ঢাকা, বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ঐক্যবদ্ধ কাউন্সিলের পর ড. কামাল রাজনীতি থেকে অবসর চান

প্রকাশিত : 08:23 AM, 12 November 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অভ্যন্তরীণ সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ গণফোরামের যাত্রা শুরু শেষে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার চিন্তা করছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ইতোমধ্যে তার এই ইচ্ছার কথা একাধিক সিনিয়র নেতার কাছে প্রকাশ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পক্ষ ইতোমধ্যে কাউন্সিল স্থগিতের ঘোষণা করেছে। দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু গ্রুপের পক্ষ থেকে আহূত কাউন্সিল স্থগিত ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি গণফোরামের ঐক্যবদ্ধ নতুন কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা দিয়ে গণমাধ্যমে যে কোন সময় কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে বিবৃতি পাঠানোর কথা রয়েছে। গণফোরামের সর্বশেষ কাউন্সিলে সকল সিনিয়র নেতার পরামর্শ উপেক্ষা করে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করেন কামাল হোসেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় তাৎক্ষণিক দল ছাড়েন বেশ কয়েকজন নেতা। কয়েকজনকে বহিষ্কারও করা হয় গণফোরামের পক্ষ থেকে। এক পর্যায়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার বনিবনা না হওয়ায় দলে অভ্যন্তরীণ সঙ্কট বাড়ে। ক্ষুব্ধ অনেক নেতাই জাতীয় প্রেসক্লাবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত গণফোরামের বর্ধিত সভা আহ্বান করেন। মূলত এ সভা থেকেই দলটির মধ্যে ভাঙ্গনের সুর বেজে ওঠে।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডিসেম্বরে কাউন্সিলের ডাক দেয়া হয়। বর্ধিত সভায় যোগ দেয়া গণফোরামের শীর্ষ আট নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। চলে পাল্টা বহিষ্কার। এক পর্যায়ে দলটির মতিঝিলের ইডেন কমপ্লেক্সের অফিস মন্টুদের দখলে চলে যায়। নতুন অফিসে গণফোরাম শুরু করেন কামাল হোসেন। সেইসঙ্গে নতুন করে সম্মেলন করারও তারিখ ঘোষণা করা হয় কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে। গঠন করা হয় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।

এরমধ্যে দলের উভয় পক্ষ পৃথক পৃথকভাবে কয়েকটি কর্মসূচী পালন করে। বয়সের কারণে গত প্রায় দুই মাসের বেশি সময় কামাল হোসেন রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার কথা বলছিলেন দলের বিভিন্ন ফোরামে। এই প্রেক্ষাপটে ভেতরে ভেতরে তৈরি হয় ঐক্যের সুর। অবসরে যাওয়ার আগে ঐক্যবদ্ধ গণফোরাম রেখে যেতে চান কামাল হোসেন। তাই উভয় পক্ষ নিয়ে তিনি একাধিকবার বৈঠকে বসেছেন।

কামাল হোসেনের মধ্যস্থতায় বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যের বিষয়ে একমত উভয় পক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ গণফোরামের পথচলা নিয়ে দল প্রধানের বিবৃতি দেয়ার কথা রয়েছে। উভয় পক্ষের কাউন্সিল স্থগিত ঘোষণা করে নতুন করে আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা আসার কথা বিবৃতিতে। সেইসঙ্গে বাতিল করা হবে বহিষ্কার ও পাল্টা বহিষ্কারের তালিকা। এক অফিস থেকেই পরিচালিত হবে দলীয় কর্মকা-।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি (মন্টু পক্ষ) এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, রেজা কিবরিয়ার অব্যাহত স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দলে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম চেয়েছি। যে কারণে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি ছিল না, এখনও নেই।

তিনি বলেন, রেজা কিবরিয়ার পক্ষ থেকে কাউন্সিল স্থগিতের ঘোষণার সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। উনি উনার মতো করে চলুক। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ গণফোরাম দিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী নতুন বছরের ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি সবার এক হয়ে কাউন্সিল করার কথা। কাউন্সিল শেষে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে চান কামাল হোসেন। আমরা এতে সম্মতি দিয়েছি। তিনি হয়তো দলের প্রধান উপদেষ্টা হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। গণমাধ্যমে গত ১০ দিন ধরেই তার পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়ার কথা। হয়তো যে কোন সময় তিনি বিবৃতি দিবেন। তার বিবৃতি শেষে নতুন করে প্রস্তুতি কমিটি বা আহ্বায়ক কমিটি হবে। সবার মতামত ও আলোচনায় যদি মনে হয় রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে দল করতে কারও আপত্তি নেই, তখন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ১৯৯৩ সালের ৪ নবেম্বর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে বেরিয়ে আসা সাইফ উদ্দিন আহমেদ মানিককে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম গঠন করেন। কয়েক বছর আগে মানিক মারা গেলে আওয়ামী যুবলীগ থেকে আসা মন্টুকে দলে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলটি একাদশ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে আলোচনায় আসে। এই জোট বেঁধে প্রথম সংসদে যায় দলটি। দলের প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে সিলেট-২ আসনে বিজয়ী হন মোকাব্বির খান ও সুলতান মুহাম্মদ মনসুর।

গত বছর পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পর ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দুই অংশের বিবাদ চলে আসছিল। তা নিয়ে বহিষ্কার ও পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটে। ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ দেয়ার পর দলের দীর্ঘদিনের প্রবীণ নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়। দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অন্যদিকে রেজা কিবরিয়া সাধারণ সম্পাদক হয়েই দলের প্রবীণদের মতামতের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন। শুরু হয় নতুন দ্বন্দ্ব। কিন্তু দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন সেই দ্বন্দ্ব নিরসন না করে বরং রেজা কিবরিয়ার মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলে গঠিত কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এক পর্যায়ে নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু আলাদা অবস্থান নেন। পরবর্তীতে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার গণফোরাম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে গণফোরামের ঐক্যবদ্ধ কাউন্সিল অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১২ ডিসেম্বর ২০২০ অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিল স্থগিত করা হলো। আগামী কাউন্সিলের তারিখ পরে জানানো হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT