ঢাকা, সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন ॥ সিইসি

প্রকাশিত : 08:17 AM, 25 December 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ইসির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং অসদাচরণের বিষয়ে ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের অভিযোগকে ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। বৃহস্পতিবার বিকেলে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৪২ নাগরিকের উত্থপিত অভিযোগও খণ্ডন করে ইসির বক্তব্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের শুরুতে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, সম্প্রতি দেশের ৪২ নাগরিক ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন বলে তারা (কমিশনার) শুনেছেন। এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ সংশ্লিষ্ট গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তদন্ত করতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন ৪২ নাগরিক। গত ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়। ৪২ নাগরিকের পক্ষে রাষ্ট্রপতির কাছে ওই চিঠি পাঠান সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক। এছাড়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর দানকারীদের মধ্যে রয়েছেন

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সাবেক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা আকবর আলি খান, এম হাফিজউদ্দিন খান, মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী। চিঠিতে ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের আবেদন জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার ৪২ নাগারিকের চিঠিতে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। এ সময় নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসাইন, কমিশন সচিব মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে অপর নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উপস্থিত ছিলেন না।

সিইসি তার লিখিত বক্তব্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষণের জন্য বক্তৃতা না দিয়ে বিশেষ বক্তা হিসেবে সম্মান গ্রহণ বিষয়ে ৪২ নাগরিকের অভিযোগের জবাবে বলেন, ‘কর্ম পরিকল্পনায় ১৫ জন বিশেষ বক্তার সম্মানী বাবদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক কোটি চার লাখ টাকা এবং পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ জন বিশেষ বক্তা প্রশিক্ষণ প্রদান করে সম্মানী গ্রহণ করেছেন। এছাড়া প্রশিক্ষণ কোর্সের উপদেষ্টা হিসেবে ইসির সচিব সম্মানী নিয়েছেন এবং প্রশিক্ষণ খাতের অব্যবহৃত অর্থ ট্রেজারিতে ফেরত দেয়া হয়েছে।

সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যয় খাতের জন্য কমিশন চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী সব ব্যয় অডিটযোগ্য। অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না হলে ব্যয়কৃত অর্থ কোষাগারে ফেরত যাবে। সব প্রক্রিয়া দালিলিক প্রমাণভিত্তিক। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, একাদশ সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ১৫ জন বিশেষ বক্তার জন্য কর্ম পরিকল্পনায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দই ছিল না। সেখানে নির্বাচন কমিশনারদের ‘বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তৃতা দেয়ার নামে দুই কোটি টাকার মতো আর্থিক অসাধারণ অনিয়ম’ মর্মে অভিযোগ অসত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু প্রশিক্ষণ প্রদানের সম্মানের সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। ফলে সংবিধান লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে না এবং সংবিধানের অপব্যাখ্যা কোনক্রমেই কাম্য নয়। ফলে প্রশিক্ষণ ব্যয়ে আর্থিক অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির যে অভিযোগ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’।

সংবাদ সম্মেলনে একই সঙ্গে তিনি ৪২ নাগারিকের আনা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ ইভিএম মেশিন ক্রয় এবং ইসির বিরুদ্ধে অসদাচারণ এবং অনিয়মের অভিযোগ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের গুরুতর অসদারণ ও অনিয়মের অভিযোগের জবাব দেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কমিশন গত তিন বছরে প্রাধিকারভুক্ত গাড়িই পায়নি। যে গাড়ি ব্যবহার করছে, সেটি কমিশন কার্যালয়ে ব্যবহৃত হতো। কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবং ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহারে কোন দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন সিইসি। একইভাবে বিভিন্ন নির্বাচনে অসদাচরণ ও অনিয়ম নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের আনা অভিযোগও নাকচ করে দিয়েছে কমিশন। এ ব্যাপারে সিইসি বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশী কূটনীতিকেরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোও কোন অভিযোগ করেনি। আর স্থানীয় সংসদ নির্বাচনে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোট পড়ছে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ। প্রতি আসনে বা পদে প্রার্থী ২ থেকে ৮ জন। তাই নির্বাচনের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছে, এ কথা ভিত্তিহীন।

কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে বলেন নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত। এ বিষয়ে কোন মহল থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কোন প্রমাণ ছাড়াই চার কোটি চার লাখ টাকা দুর্নীতি করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।

নিয়মবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন নির্বাচন কমিশন তাদের প্রাধিকারভুক্ত একটি জীপ ও একটি কার এবং তার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে। নতুন গাড়ি বিলাসবহুল তো নয়ই, তা অতি সাধারণ মানের।

তিনি বলেন, ইভিএম ক্রয়ের বিষয়ে বলেন কমিশন ইভিএম আমদানি করেনি। পিপিআর অনুসরণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তা ক্রয় করা হয়েছে। ইভিএম কেনার কোন বিল কমিশনের কাছে ন্যস্ত হয় না। এ বিল সরকারীভাবে সরাসরি সেনা কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা হয়। এ কাজে নির্বাচন কমিশন কোন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে না। এখানে দুর্নীতির কোন প্রশ্ন ওঠে না। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতেই ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন। নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা চলে গেছে এ খবর ভিত্তিহীন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT