ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১, ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

কুমারখালীতে কৃষিজমিসহ পানিবন্ধী শতাধিক পরিবার

প্রকাশিত : 01:46 AM, 18 September 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৮ নং যদুবয়রা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী যদুবয়বরা পশুহাট ও পার্শ্ববর্তী প্রায় ৪০/৪৫ বিঘা ধানীজমি এবং ৩নং ওয়ার্ড জোতমোড়া ও ৫ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ যদুবয়রা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানিতে পানিবন্ধী হয়ে পরেছে। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, যদুবয়রা পশুহাট সংলগ্ন লালন বাজার থেকে পান্টি পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কের পাশ দিয়ে ছিল পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি খাল। ওই খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পাশের বিলে প্রবাহিত হত। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ খাল সংস্কার না করা এবং খাল দখল করে স্থানীয়দের অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণ করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে জোতমোড়া গ্রামের দিনমজুর মনছের শেখের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, ঘরের মধ্যে বৃষ্টিতে জমা হাটু পানি।রান্নার চুলা জ্বলেনা। বাড়ির বাইরে যাওয়া আসা করা যায়না।সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঘুম হয়না।পানির মধ্যে খুব কষ্টে জীবন কাটাচ্ছি। একই গ্রামের নুরুল আলম বলেন, আমি একজন অটো ভ্যান চালক।বাড়িতে হাটু পানি হওয়ায় ভ্যান আনা নেওয়া করা যায়না।বছরের ৩ থেকে ৪ মাস এমন কষ্ট। দক্ষিণ যদুবয়রা গ্রামের আক্তার বলেন, পানি বের হওয়ার রাস্তায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় আমাদের এমন ভোগান্তি।ঘরে বাইরে সব জায়গায় পানি।ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও গরু বাছুর নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কুমারখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেনিতে পড়ুয়া ছাত্রী রিতা খাতুন বলেন, প্রতিবছরই এমন সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি।
এবিষয়ে ঐহিত্যবাহী যদুবয়রা পশুহাটের ইজারাদার শাজাহান হোসেন বাবু বলেন,ত্রিশ লক্ষ টাকা দিয়ে হাট ডেকেছি।সেই হাটে বৃষ্টি হলেই তিন চার ফুট পানি জমে।প্রতি বছরেই তিন থেকে চার মাস এমন বৃষ্টির পানি জমে থাকে হাটে।সেই সময় হাট চালাতে অন্য জমি ভাতা নেওয়া হয়।এতে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ গুণতে হয়।
কৃষক শাজাহান আলী খান বলেন,আমার দুই বিঘাসহ এখানে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা ধানি জমি রয়েছে।আমন বোরো সব ধানই এখানে চাষ করা হয়।কিন্তু বৃষ্টির পানি বের হবার রাস্তা না থাকায় মাজা সমান পানি জমে প্রতিবছরই ফসলের ক্ষতি হয়। এবিষয়ে যদুবয়রা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল আলম বলেন,বিষয়টি নজরে এসেছে।প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্য পরিকল্পনা চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, যদুবয়বা পশুহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT