ঢাকা, শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

কর্ণফুলীর দুই তীরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হচ্ছে না

প্রকাশিত : 02:26 PM, 7 November 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

উজান থেকে নেমে আসা পলিমাটির আগ্রাসন রোধে ড্রেজিং নেই। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও নদীর দু’পাড়জুড়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ নেই। বিভিন্ন পয়েন্টে জেগে উঠেছে বিক্ষিপ্ত চর। অব্যাহত রয়েছে মনুষ্যসৃষ্ট ভয়ানক দূষণ। দখল ও ক্রমাগত ভরাটের জের হিসেবে স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে যাচ্ছে কর্ণফুলী নদীর। কেবলই সরু হয়ে যাচ্ছে এ নদী। ভাটার সময় ব্যাহত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রুটের নৌযান চলাচল। এক কথায় ত্রাহি অবস্থা এ নদীর। ফলে বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে প্রশ্ন উঠেছে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানো যাবে কিনা।

অবস্থাদৃষ্টে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতীয়মান মরণদশায় রয়েছে এ নদী। ভরাট এগোচ্ছে কর্ণফুলী মোহনা অভিমুখে। আর এ নদীর উভয় তীরে অবৈধ দখলবাজির ঘটনা সেই বহু আগে থেকেই। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ এ নদী রক্ষায় চিহ্নিত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যে রায় দিয়েছেন তারও বাস্তবায়ন নেই। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রথম নির্দেশনার পর দ্বিতীয় দফায় এ কাজ বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বন্দরকেও সংযুক্ত করা হয়। এ দুই সংস্থার মধ্যে আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়নে সমন্বয়ের দেখা মেলেনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সূত্রে বলা হচ্ছে, এ কাজ চট্টগ্রাম বন্দরের। কর্ণফুলী রক্ষায় মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বন্দর। আর বন্দর সূত্রে বলা হচ্ছে, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো বাঞ্ছনীয়। ড্রেজিং বন্ধ থাকার ঘটনায় বন্দর সূত্রে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে শক্তিশালী ড্রেজার ভাড়ায় আনা হয়েছিল। কিন্তু নদীর তলদেশে পলিথিন বর্জ্যরে স্তর জমেছে প্রায় ৭ মিটার। ফলে উচ্চ ক্ষমতার ড্রেজিং এনেও এসব বর্জ্য তোলা যায়নি। ফেরত দেয়া হয়েছে ভাড়ায় আনীত ড্রেজার। এ অবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চালাচ্ছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দর। কর্ণফুলীর মোহনায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ বন্দর দিয়ে দেশের ৯০ ভাগেরও বেশি আমদানি ও রফতানি কাজ সম্পন্ন হয় থাকে। ফলে কর্ণফুলী নদী এ বন্দরের প্রাণশক্তি হিসাবে চিহ্নিত। অথচ, এ প্রাণশক্তিকে অব্যাহতভাবে গ্রাস করে যাচ্ছে ভরাট, দখল ও দূষণ। ক্রমেই সঙ্কুচিত হচ্ছে এ নদীর প্রস্থ। ইতোপূর্বেকার প্রস্থ বিভিন্ন পয়েন্টে এখন অর্ধেকেরও কমে হ্রাস পেয়েছে। উজান থেকে নিয়মিত পলিমাটি আসার কারণে কর্ণফুলী ব্রিজ থেকে বন্দরের সদরঘাট ১নং জেটি এলাকা পেরিয়ে ক্রমাগতভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে চরও জেগেছে। আর নদীর উভয় পাড়ে বহু আগে থেকেই অবৈধভাবে নির্মিত হয়ে আছে বিভিন্ন স্থাপনা। আদালতের নির্দেশে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত হয়েছে ২ হাজার ১৮১। এসব স্থাপনা মালিকদের পক্ষে উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে একটি রিট মামলা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে সেটি খারিজ করে দেয়া হয়। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে চার সংস্থার সমন্বয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় বটে, কিন্তু তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র চারদিন। উচ্ছেদ হয় ২৩০টি স্থাপনা। নদী তীরবর্তী ভূমি উদ্ধার হয় ১০ একর। এরপরে থমকে যাওয়া অভিযান আর শুরু হয়নি। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। উদ্ধার অভিযান শুরু করার জন্য জেলা প্রশাসনের তীর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দিকে। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ এ নদীকে ঘিরে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যা শুরু করার অপেক্ষায় আছে বলে কর্তৃপক্ষীয় সূত্র দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় সীমানা নির্ধারণ ও তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালের জুলাই মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। আবেদনের পর অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার জন্য নির্দেশনা আসে। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৯ নবেম্বর সীমা চিহ্নিতকরণ কাজ শেষ হয় এবং বেরিয়ে আসে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনাসমূহের তালিকা। আদালতের নির্দেশের পরও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে সময়ক্ষেপণ হতে থাকে। এ অবস্থায় ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনাও ৯০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে উচ্ছেদ চালানোর নির্দেশ দেয়। ওই রায়ে নদীর উভয় তীরে ২১১৮ অবৈধ স্থাপনার তালিকা থাকে। কিন্তু এ রায়ের পরও দীর্ঘ তিন বছর সময় অতিবাহিত হয়। এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও তা মাত্র চারদিন পর বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, নদীরক্ষা কমিশনের যে প্রতিবেদন রয়েছে তা জেলা প্রশাসনের জরিপ এবং সর্বশেষ বিএস রেকর্ড অনুযায়ী। এতে দেখা যায় নদীর উভয় তীরে ২ হাজারেরও বেশি স্থাপনা রয়েছে। এরমধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে ২ হাজার ১০৮, বেসরকারী সংস্থার ১, সরকারী সংস্থা ৩ এবং আরএস রেকর্ড অনুযায়ী ৭৫টি স্থাপনা রয়েছে। যারমধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে ৬২, বেসরকারী ৯ ও সরকারী সংস্থা ৪টি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT