ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

কাশিমপুর কারাগার থেকে লাপাত্তা বন্দীর সন্ধান মেলেনি

প্রকাশিত : 09:30 PM, 27 August 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এক কয়েদির দীর্ঘ ২০ দিনেও খোঁজ পাওয়া যায়নি। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির নাম আবু বক্কর সিদ্দিক। হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে এই ঘটনায়। গাজীপুরের কোনাবাড়ির থানায় মামলা করেছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির মতে, কারাগারের সুউচ্চ দেয়াল টপকিয়ে কয়েদির পলায়নের ঘটনা রহস্যজনক। কারাগারের অভ্যন্তর থেকে যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত কয়েদির পলায়নের পর দীর্ঘ ১৯ দিনেও হদিস না হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত কয়েদির কারাভ্যন্তর থেকে পলায়নের ঘটনায় কারাগারের নিরাপত্তাসহ নানা ধরনের প্রশ্ন সামনে আসছে বলে তদন্ত কমিটির দাবি। তদন্ত কমিটি সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

তদন্ত কমিটির একজন কর্মকর্তা জানান, কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক ছিল মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি। তখন সে ছিল রাজশাহী কারাগারে। মৃত্যুদ- রদ করে যাবজ্জীবন করাদ- দেয়া হয় তাকে। রাজশাহী কারাগার থেকে আনা হয় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। তারপর গত ৬ আগস্ট কারাগারের অভ্যন্তর থেকে নিখোঁজ হয় সে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদ চন্ডিপুর এলাকার তেছের আলী গাইনের ছেলে সে। তার কয়েদি নং-৭৯৩৪/এ। গত ৬ আগস্ট কারাগার-২ থেকে সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিক। গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় লকআপের সময় বন্দীদের গণনাকালে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিককে পাওয়া যায়নি। কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সেল ও ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয় তাকে। এমনকি কারাগারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যবেক্ষণ করা হলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিকের আগেও কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি ২০১৫ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায় কারাগারের সেল এলাকার একটি সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতরে লুকিয়ে নিজেকে আত্মগোপন করেছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি শেষে পরদিন কারাগারের ৪০ নং সেল এলাকার একটি সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার আবাদ চন্ডিপুর এলাকার তেছের আলী গাইনের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৪) ২০১১ সালের ১৪ জুন হতে এ কারাগারে বন্দী ছিল। তাকে ২০০২ সালের ১৭ মার্চ গ্রেফতার করা হয়। শ্যামনগর থানার একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দ-াদেশপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কাশিমপুরের কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। ২০০২ সালের ১৭ মার্চ-এর একটি হত্যা মামলায় আদালত আবু বক্করকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকরের আদেশ দেয় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট। পরবর্তীতে আসামির আপীলের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০১২ সালের ২৭ জুলাই ওই সাজা সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সশ্রম কারাদ- প্রদান করে। গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় কারাগারের তালাবদ্ধের সময় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় গত ৭ আগস্ট কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মুহাম্মদ বাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে কোনাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিকের খোঁজে তার গ্রামের বাড়িতে যায় কারা কর্মকর্তারা। কিন্তু তার হদিস পাওয়া যায়নি।

কারাগারের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ৬ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে সে কারাগার থেকে সুকৌশলে পালিয়ে গেছে। কয়েদি আবু বক্কর ছিদ্দিক ওই কারাগারে ব্রহ্মপুত্র বিল্ডিংয়ের ২নং কক্ষে থাকত। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দায়িত্ব অবহেলায় ৭ কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ৫ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। গত ৮ আগস্ট সকালে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কারাগারে এসে তদন্ত কাজ শুরু করেন। পরে তদন্ত কমিটিতে আরও দুই সদস্য বাড়িয়ে ৫ সদস্যের এ কমিটি করা হয়।

তদন্ত কমিটির একজন কর্মকর্তা বলেন, কারাগার থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির পলায়নের ঘটনাটি অস্বাভাবিক, বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বক্কর সিদ্দিক পালিয়ে গেছে। রাষ্ট্রের অন্যতম সুরক্ষিত কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দী পলায়নের ঘটনা এক অশনি সঙ্কেতের মতো। ধারণা দেয়া হচ্ছে, ওই কয়েদি কারাগারের ১৮ ফুট উঁচু দেয়াল টপকে পালিয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন থেকেই যায়। ২০১১ সালে ফাঁসির দ-াদেশ নিয়ে কারাগারে আসা এবং পরে সংশোধিত সাজায় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ওই কয়েদি এর আগেও কারাগার থেকে পলায়নের চেষ্টা করে থাকে তাহলে কেন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হলো না? যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত কয়েদির পলায়নের ঘটনা এবং দীর্ঘ ১৯ দিনেও ধরা না পড়ার বিষয়টি রীতিমতো নিরাপত্তাসহ নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT