ঢাকা, সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনায় দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে

প্রকাশিত : 11:59 AM, 14 October 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

নোভেল করোনাভাইরাসে যারা একবার আক্রান্ত হয়েছেন তারা কি আবারও আক্রান্ত হতে পারেন? এ নিয়ে আছে নানা আলোচনা। যুক্তি আর বিশ্লেষণ। কোন কোন দেশের গবেষণা বলছে, দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার নজির আছে। আবার কোন কোন দেশে এমন নজির নেই। এ তথ্য নিয়ে যখন সবার ধারণা স্পষ্ট হয়নি তখন সম্প্রতি এক জার্নালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯-এ কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে তিনি দ্বিতীয়বারও আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রথমটির চেয়ে মারাত্মক হতে পারে। অর্থাৎ একবার হলেই নিজেকে নিরাপদ মনে করার আর কোন সুযোগ নেই। প্রতিরোধে অবশ্যই মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কোনভাবেই সংক্রমণ ও ঘাতক এই ব্যধিকে হেলা ফেলার সুযোগ নেই। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৭ জন। মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ১ হাজার ৫৩৭ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজার ২৭৫ জন হলো। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ২২ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৭৭ জনে দাঁড়ালো।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৪৮২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৩ জন হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান প্রদেশে করোনাভাইরাসটি দেখা দেয়। একে একে বিশে^র ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে তা ছড়িয়ে যায়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তা সাড়ে তিন লাখ পেরিয়ে যায় ২১ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। আর বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৮৯ লাখ তিন হাজার পেরিয়ে গেছে; মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১০ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ষষ্ঠদশ স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৯তম অবস্থানে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী আক্রান্ত ও মৃত্যু বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। বাংলাদেশের অবস্থান ১৬তম। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে শীত মৌসুমে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আশঙ্কায় ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে বিস্তারিত পরিকল্পনা দেয়ার কথাও রয়েছে বলে জানা গেছে। এই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে একবার আক্রান্ত ব্যক্তি ফের আক্রান্ত হতে পারেন।

মার্কিন জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তি দু’বার কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। তার প্রথম আক্রান্তের উপসর্গ এবং সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্তের চেয়ে সহজ ছিল। প্রথমবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি অক্সিজেনের অভাব অনুভব করলে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে পড়েন। এবং সুস্থ হওয়ার পর তিনি আবারও করোনায় আক্রান্ত হোন।

মার্কিন জার্নাল ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজের এক গবেষণায় প্রশ্ন তোলা হয়, কোন ব্যক্তি প্রথমবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে, ভাইরাস থেকে কতটা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে? হাসপাতালের ওই ব্যক্তির কেস স্টাডির মতে, ওই ব্যক্তির কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা ইমিউনিটি ঘাটতি ছিল না, যেটা দিয়ে আমরা ধারণা করতে পারি তিনি আবার করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। গত ২৫ মার্চ তার করোনার উপসর্গ দেখা দেয়, তারপর ১৮ এপ্রিল তিনি করোনা পরীক্ষা করান। পজিটিভ আসলে হাসপাতালে ভর্তি থাকেন এবং ২৬ মে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট পান।

এর কিছুদিন পর ২৮ মে আবারও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, ৫ জুন করোনা পজিটিভ হয় এবং অক্সিজেনের প্রেসার কমতে থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হন। বিজ্ঞানীরা এই রোগীর করোনার সময়কে পর্যালোচনা করে বলেন, প্রথম করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরপরই আবারও ভাইরাসটি তাকে ধরেছিল, যে সময়টায় তিনি রোগটিকে প্রতিরোধ করবেন, তার আগেই তিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মার্ক পান্ডোরি বলেন, কেউ যদি একবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন, তার ভবিষ্যতে করোনার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। এমনকি তিনি আগের চেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

তিনি আরও বলেন, পুনরায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে কিভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে হবে সে বিষয়েও আমাদের স্বাস্থ্যবিধি কিন্তু মেনে চলতে হবে। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে সোশ্যাল ডিসটেন্স, মাস্ক এবং হাত ধোয়া নিশ্চিত করতে হবে।

করোনা চিকিৎসায় একবার সেরে উঠলেই শরীরে যে করোনারোধী এ্যান্টিবডি তৈরি হয় না বলে আগেই সতর্ক করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা। বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্ক করেছিলেন, কোন ব্যক্তি একবার করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি দ্বিতীয়বার আর আক্রান্ত হবেন না, তা একেবারেই সঠিক নয়।

তবে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ কতটা বিপজ্জনক? চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণের প্রমাণ আগেও মিলেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT