ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

‘ঐ বিচারের সাক্ষ্য প্রমাণ ছিল মিথ্যা’

প্রকাশিত : 09:13 AM, 26 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশে নিহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে বলছে, এ সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছে গেছে। সেখানে মাঠে পড়ে নষ্ট হচ্ছে ফসল। সেগুলো তুলে নেয়ারও কেউ নেই। একদা স্বাধীনতার দাবিতে জেগে ওঠা একটি জনগোষ্ঠীকে রোগ এবং অপুষ্টি ধ্বংস করে দিচ্ছে। একটি ধ্বংসোন্মুখ দেশকে রক্ষার জন্য কোন সরকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব সৃষ্টির ঝুঁকি না নিলেও একদল তরুণ কিন্তু এসব লোককে সাহায্য করতে গ্রেফতার, কারাদণ্ড এমনকি জীবনের ঝুঁকিও নিচ্ছে। কংক্রিটের জীর্ণ অফিসে তৎপর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অপারেশন ওমেগা-ই হচ্ছে সারাবিশ্বের একমাত্র গ্রুপ, যারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জনগণের জন্য সরাসরি ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে বিশ্বের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। সেগুলোর অন্যতম ‘ওমেগা’। মুক্তিযুদ্ধের সময় অসহায়-বিপন্ন মানুষের জন্য এই সংগঠনের কর্মীদের দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা উঠে আসে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে।

দি হ্যাম্পস্টেড এ্যান্ড হাইগেট এক্সপ্রেস (লন্ডন), এক অক্টোবর, ১৯৭১-এ প্রকাশিত সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশের বিপন্নদের জীবন বাঁচাতে ঝুঁকি নেয়া সব স্বেচ্ছাসেবী’। এতে বলা হয়, সংস্থাটির অন্যতম সদস্য ক্যামডেনের সাবেক ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার ২৩ বছর বয়সী বেন ক্রো ১১দিন পশ্চিম পাকিস্তানের একটি কারাগারে কাটানোর পর গত সপ্তাহে লন্ডনে ফিরে এসেছেন। তিনি এবং অন্য তিনজন- মিস জয়েস কেনিওয়েল, মিস ক্রিস প্র্যাট ও একমাত্র আমেরিকান স্বেচ্ছাসেবী মি. ড্যানডিউ বাংলাদেশে ত্রাণ বিতরণকালে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

বেন জানান, কারাগারে থাকার সময় তিনি অবগত হন ২০লাখ লোককে হত্যা করা হয়েছে। কারাগারে এমন অনেক শিশু ও মহিলা রয়েছে বাংলাদেশকে সমর্থন করায় যাদের বাবা ও স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েদিদের মাঝে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রধান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাও রয়েছেন। মার্চ মাস থেকে আটক রয়েছেন এরা। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের প্রতিশ্রুত ক্ষমার কোন নির্দেশ তিনি পাননি।

বেন বলেন, যশোর কারাগারে যাওয়ার পথে তিনি অনেক গ্রাম পার হয়ে গেছেন। সবই খালি, অনেক বাড়িতে তালা, কিছু বাড়ি ভাঙ্গা ও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি রাস্তায় খুব কম লোক দেখেছেন। ধান ক্ষেতের ফসল তোলা হয়নি এবং ক্ষেতেই ধান নষ্ট হচ্ছে। যশোরে অনেক ভবন পুনঃনির্মাণ করা হয়েছিল, তবে সেখানে তিনি লড়াইয়ের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডনের পথে ফেরার সময় বিমানে এইড কনসোর্টিয়াম অব ব্রিটিশ চ্যারিটিজের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে তার সাক্ষাত হয়।

বেন জানান, এই প্রতিনিধি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের মতো একটি দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছেন। সে সময় বহু লাখ লোক অনাহারে প্রাণ হারিয়েছিল। ঐ প্রতিনিধি আরও বলেছেন, ঢাকায় ১৫৩জন জাতিসংঘের কর্মচারী তিনমাস ধরে অবস্থান করছেন। অথচ তারা তেমন কোন ত্রাণ বিতরণ করেননি। যদিও সাইক্লোনের দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার পর উদ্বৃত্ত বিপুল ত্রাণ সামগ্রী চট্টগ্রামে মজুদ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় বেসামরিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবে। কিন্তু সেখানকার বেসামরিক কর্তৃপক্ষ এখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। তাদের হাতে এগুলো ‘মারাত্মক রাজনৈতিক অস্ত্রে’ পরিণত হতে পারে।

মিস প্র্যাট জানান, তিনি ভারতের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্তের প্রমত্তা নদী পারাপারের অপেক্ষায় হাজার হাজার শরণার্থীকে সমবেত হতে দেখেছেন। এদের অনেকেই ১৫দিন ধরে কিছুই না খেয়ে রাস্তা পার হয়ে এসেছে। তাদের কাছে কোন টাকপয়সাও ছিল না এবং মাঝিদের কেউ কেউ পারাপারের জন্য তাদের কাছে অর্থ চাইছিল। নদী পার হওয়ার জন্য শরণার্থীদের সচরাচর প্রতিদিন অপেক্ষা করতে হয়। তবে একবার ভারতে পৌঁছাতে পারলে যাদের টাকাপয়সা আছে তারা লরি বা রিক্সায় যেতে পারে। কিন্তু অধিকাংশের অর্থ নেই বলে শিবির পর্যন্ত হেঁটেই যেতে হয়। শরণার্থীদের মধ্যে যারা শিবিরে জায়গা পায় না বা শিবিরকে ভয় পায়, তারা রাস্তার পাশেই কুঁড়েঘর নির্মাণ করে নেয়। ডোবা থেকেই তারা পানি পান করে এবং সেখানেই মলমূত্র ত্যাগ করে।

তিনি বলেন, এদের শিশুরা দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের পেট বড় এবং হাত-পা শুকনো। কিছু লোকের বয়স ৭০ হবে বলে আমি ধারণা করেছিলাম। কিন্তু আমি জানতে পারি তাদের বয়স ৪০বা ৫০ এর কোটায়। দুর্ভোগের সকল খবরই সত্য। আমি নিজে তাদের দেখেছি।

তিনি বলেন, কারাগারে থাকার সময় তিনি মহিলা ও শিশুদের অপুষ্টিতে ভুগতে দেখেছেন এবং তাদের জন্য কারাগারের খাবার মোটেও সহায়ক ছিল না। পরে তিনি জানতে পারেন, ভারতে ঢুকতে চেষ্টা করার জন্যই তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

ওমেগা স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কারাগারে ভাল আচরণ করা হয়েছিল। তাদের অবস্থানকালে প্রায় সবটুকু সময়ই তাদের বিছানা-কম্বল দেয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ ছিলেন বলে তাদের সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে কলার তরকারি দেয়া হয়েছিল। বেন বলেন, কারারক্ষীরা স্থানীয় লোক। তারা ছিল বন্ধু পরায়ণ। তবে সেনাবাহিনী কারাগার পরিচালনা করলে অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।

চারজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রেবেশ এবং দেশের শান্তির পক্ষে ক্ষতিকর কাগজপত্র-বিশেষত ওমেগার চুক্তিপত্র রাখার দায়ে অভিযোগ আনা হয়। ঐ চুক্তিপত্রে পাকিস্তানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নিন্দার উল্লেখ ছিল। পরে এই অভিযোগ কেটেছেঁটে কেবল কাগজপত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়। বেনের ধারণা, অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগটি বাদ দেয়ার কারণ, কর্তৃপক্ষ তাদের বিচার বেসামরিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে চাইছিল। আর অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিচার সামরিক আইনে করা হতো।

স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের বিচারের তারিখ না জানানো পর্যন্ত পাঁচদিন ধরে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি তাদেরকে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পুনরায় এ কাজ না করার অঙ্গীকার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তারা অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তারা নৈতিক কোন অপরাধ করেননি এবং তারা এই সামরিক জান্তাকে স্বীকার করেন না। যশোরে বিচারের সময় আদালত কর্মকর্তা ও দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। বেন বলেন, ঐ বিচারের সাক্ষ্য প্রমাণ ছিল মিথ্যা। একটি লোক তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়। এর আগে তারা লোকটিকে কখনই দেখেনি।

আগেই তাদের হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছিল যে, আদালতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সমালোচনা করলে আদালত অবমাননার জন্য তাদের তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বেন বলেন, এই বিষয়টি আমাকে খুব ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। প্রথমদিন বিচারের পর আমাদের সেকেন্ড সেক্রেটারির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি আমাদের বলেন, আমার কাছে কিছু মজার খবর আছে। এই ধরনের অভিযোগের শাস্তি মোটেও ছয়মাস নয়, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। অবশ্য আমরা প্রথমে তাই ভেবেছিলাম। আমরা আদালতে ফিরে গেলাম এবং সেখানে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, কিভাবে আমরা দোষ স্বীকার করব? ক্রিস উঠে দাঁড়িয়ে বলে, আমরা কেন এসেছি এবং কেন আমরা দোষ স্বীকার করব না সে ব্যাপারে একটু বিবৃতি দিতে চাই। আমরা অভিযোগ খণ্ডাতে চাই না। কারণ আমরা এই আদালতকে স্বীকৃতি দেই না। আমরা আদালতকে বা কোন সামরিক কর্তৃপক্ষকে মেনে নিতে চাই না। আমরা বললাম ঐ কাগজগুলো আমাদের কাছে ছিল এটা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। ম্যাজিস্ট্রেট এই বিষয়টিকে দোষ স্বীকার হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি বলেন, তিনি আমাদের ব্যাপারে সদয় হচ্ছেন এবং আদালত পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আটকাদেশ দেন। এসময় ছিল প্রায় দু’ঘণ্টা। আমাদের ভারতের মধ্য দিয়ে না যাওয়ার এবং দেশত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হলো। আমরা যখন আদালত ত্যাগ করি তখন অনেক লোক ফিসফিস করে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি দেয়। একথা বলতে শুনলে গুলি করে তাদের হত্যা করা হতো। এই চারজন ধরা পড়লেও ওমেগার আরেকটি দল দু’দফা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় এবং এক হাজার জনের তিনদিনের জন্য যথেষ্ট খাদ্যদ্রব্য যেমন ডাল, অধিক প্রোটিনযুক্ত বিস্কুট এবং চালের বিকল্প বিতরণ করে। তারা সাত শ’ জনকে কাপড় প্রদান করে।

আরেকটি দলের সদস্য ছিলেন মি. গর্ডন স্ল্যাভেন (২০)। তিনি হ্যাম্পস্টেড এলাকার বেলিসাইজ পার্ক গার্ডেন’স-এর এক সাবেক এ্যাকাউন্টস ক্লার্ক। তিনি ওমেগার সদর দফতরে দ্বিতীয় ভ্রমণ নিয়ে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। ঐ রিপোর্টে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে এলেও এলাকাটি এখনও মারাত্মকভাবে প্লাবিত। দলটি তিনটি নৌকায় চড়ে নদী পার হয়। তারা দু’দিন ধরে একটি গ্রামকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে গ্রাম্য নেতাদের মাধ্যমে সরবরাহ বিতরণ করেন। চারটি গ্রামের সবখানেই নৌকায় করে পৌঁছানো যায়। সেখানে অবস্থানকালে সেখানে কোন পাকিস্তানী সৈন্যের দেখা পায়নি। কিন্তু থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী মুক্তিফৌজের লোকদের দেখেছেন। পরবর্তীতে একজন বাঙালী চিকিৎসককে নিয়ে সীমান্তের ওপারে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের, যার লক্ষ্য জনগণের বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসার চাহিদা মূল্যায়ন করা।

মিস প্রাট বলেন, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন জায়গায় সীমান্ত পেরুনোর জন্য ৩০ থেকে ৪০জন লোকের প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তিনি অনুরূপ একটি গ্রুপের সঙ্গে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত থাকেন। ধরা পড়লে দীর্ঘমেয়াদী কারাগারে থাকতে হতে পারে একথা জানা সত্ত্বেও বেন নিজেও ফেরার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

ওমেগার আরেকটি দল সাহায্যের তালিকা করতে সম্প্রতি ইউরোপ গেছে। তারা হল্যান্ড এবং পশ্চিম বার্লিন থেকে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছেন। জার্মানরা বলছে, তারা যত তারাতারি সম্ভব তাদের নিজেদের একটি দল পাঠাবে। ওমেগা জুন মাসে লন্ডনের কয়েকজন সদস্য নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছিল। এখন তারা ম্যানচেস্টারের অফিসে আছে এবং তাদের কাছে সহস্রাধিক লোকের ঠিকানা রয়েছে, যারা আবেদন করলে সাহায্য দেবে এবং ওমেগার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করবে।

বাংলাদেশে আরও বেশি সরবরাহ পাঠাতে সংস্থার এখন নগদ অর্থের জরুরী প্রয়োজন। তারা যে দান পাচ্ছে তার অধিকাংশই ২০পাউন্ডের কম। ভিয়েতনাম যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে থাকা এক ব্যক্তি পাঁচ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন। ওমেগার এক মুখপাত্র বলেন, ব্রিটেনের বাঙালীদের কাছ থেকেও অর্থ এবং প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে তারা খুবই উদার।

বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে গর্ব করতে পারে…॥ পৃথিবীর অনেক দেশ খুব একটা কষ্ট না করেই শাসকদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পেয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতা কেউ দিয়ে দেয়নি। লাখো মানুষ রক্ত দিয়েছেন, বীরের মতো যুদ্ধ করেছেন। তবেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে গর্ব করতে পারে। বলছিলেন পল কনেট ও এলেন কনেট। ব্রিটিশ এই দম্পতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বিদেশী বন্ধু হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে তাঁরা দুজন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতক পল কনেট। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনেও জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন এবং বাংলাদেশে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধপথ্য পাঠানোর জন্য তিনি ‘অপারেশন ওমেগা’ নামে একটি সংস্থা করেন। লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় তাঁরা এ্যাকশন বাংলাদেশ নামে একটি কার্যালয় খোলেন। পাকিস্তানী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং বাংলাদেশেকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য জনমত গঠন করতে ১ আগস্ট লন্ডনের ট্রাফালগারস্কয়ারে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করেন তারা। পলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী এলেন কনেটও এসেছিলেন। তিনিও অপারেশন ওমেগা ও এ্যাকশন বাংলাদেশের জন্য কাজ করতেন। ট্রাফালগারস্কয়ারে বিশাল জমায়েত শেষে একটি এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কনেট ভারতে আসেন। সেখান থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু পাকিস্তানী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। পরে পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। মুক্তিযুদ্ধের সেসব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পল বলেন, বাংলাদেশে আমি যখন আসি আমার মনে হয় এটি যেন অসাধারণ একটি চিত্রকর্ম। এটি শান্তির একটি দেশ। বাংলাদেশের যা অর্জন আছে পৃথিবীর খুব দেশেরই সেসব অর্জন আছে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধ করে কয়টি দেশ স্বাধীন হতে পেরেছে?

এলেন কনেট বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করতে পারে। তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা রয়েছে। এই দেশ এগোবেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে এই দম্পতি বলেন, ন্যায়বিচার হতেই হবে। খারাপ লোকদের শাস্তি হতেই হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT