ঢাকা, বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

উপকারী ভেষজ উদ্ভিদের জন্য গড়ে তুলুন পারিবারিক ভেষজ বাগান

প্রকাশিত : 07:11 PM, 11 October 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রিয় দর্শক ভেষজ উদ্ভিদের গুনের কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি। এগুলো অনেক সময় হাতের নাগালে পাওয়া যায় না। আর এ কারণে আমাদের বসত বাড়ির আশে পাশে গড়ে তোলা উচিত পারিবারিক ভেষজ বাগান। আসুন আজ জেনে নেই কোন ভেষজ উদ্ভিদের কী গুন! আগেই বলে রাখি শত সহস্র ওষধি গাছের বর্ণনা আমরা দেব না। মোটামুটিভাবে অধিক পরিচিত প্রচলিত এবং সহজপ্রাপ্য ওষুধি গাছের বর্ণনা তুলে ধরবো। আসুন জেনে নেয়া যাক পারিবারিক ভেষজ বাগান নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

অর্জুনঃ বিশেষ বাবে ছাল ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ নরম শিকড়ও ব্যবহার করে থাকেন। হৃদরোগ, রক্ত আমাশয়, রক্তচাপ, উদরাময়, অর্শরোগ, মূত্র বর্ধক এসব রোগ সারায়। ছারের রস বা ক্বাথ খালি বা চিনি ও দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। মেছতা ও ক্ষয়কােেশ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
আমলকিঃ আমলকি ত্রিফলার এক সদস্য ফল। বহুগুণে গুণান্বিত আমলকি একক বা ত্রিফলা গোত্রের অন্য দু’ সদস্যের সাথে অনেক রোগের উপশম করে। পেটের পীড়া, রক্তহীনতা, চর্মরোগ, গণোরিয়া, জ্বর, চুল উঠা, রুচিবর্ধন, আমাশয়, জন্ডিস, অজীর্ণত, কাশি, পেট ফাফা, বমির জন্য দারুণ কাজ করে। কাঁচা পাতা বা শুকনা ফল সর্বঅবস্থায়ই উপকারী।
বহেড়াঃ ত্রিফলা গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য। সাধারণত ফলই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমলকির মতো কাজ ছাড়াও হৃদরোগ ফুসফুস, চক্ষু, নাসিকা ও গলঅর রোগে ভালো উপকার করে।
হরিতকিঃ ত্রিফলা গোত্রের তৃতীয় সদস্য জন্ম বৈশিষ্ঠ্য গুণাগুণে বহেড়ার খুব কাছাকাছি। আমলকি বহেড়ার মতো কাজ করে। তাছাড়া হাঁপানী পিত্তরোগ, ডেটেবাত, গলার রোগ, দন্তরোগ ও চক্ষুপ্রতদাহে ব্যবহৃত হয়।
আকন্দ ঃ আকন্দ পাতা, ছাল, শিকড়, ফুল এবং কষ ব্যবহৃত হয়। বুকের সর্দি এবং অন্যান্য ব্যথায় সেক উত্তম। ফুল হাপানিতে ও যকৃত রোগে ব্যবহৃত হয়। আঠা দাদে পাতা সিদ্ধ পানি ঘায়ে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া কানব্যথা, শরীরের অন্যান্য ব্যথা, ফুলা কমাতে পাতা ব্যবহৃত হয়। পাতা ও মূলের নির্য়াস তলপেটে টিউমার, ফোঁড়া, ক্যান্সার, সিফিলিস, কুষ্ঠ, অর্শ, চর্মরোগ সারাতে সেবন করা হয়।
অশোকঃ ছাল, পাতা, ফুল ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছাল এবং পাতার রস ঋতুস্রাব, রক্তাক্ত পাইলস, রক্ত আমাশয় নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া ফুল যকৃতের অসুখ, সিফিলিস, গভাশয়ের অসুখ সারায়।
উলটকম্বল ঃ পাতা, ছাল, কান্ড, মূল, ঋতুস্রাব, গনোরিয়া, ফোঁড়ায় ব্যবহৃত হয়। ডাটার রস, মূলের চূর্ণ ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে দিনে ২বার ৩-৭ দিনে সেব্য।
বাসক ঃ বাসক কাশি হাপানি, যক্ষা, বক্ষব্যাধি, আমাশয়, ম্যালেরিয়া, সর্দি হাঁপানি, যক্ষপিত্তনাশক, রক্ত পরিশোধন, ক্ষয়কাশ, অম্লপিত্ত, মুখের দুর্গন্ধে দারুণ কাজ করে। বাসকের ছাল, পাতা সিদ্ধকরে মধু বা মিছরির সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
কালোমেঘঃ সম্পূর্ণ গাছ ব্যবহৃত হয়। পাতার রস পেটেরপীড়া, জ্বর, অরুচি, আমাশয়, কুষ্ঠ বলবর্ধক স অন্যান্য সমস্যঅয় ব্যবহৃত হয়। কালোমেধের পাতার রস, মুথাচূর্ণ, সিদ্ধ করা পানির সাথে কাঁচা হলদ মিশিয়ে দিনে ২-৩বার করে ২ থেকে ৫ দিন পর্যন্থ সেব করলে উপকার পাওয়া যায়।
সর্পগন্ধাঃ শিকড় পাতা ও গাছের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রক্তচাপ, অনিদ্রা, মস্তিস্ক বিকৃতি, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, আমাশয়, অনিদ্র, সর্পদংশনে মহাওেষুধ। সর্পগন্ধার মূল, ছালের গুড়া, কচি পাতার রস, মূলের রস ২-৩ চামচ দিনে ২-৩ ার ৫-৭ দিন পর্যন্ত সেব্য।
অর্শ্বগন্ধাঃ শ্বস রোগ, শেথরোগ, বাত, পিত্তরোগ, রিকেট রোগ, অনিদ্রা এসব রোগে উপকার পাওয়া যায়। অর্শ্বগন্ধার মূল চুর্ণ ক্বাত গাওয়া ঘি, মধু গরম পানি ও কাঁচা দধের সাথে -২-৩ চামচ দিনে ২-৩ বার ৫ থেকে ৭দিন পর্যন্ত সেবন করলে কাঙ্খিত উপকার পাওয়া যায়।
ঘৃতকুমারি/ঘৃতকাঞ্চনঃ পাতার নির্যাস সাধারণত ব্যবহার করা হয়। যে কোরন পোড়ায়, হাত পা জ্বালা পোড়া, মাথা ব্যথা, পেটের পীড়া, চোখের রোগ, জ্বর ও লোল রোগ, যকৃতের রোগ, রক্ত পিত্ত, পেটে বায়ূ এসব ক্ষেত্রে ঘৃতকাঞ্চন বেশ কাজ করে। ঘৃত কুমারির শাঁস, রস, প্রলেপ দিয়ে অথবা রস মিশরির সাথে সেবন করা যায়। দিনে ২-৩ বার করে ৩-৫ দিন সেব করলে উপকার পাওয়া যায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT