে তৈরি না হয়, কারো কথায় আমরা বিভ্রান্ত না হই, সেই দিকটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT