রবিবার ২৯ মে ২০২২, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘‘ইউক্রেন যুদ্ধে জয়-পরাজয়’’

প্রকাশিত : 06:10 AM, 1 April 2022 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

এই যুদ্ধে বিজয়ীর চেয়ে পরাজয়বরণকারীর সংখ্যাই বেশি। জাতিসংঘ, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ এ ব্যাপারে নির্বিকার। পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধ একটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ২৮ বছর আগে ইউক্রেন আঞ্চলিক অখণ্ডতার আশ্বাসের বিনিময়ে তার পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ করে। তার পরও ২০১৪ সাল থেকে দেশটিকে দুবার আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও এই যুদ্ধ একটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে এখানে দুটি যুদ্ধ চলমান: একটি মূলত ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ। আরেকটি হলো রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ। প্রথম যুদ্ধে রাশিয়া বিজয়ী। দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয়ী ইউক্রেন।

বলতে গেলে সমঝোতামূলক বৈঠকগুলোর মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসবে এবং একটি দীর্ঘস্হায়ী নিষ্পত্তির পথ তৈরি হবে। কিন্তু কিছু সময়ের জন্য সংঘাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা বেশি না থাকলে যুদ্ধের ফলাফল হবে সমান সমান। বিশেষ করে পুতিন যদি যুদ্ধে তার সৈন্যবাহিনীর শক্তিমত্তা প্রদর্শন কমানোর কৌশল গ্রহণ করেন এবং ইউক্রেন সরকার মেনে নিতে পারে এমন শর্তে আলোচনার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে এই পরিস্হিতি তৈরি হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের ফলাফল হবে অনেকটা লেনিনের ভাবশিষ্য ও তাত্ত্বিক লিওন ট্রটস্কির সেই ব্যাখ্যার মতো, ‘সীমিত যুদ্ধ, তবে শান্তি নয়’। এমতাবস্হায় ইউক্রেন যুদ্ধে কে বিজয়ী ও পরাজিত বলে পরিগণিত হবেন?

সবচেয়ে সহজে যে বিষয়টি ইঙ্গিত করা যায় তা হলো, এই যুদ্ধে বড় পরাজয় হবে রাশিয়ার। এটা এখন স্পষ্ট, পুতিন যে রাজনৈতিক অভিলাষে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছেন, তা অর্জন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হবে না। যেমন—তিনি চেয়েছিলেন তার সৈন্যদল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিজয় কুচকাওয়াজ করবে এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লালোদিমির জেলেনস্কির সরকারের পতন হবে। তদস্হলে ক্রেমলিনের প্রতি বন্ধুত্বভাবাপন্ন সরকার কায়েম হবে। পুতিনের পছন্দের যুদ্ধ ইউক্রেনের অনেক জনপদ ধ্বংস করেছে, কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞায় অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করছে।

এছাড়া অনেক মেধাবী রাশিয়ান নাগরিক ইতিমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। অধিকন্তু, যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে (এক মাসে ১৫ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে) এবং একটি পোটেমকিন (সাবেক রুশ জেনারেল) বাহিনী হিসেবে এর আবির্ভাব হয়েছে, যা পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এই হিসাব আরো জটিল। এর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সমাজ ও সশস্ত্র বাহিনীর সহনশীলতা বিস্ময়কর নিঃসন্দেহে। জাতীয় পরিচিতি আগের চেয়ে আরো মজবুত; ইউক্রেনের কঠোর প্রতিরোধ তার অল্পবয়সি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সেই শক্তিশালীকরণের ফলে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। আনুমানিক ১০ মিলিয়ন ইউক্রেনীয়, অর্থাৎ জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ নাগরিক আজ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্ত্তচ্যুত বা উদ্বাস্ত্ত হয়ে পড়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। এর পুনর্নির্মাণে অনেক সময় এবং প্রচুর অর্থ লাগবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT