ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চাই ॥ করোনা মোকাবেলায় দঃ এশিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : 10:00 AM, 7 December 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই অজানা শত্রু আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সামনে এগোনোর পথে নতুন বাস্তবতা সামনে এসেছে। এই বাস্তবতায় এক সঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই। রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডাঃ লোটে শেরিং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং পিটিএ চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক আখ্যায়িত করে উভয় দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডাঃ লোটে শেরিং বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সব সময়ই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় তার দেশ। তিনি কোভিড-১৯ সফলভাবে মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সাধুবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কেননা, আমরা বিশ্বের কোন দেশের সঙ্গে এই প্রথম পিটিএ স্বাক্ষর করছি। আর ভুটানই প্রথম দেশ যে দেশটি একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সার্বভৌম এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডাঃ লোটে শেরিং বলেন, বাংলাদেশকে ভুটানের স্বীকৃতির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে আমরা আজ একত্রিত হয়েছি। তিনি এ উপলক্ষে উভয় দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কোভিড-১৯ কে সফলভাবে মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভুটান বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সব সময়ই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সবসময়ই ভুটানের পাশে থেকেছে। আর এই চুক্তি স্বাক্ষরই ভুটানকে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণে বাংলাদেশের স্বীকৃতি। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ভুটানের পক্ষে ভুটানের অর্থ-বাণিজ্যমন্ত্রী লোকনাথ শর্মা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। রাজধানীর বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান,বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এবং ভুটান প্রান্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী টান্ডি দর্জিসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, সারাবিশ্বেই বিভিন্ন দেশ ও জাতি কোভিড-১৯ সংক্রমণের নতুন ধাপ অতিক্রম করছে। স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও জনজীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এই অজানা শত্রু মোকাবেলায় বাংলাদেশ, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। মহামারীর প্রভাব মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে একযোগে কাজ করার কোন বিকল্প নেই। ভুটান বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থানে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ী আসন জুড়ে রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া এবং তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করে রাখার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেদিন শেখ জামাল বন্দী অবস্থা থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। কিন্তু আমার মা, ছোট বোন শেখ রেহানা, শেখ রাসেল, আমি এবং আমার তিন মাস বয়সী শিশুসন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় বন্দী ছিলাম। যেদিন আমরা শুনলাম ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে এটা এমন একটা অনুভূতি ছিল যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সেই অনুভূতি ছিল উত্তেজনাকর, উৎসাহব্যঞ্জক ও আনন্দময়। সেই সময় ওই বন্দীশালায় কিছু না থাকায় মেঝেতে বসেছিলাম। আমরা সব দুঃখ ভুলে গেলাম। আমরা হাসতে, চিৎকার করতে এবং কাঁদতে শুরু করেছিলাম। সেটা আমি কখনও ভুলতে পারব না। সেদিন আমরা দীর্ঘ সময় বন্দী অবস্থায় যে দুর্ভোগে ছিলাম তা ভুলে গিয়েছিলাম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভুটানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আরও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পারি। বাংলাদেশ সবসময় তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের চিলমারী বন্দরের উন্নয়ন করছি, নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও ভুটানের জন্য উন্মুক্ত। শুধু তাই নয় আমাদের তিনটি বন্দর চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা- ভুটান চাইলে ব্যবহার করতে পারবে। আমাদের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে অঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে তার উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা ভুটানের জন্য উন্মুক্ত। পারস্পরিক সুবিধা এবং নাগরিকদের সামগ্রিক উন্নতি ও কল্যাণের জন্য দুই দেশের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তুলতে পিটিএ স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরে বাংলাদেশের জনগণ ভুটানের তরতাজা আপেল, কমলালেবুসহ অন্যান্য তাজা ফলমূল ও শাকসবজি গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং ভুটানের ফ্যাশন সচেতন মানুষ বাংলাদেশ থেকে আরও মানসম্মত পোশাক নিতে পারবেন। বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পগুলো ভুটানের পাথর ব্যবহারে লাভবান হতে পারে এবং বাংলাদেশে ওষুধগুলো ভুটানের স্বাস্থ্য খাতে অবদান রাখতে পারে। ভুটান তাদের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের নির্দেশনা অনুসরণ করে একটি গণতান্ত্রিক, আধুনিক এবং প্রগতিশীল দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে দেশটির পঞ্চম রাজা তারই পুত্র এবং যোগ্য উত্তরসূরি জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তার পিতার নীতিগুলো অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং তা হলো দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা এবং নাগরিকদের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ উপহার দেয়া, যা জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক শক্তিশালী, অর্থনীতি একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত এবং আমরা সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। খাদ্য ও জ্বালানি সুরক্ষা, শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করে যাওয়ার পাশাপাশি এই অঞ্চলকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারের উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করতে বন্ধু ও প্রতিবেশীদের মূল্যবান সহযোগিতা চাই। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং নাগরিকদের সুখী করা। এ প্রসেঙ্গ তিনি সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ এবং ‘ভিশন ২০৪১’ এর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আজ আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং আমাদের অর্থনীতি সামনে এগিয়ে চলছে। আইনের শাসন, মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। যে কোন ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোরভাবে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। জ্বালানি নিরাপত্তা, শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ-সামাজিকসহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভুটান পরস্পরকে সহযোগিতা করার বহু ক্ষেত্র আছে। বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতা করতে সব সময় প্রস্তুত।

প্রসঙ্গত প্রতিবেশীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ এবং ভুটান দু’দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যা কোন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম আনুষ্ঠানিক পিটিএ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভোম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া ভুটানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির এই দিনটিকেই শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দু’দেশ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিন হিসেবে বেছে নেয়।

প্রধানমন্ত্রী ডাঃ লোটে শেরিং বলেন, বাংলাদেশকে ভুটানের স্বীকৃতির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে আমরা আজ একত্রিত হয়েছি। তিনি এ উপলক্ষে উভয় দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কোভিড-১৯ কে সফলভাবে মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অভিনন্দন জানান। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে একটি লোগো প্রকাশ করা এবং ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এ উপলক্ষে পৃথক কেক কাটেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি। তিনি ওই সময় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে সাত বছর ও ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর অধ্যয়ন করার কথা স্মরণ করেন।

এই চুক্তির ফলে ভুটান তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং ইলেকট্রনিক্সসহ ১০০টি বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, ফলমূলসহ ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে একই সুবিধা পাবে। ভুটান থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় পাথর আমদানি করা গেলে বাংলাদেশের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যয় হ্রাস পাবে, যা নির্মাণ খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে। এছাড়া, স্বল্পমূল্যে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করা সহজ হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ফলে বর্তমানে প্রাপ্ত বাংলাদেশের কিছু বাণিজ্য সুবিধা হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ও নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি সময়োপযোগী করা, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করা (এফটিএ)।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীনতার স্বীকৃতির পর থেকে সুদীর্ঘ ৫০ বছর দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের অধিক উন্নয়ন ঘটেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবছর মুজিব শতবর্ষ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছে। আর এসময় বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে পরিণত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক উন্নয়নে নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হয়েছে, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালের ১২-১৫ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় এ নিয়ে আলোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২১-২৩ আগস্ট দু’দেশের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি বৈঠক হয়। এরপর গত ১৯ জুন হয় দ্বিতীয় বৈঠক। এসব বৈঠকের আলোকে গত সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মোঃ জাফর উদ্দিন বলেন, ভুটান দিয়ে আমরা শুরু করলাম। অন্য দেশের সঙ্গেও এখন হবে। ১১টি দেশের সঙ্গে পিটিএ করার কাজ চলছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT