ঢাকা, শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনায় স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে যে কোনো স্কুলে

প্রকাশিত : 08:44 AM, 20 November 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনায় স্থানান্তরিত ছাত্রছাত্রীরা দেশের যে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তাদের বদলি সনদ (টিসি) লাগবে না। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের বাসস্থানের পার্শ্ববর্তী যে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ ও জমা দিতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের উপার্জনে নেতিবাক প্রভাব পড়ায় অনেকে শহর ও মফস্বল এলাকা থেকে গ্রামে ফিরে গেছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী দাদা-নানার বাড়ি চলে গেছে। এ ধরনের ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন ও লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে দুই মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা যে কোনো সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ডিপিই থেকে নির্দেশনা সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে ভর্তির ক্ষেত্রে যে যেই ক্লাসে পড়ত তার সেই ব্যাপারে প্রমাণ নিয়ে নতুন স্থানে ভর্তি হতে হবে। কেননা, কোনো শিশু একটা বিদ্যালয়ে আগের বছর ভর্তি হয়ে থাকলে বিভিন্ন ধরনের প্রমাণপত্র থাকে। সেটা দেখাতে পারলে স্কুলগুলো ভর্তি নেবে। অন্যদিকে একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও। অনেকেই গ্রামাঞ্চলে চলে যাওয়ায় তাদের ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ (বাড়ির কাজ) ভিত্তিক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুগান্তরে আসা বেশ কয়েকজন অভিভাবকের টেলিফোন থেকে জানা গেছে, কেউ ঢাকা বা শহরাঞ্চলে নিজ বিদ্যালয় থেকে বিভিন্নভাবে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করে গ্রামে সন্তানের কাছে পাঠাচ্ছেন। সেখান থেকে আবার সেগুলো শেষ করে স্কুলে পাঠাচ্ছেন। কোনো কোনো স্কুল পাওনাদি পরিশোধ না করায় অ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছে না। আবার কোনো স্কুল অ্যাসাইনমেন্টের বিনিময় অর্থ নিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। আবার একটা শ্রেণি আছে, যার পরিবার শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত সোমবার আলাপকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের শিক্ষার্থীরা নিজের বাসস্থানের পার্শ্ববর্তী স্কুলে যোগাযোগ করবে। সেখান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট নেবে এবং মূল্যায়নের জন্য জমা দেবে। এ ব্যাপারে খোদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সহায়তা না করে তাহলে সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বর্তমানে সংসদ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম সম্প্রচার হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের এর থেকে বাড়ির কাজ নেয়ার নির্দেশনা আছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে গ্রুপ করে শিক্ষকদেরকেও বাড়ির কাজ দেয়ার নির্দেশনা আছে। তারা কেউ মোবাইল ফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন আবার কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ডিপিই মহাপরিচালক। আর মাধ্যমিক স্তরের জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বাড়ির কাজ হিসেবে মোট ১৮টি অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করবে।

করোনার কারণে ইতোমধ্যে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ‘অটোপাস’ না বললেও প্রকারান্তরে শিক্ষার্থীরা সেটাই পাচ্ছে। তবে লেখাপড়ায় নিয়োজিত রাখতে সরকার উল্লিখিত পদক্ষেপ নিয়েছে। করোনার কারণে এবারের পিইসি, জেএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT