ঢাকা, বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড, আক্রান্ত ১৫৭৬ জন

প্রকাশিত : 10:27 PM, 26 June 2021 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হয়েছে।শনিবার সকাল ৯টায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন একাত্তর ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলেন, পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পর থেকেই ২০ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জেনারেল হাসপাতালকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ওই চিঠির কোনো জবাব আসেনি। তিনদিন ধরে হাসপাতালে রোগী ভর্তির যে চাপ, তাতে গতকাল সকাল থেকে হাসপাতালটিকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করতে হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন একাত্তর ট্রিবিউনকে আরও বলেন, ‘এখন থেকে হাসপাতালে শুধু করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি নেওয়া হবে। প্রসূতি ও নবজাতকদের জন্য স্ক্যানু ও গুরুতর রোগীদের জন্য সিসিইউ ওয়ার্ড চালু থাকবে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে জরুরি সেবা খোলা থাকবে। তবে এ সময় বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার একাত্তর ট্রিবিউনকে বলেন, আজ সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তির চাপ আনেক বেশী।অতীতে এমনটা কখনোই হয়নি। করোনা রোগী ভর্তির জন্য দোতলার সব কয়টি ওয়ার্ডে ২০০ শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। নিচের কয়েকটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। করোনা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা দেওয়া এ মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম পোহাচ্ছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৭জনের শরীরে করোনা পজিটিভি শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। কুষ্টিয় সদরে ৪৭ জন।কুমারখালীতে ২০জন।দৌলতপুরে ০২ জন।মিরপুরে ০৪ জন।ভেড়ামারাতে ০১ জন।খোকসাতে ০৩ জন। একই সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সদরে মারা যান ৪ জন, দৌলতপুরে ২ জন এবং ভেড়ামারাতে একজনের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে জেলায় মোট আক্রান্ত পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৫৭৬ জন। হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ১৬৪ জন।হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪৪২ জন। কোভিড পরিক্ষা হয়েছে এমন মানুষের পরিক্ষার রিপোর্ট আপেক্ষামান রয়েছে ১২২৯ জনের।

এ নিয়ে জেলায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা অদ্যাবদি ৬ হাজার ৯৯০ জন।

অদ্যাবদি এ পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ১৮০ জন।

জেলায় সাত দিনের লকডাউনের চলছে। মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন মানুষকে ঘরে রাখতে কাজ করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে ঠুনকো অজুহাতে মানুষ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে। জেলার করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার পরও কেউ সেটা মানতে চাচ্ছে না। আইন না মানায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ২৫ জন থেকে ৬৪ হাজার ৪ শত টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

উল্লেখ্য ১ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় ৬ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরিক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১২ জনের।এ সময় মারা গেছেন ৬৭ জন।এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরেন কুষ্টিয়ার কয়েক জন চিকিৎসক।

এ দিকে গত ১১ জুন কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধি নিষেধ জারি করেন জেলা প্রশাসন। পরে ধীরে ধীরে কুষ্টিয়ার করোনার পরিস্তিতি ভয়াবহ থেকে ভয়ংকর রুপ ধারন করে। ছড়িয়ে পরে শহর থেকে গ্রামে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT