ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনায় বাড়ে স্মৃতিভ্রংশ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি

প্রকাশিত : 01:13 PM, 8 April 2021 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে শুধু শ্বাসতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পাশাপাশি বিষণ্নতা, স্মৃতিভ্রংশের মতো মানসিক-স্নায়বিক রোগ ও পক্ষাঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। গত ছয় মাসে চিকিৎসা নিয়েছে এমন পাঁচ লাখ কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানাচ্ছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

গবেষকরা এই বিপুলসংখ্যক রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে খুব বেশি দেখা যায় এমন ১৪টি মানসিক ও স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটা তা জানার চেষ্টা করেছেন। এই ১৪ রোগের মধ্যে আছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, পারকিনসনস, গিলিয়ান-ব্যারি সিনড্রোম (এক ধরনের ফ্লুজনিত উপসর্গ), স্মৃতিভ্রংশ, মনোব্যাধি, ভাবের অসংগতি, উদ্বেগ অসংগতি ইত্যাদি।

গবেষকরা বলছেন, আগে করোনা সংক্রমিতদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে মানসিক বা স্নায়বিক সমস্যা নতুন করে বা পুনরায় দেখা দিয়েছে। তবে হাসপাতালে বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে যারা ভর্তি ছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা বেশি। মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং করোনাভাইরাস সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা ভোগে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার মতো বিভিন্ন মানসিক সমস্যায়। আর সুস্থ হওয়ার পর অন্তত ১৬ শতাংশ রোগী মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যায় ভোগে। ৪৪ শতাংশের ক্ষেত্রে এ সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হয়। গুরুতর অসুস্থদের বেলায় এটি বেশি দেখা যায়।

অক্সফোর্ডের গবেষকরা বলছেন, হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীদের ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে এই মানসিক সমস্যাগুলোর লক্ষণ দেখা যায়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকা করোনা রোগীদের বেলায় এই হার ২৮ শতাংশ। আর করোনায় যারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে যেসব রোগী ঘন ঘন জ্ঞান হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়, তাদের ৩৬ শতাংশ এই মানসিক রোগগুলোতে আক্রান্ত হয়।

ব্রিটিশ গবেষকদলের অন্যতম প্রতিনিধি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়বিক রোগ বিশেষজ্ঞ মাসুদ হোসাইন বলেন, ‘করোনাভাইরাস দেহের শ্বাসতন্ত্রের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর পাশাপাশি মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করে। এ কারণেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা এই সমস্যাগুলোতে ভোগে।’

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, করোনা থেকে সেরে ওঠার পর দশমিক ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা স্মৃতিশক্তি বিলোপ বা ডিমন্যাশিয়ায় ভোগে। গুরুতর অসুস্থ বা ডিলিরিয়ামে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ৫ শতাংশ।

অবশ্য গবেষণাটি পর্যবেক্ষণধর্মী হওয়ায় কভিড-১৯ আদৌ এসব রোগের কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে কি না অথবা কভিডে ভোগা ব্যক্তিদের কিছু অংশ ভাইরাসটির কারণেই পরের ছয় মাসে স্ট্রোক বা বিষণ্নতার শিকার হয়েছে কি না তা গবেষকদল নিশ্চিত করতে পারেনি। সূত্র : বিবিসি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT