ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দিতে প্রচুর অর্থ লাগবে

প্রকাশিত : 11:00 AM, 12 October 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দিতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারী ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস যদি আবার ব্যাপক হারে দেখা দেয়, তখন আমাদের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। মানুষকে আবার আমাদের সহযোগিতা করতে হবে, চিকিৎসা করতে হবে, ওষুধ কিনতে হবে। হয়তো আরও ডাক্তার, নার্স আমাদের লাগবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। ঠিক যেটুকু আমাদের নেহায়েত প্রয়োজন, তার বেশি কোন পয়সা এখন খরচ করা চলবে না। ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখেই সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ১০টি ইউনিট এবং একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি সময়োপযোগী, আধুনিক, প্রযুক্তিগতভাবে সুসজ্জিত এবং জ্ঞাননির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা একুশ শতকের ভূরাজনৈতিক এবং সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী সেনাবাহিনী গঠনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে সাভার ক্যান্টনমেন্টে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এবং ২৪ বছর সংগ্রাম করে এই আওয়ামী লীগই জাতির পিতার নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আমরা আমাদের একটা কর্তব্য মনে করি দেশকে উন্নত করা। আমাদের সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীকে ‘স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের সার্বিক উন্নয়ন করাও আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ৯ পদাতিক ডিভিশনের ৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও এডহক ১১ বীর মেকানাইজড ব্যাটালিয়ন, ১০ পদাতিক ডিভিশনের ৬ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও ১৩ বীর, ১১ পদাতিক ডিভিশনের ৫৯ ইস্ট বেঙ্গল সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ১ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও ১২ বীর, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ১৫ বীর সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এ্যান্ড ট্যাকটিকস্ (এসআইএন্ডটি)- সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের কাছে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শেষে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেক মুজিব একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। যে আলোকে আমরা সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই পতাকা। এই পতাকা হচ্ছে একটি জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান এবং মর্যাদার প্রতীক। এই পতাকার মান রক্ষা করা প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। প্রতিটি সৈনিক এবং জনসাধারণ সকলেরই উচিত এই পতাকার মান রক্ষা করা। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যে কোন ইউনিটের জন্য সম্মান ও গৌরবের বিষয়।

তিনি বলেন, আজকে আপনারা সেই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা অর্জন করেছেন। আমার পক্ষ থেকে এই পতাকা সেনাবাহিনী প্রধান আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমি পারলাম না, এটা আমার দুর্ভাগ্য। তবে, এই করোনাভাইরাসের মধ্যে যেখানে যাতায়াত সীমিত হয়ে গেছে সেখানেও আমি চেয়েছি আপনারা সময়মতো যেন এই পতাকা প্রাপ্তির সম্মানটা অর্জন করতে পারেন। তাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

জাতীয় পতাকা প্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা এই গৌরব অর্জন করেছেন এবং আমি আশা করি জাতির আস্থা ও বিশ্বাস অটুট থাকবে। দেশ সেবায় আপনারা আত্মনিয়োগ করবেন। কারণ দেশমাতৃকার সেবা করতে পারাটাই সবথেকে বেশি গৌরবের। কাজেই সেদিকেই আপনারা বিশেষভাবে মনোনিবেশ করবেন। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী এখন শুধু দেশেই নয় বরং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাতেও অবদান রেখে যাচ্ছে। আমি সবসময় চেয়েছি আমাদের সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনী যেন আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন এবং আধুনিক শিক্ষায় সুপ্রশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারী আবার ব্যাপক আকারে দেখা দিলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারী অর্থ খরচ করার বিষয়ে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। ঠিক যেটুকু আমাদের নেহায়েত প্রয়োজন তার বেশি খরচ করা চলবে না। কোভিড-১৯ এর এই সঙ্কটময় সময়েও মানুষের কল্যাণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এবার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। যেটা দেয়া খুব কঠিন ছিল। তবু আমরা দিয়েছি, তারপরও বলেছি যে অর্থ খরচের ব্যাপারে সবাইকে একটু সচেতন থাকতে হবে। কারণ করোনাভাইরাস যদি আবার ব্যাপকহারে দেখা দেয় তাহলে আমাদের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফার করোনা মহামারী দেখা দেয়ার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, এখনও করোনাভাইরাসের প্রভাব আছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরেকবার হয়তো এই করোনাভাইরাসের প্রভাব বা প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। কারণ ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আবার নতুন করে দেখা দিচ্ছে। আমাদের এখন থেকেই সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। সেই দিক বিবেচনায় আমরা আহ্বান জানাব, আপনারা এ ব্যাপারে যার যার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।

খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কৃষিতে নির্দেশনা ছিল প্রচুর পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। যাতে কোন মতে খাদ্য সঙ্কট দেখা না দেয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী একটা খাদ্য মন্দা দেখা দিচ্ছে। অনেক উন্নত দেশও হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশে আমরা সঠিক সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলাম বলেই আজকে সেই সমস্যাটা আমাদের দেখা দিচ্ছে না।

করোনা মহামারীর শুরু থেকে মানুষের জীবন এবং দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে দুই হাজার ডাক্তার নিয়োগ, ৬ হাজার নার্স নিয়োগ, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ২১টি প্যাকেজে প্রণোদনা, ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তাসহ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এতে ১০ মিলিয়নের বেশি পরিবার উপকৃত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ ৫ মিলিয়ন মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি।

করোনা মোকাবেলায় আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই করোনাভাইরাসেও আমাদের সেনাবাহিনী দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা, তাদের রিলিফ বিতরণ করা, তাদের নানা ধরনের সহযোগিতা করা, করোনা সম্পর্কে তাদের সচেতনতা সব ব্যাপারেই বিশেষ ভূমিকা আপনারা পালন করে যাচ্ছেন। সেজন্য আমি সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী তাদেরও ধন্যবাদ জানাই। প্রত্যেকে বিশেষভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একুশ শতকের ভূ-রাজনৈতিক এবং সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গত সাড়ে ১১ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন করায় সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক বাহিনীর একটি উন্নত ও আধুনিক বাহিনীর মর্যাদা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

পেশাগতভাবে দক্ষতার পাশাপাশি সৎ জীবন যাপনের তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সম্পদ এবং মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। আর কোন সেনাবাহিনী যদি মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করতে না পারে, তাহলে কখনও তারা কোন বিজয় অর্জন করতে পারে না। তাই আপনাদের সবাইকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে। দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এরা তো আপনাদেরই আপনজন, আপনাদেরই পরিবারের সদস্য। কাজেই তাদের কলাণের কথা চিন্তা করে আপনাদের কাজ করতে হবে। আমাদের সেনাবাহিনী সব সময় মানুষের পাশে আছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব সময় নিবেদিত প্রাণ। সেজন্য জাতিসংঘ যখনই আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য চেয়েছে, পুলিশ বাহিনী চেয়েছে আমরা সেটা দিয়ে যাচ্ছি- শুধু আমরা যেহেতু বিশ্ব শান্তিতে বিশ্বাস করি। সংবিধানকে সমুন্নত রেখে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

গৃহহীনদের জন্য মুজিববর্ষে সরকারের কর্মসূচীর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি। এদেশে কেউ গরিব-গৃহহীন থাকবে না। সকলের উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT