ঢাকা, রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

এক বছরের মধ্যে সব ঝুলন্ত তার অপসারণ

প্রকাশিত : 01:36 PM, 2 October 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

একসঙ্গে যদি ঢাকা শহরের তার পুরোটা কেটে দেই, তাহলে আমার আশঙ্কা ঢাকা শহর কলাপ্স হয়ে যাবে। আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনা হবে না। আমি বিশ্বাস করি আমরা যেভাবে অভিযান পরিচালনা করছি, আগামী এক বছরের মধ্যে ডিএনসিসির সম্পূর্ণ এলাকার তারগুলোকে নামিয়ে ফেলার চেষ্টা করব। এটা আমাদের নামাতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশেনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বর থেকে অবৈধ ঝুলন্ত তার অপসারণ কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় মেয়র এসব কথা বলেন। এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা, সচিব মোজাম্মেল হক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, কোয়াবের সভাপতি এস এম আনোয়ার কবির, আইএসপিএবি-এর সভাপতি মোঃ আমিনুল হাকিম উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র বলেন, গুলশান এভিনিউতে ঝুলন্ত তার অপসারণের মাধ্যমে (পাকিস্তান এ্যাম্বাসি থেকে শূটিং ক্লাব পর্যন্ত) ডিএনসিসি এলাকায় ঝুলন্ত তার অপসারণ কার্যক্রম শুরু হলো। তিনি বলেন, তারের জঞ্জাল আজ থেকে ১০ বছর আগে যে অবস্থা ছিল, এখনও একই অবস্থা। কিন্তু এই শহরকে এভাবে চলতে দেয়া যায় না। মনে হচ্ছে ঝুলন্ত তার মানেই ঢাকা শহর, ঢাকার আসল চিত্র। এই যে দেখুন এই জায়গাটির একদিকে ফাইভ স্টার হোটেল, আরেক দিকে তারের জঞ্জাল। কিন্তু ঢাকার এই চিত্র আমরা কেউ দেখতে চাই না। তাই আমি গত কোরবানির ঈদের আগে বলেছিলাম, ১ অক্টোবর থেকে আমরা ঝুলন্ত তারগুলোকে নামিয়ে দেব।

মেয়র আতিক বলেন, আমরা ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), ক্যাবল অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সঙ্গে সাতবার সভা করেছি, সবাইকে নিয়ে সিরিজ অব মিটিং করেছি, সমস্যাটি সমাধানের জন্য। একটি কথা জানাতে চাই, যখনই আমরা মিটিং করছি, এনটিটিএন, আইএসপিএবি, কোয়াবের সঙ্গে যখনই মিটিং শুরু করি মনে হয় একজনের সঙ্গে আরেকজনের শত্রুতা। আইএসপিএবি দোষ দেয় এনটিটিএনকে, এনটিটিএন দোষ দেয় কোয়াবকে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে আপনারা জানেন দেশে কোভিড চলছে, স্কুলের বাচ্চারা বাসায় বসে অনলাইনে এবং টেলিভিশনে পড়াশোনা করছে। অনেকে বাসায় বসে অনলাইনে কাজ করছেন, জীবিকা নির্বাহ করছেন, সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশটা অন্যরকম। আমাকে অনেক অভিভাবক অনুরোধ করেছেন। আপনারা দেখবেন আজকে তার কাটবে তা এই গুলশান এভিনিউর উত্তর থেকে দক্ষিণে যত তার আছে সব কেটে দেব। গুলশান এভিনিউতে টোটাল নয়টি মোড় আছে। এই নয়টি মোড়ের তার, তাদের অনুরোধে আরও সাতদিন সময় দেয়া হলো। সাতদিনের মধ্যে ক্রসিংয়ের তারগুলোও কেটে দেবে। আমরা চাচ্ছি এটি টেকসই করার জন্য। স্বল্পমেয়াদী পদ্ধতিতে আমি যেতে চাচ্ছি না। আজকে যে তার কাটা হচ্ছে এটাই কিন্তু সেবা প্রদানকারীরাই কাটছেন। এই প্রথম তারা নিজের তার নিজেরাই কাটছেন। তাদের আমি এখানে ডাক দিয়েছি, কারণ ঢাকা হচ্ছে আপনাদের সকলের।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এনটিটিএন কাজ করছে না, আমি মনে করছি এটি এনটিটিএন-এর ব্যর্থতা। তারা ১০ বছর যাবত লাইসেন্স নিয়েছে, তারা কেন মাটির নিচ দিয়ে লাইন নেয়নি? সুতরাং আমি সাব্যস্ত করেছি, তাদের সঙ্গে মিটিং করে, আমাদের রাস্তার পাশে যেসব ড্রেনগুলো আছে এগুলোর নিচ দিয়ে আমি পাইপ বসিয়ে দেব। উনারা রাজি হয়েছেন। এ বাবদ ডিএনসিসিকে তারা ভাড়া দেবেন। আমি ইতোমধ্যে প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি, আমাদের যত নতুন রাস্তা হবে, সেই রাস্তাগুলোর নিচ দিয়ে লাইন নেয়ার জন্য ব্যবস্থা রাখা হবে। আমরা চাই একটা স্থায়ী সমাধান। গুলশান এভিনিউর তার অপসারণের পরে গুলশান-১ থেকে রাস্তার পূর্ব ও পশ্চিম পাশে, গুলশান-২ থেকে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে সকল তার অপসারণ করা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT