ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

উন্নত দেশের আদলে পুলিশে ট্যাকটিক্যাল বেল্ট চালু

প্রকাশিত : 11:11 AM, 19 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ট্যাকটিক্যাল বেল্ট চালুর প্রথম দিনে পুলিশ সদস্যরা মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যেই ডিউটি করেছেন। তবে এই বেল্ট নিয়ে টানা দশ বারো ঘণ্টা ডিউটি করার ক্ষেত্রে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। বুধবার রাজারবাগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বেল্ট চালু করার পর থেকেই নগরবাসীর মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় পুলিশ সদস্যদের হাত খালি রাখতে উন্নত বিশ্বের আদলে এই ব্যবস্থা চালু করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

বুধবার রাজধানীর গুলশান ও রমনা জোনের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আধুনিক পুলিশ গঠনে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ট্যাকটিক্যাল বেল্ট চালু করায় পেশাদারিত্বের গুণগত মান বাড়বে। বিশেষ করে সদস্যদের কাঁধে বা হাতে ভারি বন্দুক বহনের মতো বিড়ম্বনার অবসান ঘটবে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার প্রধান ডিসি ওয়ালিদ হোসেন বলেন, আপাতত ডিএমপি ও সিএমপিতে বিতরণ করা হয়েছে এই বেল্ট। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য ইউনিটেও বিতরণ করা হবে।

ট্যাকটিক্যাল বেল্ট সম্পর্কে জানা যায়, বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ পুলিশকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি পুলিশে ট্যাকটিক্যাল বেল্টের মতো আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করতে যাচ্ছেন। এতে বিপদগ্রস্ত মানুষের যে কোন প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারবে পুলিশ। আবার অপরাধীকে দ্রুত ঘায়েল করতে ট্যাকটিক্যাল বেল্টে থাকা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবেন অনায়াসেই।

এদিকে বুধবার বিজয়ের দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথমদিন ৬টি পার্টি ডিউটি করছে। শাহবাগ মোড়, মৎস্য ভবনের সামনে, প্রেসক্লাব, মেডিক্যাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তারা কাজ করছেন ওই বেল্ট পরে। এই বেল্ট পরে সার্জেন্টরাও ডিউটি করছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের ১৩৫ জন এসআই, ১৭১ জন এএসআই ও ৬৭ জন পুলিশ সদস্য এই বেল্ট পরে কাজ করছেন। কনস্টেবলরাও এই বেল্ট পরে ডিউটি করছেন। উন্নত দেশের আদলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কোমরে এই বেল্ট বেশ সুন্দর ও স্মার্ট লাগছে। ব্যবহারকারী এক সার্জেন্ট জানান, নতুন নতুন কিছুটা ঝামেলার মনে হলেও কোমরে লাগানোর পর নিজের কাছেই আগের চেয়ে বাড়তি অনুভূতি দেয়।

রমনা জোনে দেখা যায়, কজনের কোমরের বেল্টের সঙ্গে যুক্ত হোলস্টার উরুতে বাঁধা। তাতে রয়েছে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র, হ্যান্ডকাফ, ওয়্যারলেস ও পানির বোতল। মৎস্য ভবনের সামনে কর্তব্যরত এএসআই নাজমুল ওই বেল্ট পরে ছিলেন, সঙ্গে আরও তিন পুলিশ সদস্য। সবার পরনে ট্যাকটিক্যাল বেল্ট। এ সময় নাজমুল গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এখন হাতমুক্ত, এতে স্বস্তিবোধ করছি। লম্বা অস্ত্র বহনের ঝামেলা নেই। এ বেল্টের উপকার অনেক।

এ বিষয়ে রমনা বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান, ট্যাকটিক্যাল বেল্ট এ্যান্ড এ্যাকসেসরিজের মধ্যে রয়েছে থাই হোলস্টার উইথ আর্মস, এক্সপান্ডেবল ব্যাটন, হ্যান্ডকাফ, ওয়্যারলেস, টর্চলাইট, ওয়াটার বটল, মাইক্রোফোন। এখনও সেটের সঙ্গে মাইক্রোফোন সেট করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিভাগের ১২২ জন পুলিশ সদস্য এই বেল্ট পরে দায়িত্ব পালন করছেন। দুটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার স্থান রয়েছে। একটিতে পিস্তল রাখা হবে এবং আরেকটিতে এসএমজি রাখা হবে তবে বর্তমানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা একটি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছেন।

জানতে চাইলে ডিসি ওয়ালিদ হোসেন বলেন, এটা উন্নত দেশের আদলে, আমাদের এখানে একেবারেই নতুন। অনেকদিন স্টাডি করেই এটা চালু করা হয়েছে। মূলত পুলিশের কর্মদক্ষতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়িয়ে দায়িত্ব পালনের সময় হাত খালি রাখা, রুটিন দায়িত্ব পালনের সময় ভারি ও বহনে কষ্টকর লম্বা অস্ত্রের পরিবর্তে হাল্কা ও সহজে বহনযোগ্য ছোট অস্ত্র ব্যবহার করা, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে বেশি হতাহতের ঘটনা এড়াতে লম্বা ব্যারেলের অস্ত্রের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে আনার জন্যই ট্যাকটিক্যাল বেল্ট। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন সহজ ও আরামদায়ক করা, ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার ধারা থেকে বেরিয়ে আসা, বিশ্বের অন্য আধুনিক দেশের মতো বাংলাদেশ পুলিশকে গড়ে তোলা এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে মানসিক দূরত্ব কমিয়ে এনে পুলিশী সেবাকে আরও সহজ করতে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ৬ চেম্বারের আধুনিক এই ট্যাকটিক্যাল বেল্টেই থাকবে পিস্তল, হ্যান্ডকাফ, অতিরিক্ত ম্যাগাজিন, এক্সপান্ডেবল ব্যাটন, পানির পটসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হাত থাকবে সম্পূর্ণ খালি।

পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্যাকটিক্যাল বেল্টের মূল স্লোগান হলো ‘হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিং’ মানে হাত খালি রাখা। এতে বড় অস্ত্র বহনের ঝক্কিঝামেলা আর থাকবে না। এতে পুলিশের কাজে গতি আসবে, মনোবলও বাড়বে। একই সঙ্গে পুলিশকে দেখতে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী লাগবে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করছেন- যা বহন কষ্টসাধ্য। একই সঙ্গে কাঁধে ও হাতে বড় রাইফেল থাকায় সহজে হাত দিয়ে কিছু করা কঠিন হয়ে পড়ে তাদের। চাইনিজ রাইফেলের পরিবর্তে তরাস পিস্তল দেয়া হবে। পাশাপাশি অন্য ছোট পিস্তলও দেয়া হতে পারে। ট্যাকটিক্যাল বেল্টের কারণে অস্ত্র থাকবে লুকায়িত। এতে সাধারণ মানুষের পুলিশের অস্ত্রের দিকে সহজে নজর না পড়ে। ট্যাকটিক্যাল বেল্টে ৬টি চেম্বার থাকবে। এসব চেম্বারে প্রাথমিকভাবে থাকছে ছোট অস্ত্র, এক্সপান্ডেবল ব্যাটন, ওয়্যারলেস সেট, ৫০০ মিলিলিটার পানির বোতল ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্য পজ মেশিন।

এদিকে এই বেল্টের সবদিক ভাল থাকলেও একটা দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কজন পুলিশ সদস্য। নাম প্রকাশে একজন সার্জেন্ট বলেন- এই বেল্টের সবই ঠিক আছে। কিন্তু এটা পরিহিত অবস্থায় টানা ১০/১২ ঘণ্টা ডিউটি করাটা বেশ অস্বস্তির। যদি উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও ডিউটি আওয়ার ৮ ঘণ্টা করা হয় তাহলে আমাদের জন্য বেশ ভাল হয়। তখন আর বার বার খোলার মতো কিংবা এতগুলো ভারি বস্তুর মতো বিড়ম্বনা দেখা দেবেনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি ওয়ালিদ হোসেন বলেন, এখন হয়তো আমাদের এখানে ডিউটি আওয়ার একটু বেশি। কিন্তু এ অবস্থা তো বেশিদিন থাকবেনা। পুলিশের ডিউটি আওয়ার কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর মতোই আমাদের এখানেও ওয়ার্র্কিং আওয়ার ৮ ঘণ্টা করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কাজেই এ সমস্যা থাকবেনা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT