ঢাকা, বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

কুষ্টিয়ায় গুলি করে শিশুসহ ৩ জনকে হত্যা ! পুলিশ সদস্য আটক

প্রকাশিত : 05:16 PM, 13 June 2021 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে একজন পুরুষ, মহিলা ও শিশু সন্তানকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে শহরের কাস্টম মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাওতাকারিগর পাড়ার মিজবারের ছেলে শাকিল (২৮), আসমা (২৫) ও ছেলে রবিন (৫)। নিহত শাকিল একজন বিকাশ কর্মী ছিলেন। এদিকে এলাকাবাসী ঘাতককে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গেছে। আসমার পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, আসমার ৩টি বিয়ে হয়েছে। তার প্রথম স্বামীর ঘরে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আসমার দ্বিতীয় স্বামী রুবেলের ঘরের সন্তান নিহত শিশুর রবিন। রুবেলের সাথে ছাড়াছাড়ির পরে ৪ বছর আগে এএসআই সৌমেন সরকারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার পর বিয়ে হয়। পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, আটক পুলিশ কর্মকর্তা সম্প্রতি হালসা ক্যাম্প থেকে খুলনার ফুলতলাতে বদলি হন। তিনি আরোও বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর তিনটি গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে বাইরে আসি। এসে দেখি শিশুসহ তিনজন মাটিতে পড়ে আছে। এর মধ্যে মা ও সাত বছরের ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্থানীয়রা আরোও জানান, কাস্টম মোড়ে মসজিদের সন্নিকটে একটি গাছের নীচে দাঁড়িয়ে এই তিন জনকে আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা দুইদিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ছয় বছরের ছোট বাচ্চাকে নিয়ে পুরুষ লোকটি দৌড়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বাচ্চাটিকে বের করে এনে প্রকাশ্যে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। এরপর কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা শাকিলকে গুলি করে। নিজের সার্ভিস রিভলবার দিয়েই হত্যা কান্ড ঘটান এএসআই সৌমেন এবং করেন ১১টি গুলি । শিশুটির মা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তখন তাকেও গুলি করা হয় । সেই সময় অন্তত চারজন হামলাকারী ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর তিনটি গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে বাইরে আসি। এসে দেখি শিশুসহ তিনজন মাটিতে পড়ে আছে। এর মধ্যে মা ও সাত বছরের ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটির বাবাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান । শাকিলের সহকর্মী জাফর বলেন, শাকিলের বাড়ি ও আমার বাড়ি কুমারখালীর শাওতা গ্রামে। সকালে অফিস থেকে বের হয়ে আমরা মার্কেটে যাই। তারপর জানতে পারি শাকিল খুন হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে সোমেন কুষ্টিয়ার হালশা ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামের আসমার সাথে পরিচয় হয়। এরপর আসমার সাথে তার বিয়ে হয় বলে দাবী পুলিশের। পরে সোমেন (বর্তমান পোষ্টিং) খুলনার ফুলতলায় বদলি হলে আসমা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আসমা তার বর্তমান বয়ফ্রেন্ড বিকাশ কর্মী সাকিলের সাথে সর্ম্পকে যুক্ত হলে ক্ষেপে যান সোমেন। এই বিরোধে সোমেন ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ সোমেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছে। পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। স্থানীয় জনতাও সেখানে ভীড় করছে। তারা প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার বলেন, আসমাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতদের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT