ঢাকা, শনিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত

প্রকাশিত : 09:23 PM, 12 November 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

চলমান করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরেক দফা বাড়িয়ে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সাক্ষরিত এক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগের ঘোষণা অনুসারে আগামীকাল ১৪ নবেম্বর ছুটি শেষ হওয়ার কথা ছিলো।

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারির কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসময়ে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলোও বন্ধ থাকবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমন থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে নিজেদের এবং অন্যদের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। তবে, কওমি মাদ্রাাসায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।

মন্ত্রনালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা ও অনুশাসনগুলো শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকরা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের বলা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। শিক্ষার্থীরা যাতে বাসস্থানে অবস্থান করে নিজ নিজ পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে সে বিষয়টি অভিভাবকদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, চলমান করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটিও আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় গত ১৭ মার্চ সব ধরনের শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সব অফিস-আদালত আর যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির পর ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধই থাকে। গত ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মহামারির কারণে নেয়া সম্ভব হয়নি। এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাও হচ্ছে না।

এর আগে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। আসলে করোনার মহামারীর মধ্যে কবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাভাবিকভাবে খুলে দেয়া যাবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেনা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কম দামে ইন্টারনেট পাবেন:

করোনা মহামারির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও গ্রামীণ ফোন লিমিটেডের (জিপি) মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সমঝোতার আওতায় গ্রামীণ ফোন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে ইন্টারনেট ডাটা প্যাক সাশ্রয়ী মূল্যে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক তথা ফ্যাকাল্টিদের সরবরাহ করবে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত কম দামে মোবাইলে ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন।

বৃহস্পতিবার ইউজিসিতে আয়োজিত এক সভায় কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান ও গ্রামীন ফোনের সিবিও কাজী মাহবুব স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ উদ্যোগে এগিয়ে আসায় গ্রামীণ ফোনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, সংকটকালীন উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে গ্রামীণ ফোনের এ অংশগ্রহণ সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণ হবে। এটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষায় আরও বেশি মনোযোগী হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইউজিসি এবং গ্রামীণ ফোনের মধ্যকার বন্ধন এখানেই শেষ হবে না বরং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে দেশের বৃহৎ এই টেলিকম অপারেটর প্রয়োজনে এগিয়ে আসবে।

ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মো: সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরসহ অনেকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভগের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিনসহ অন্যান্য কর্মবর্তারা যুক্ত ছিলেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে নামমাত্র খরচে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য সবকয়টি মোবাইল অপারেটরদের অনুরোধ জানানো হলে একমাত্র টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT