ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আসছে নতুন প্রণোদনা ॥ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

প্রকাশিত : 09:16 AM, 26 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির তাগিদ দিয়েছেন। এই উদ্যোগকে অর্থনীতিবিদরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও নতুন প্যাকেজ আরও সুপরিকল্পিতভাবে তৈরির কথা বলেছেন। এজন্য প্রণোদনা প্যাকেজ নতুন করে সাজানো হচ্ছে। যুক্ত করা হচ্ছে নতুন প্রণোদনা। পাশাপাশি চলমান কয়েকটি প্যাকেজের গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের আওতা বাড়ানো এবং বাস্তবায়ন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নতুন প্রণোদনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। রফতানিমুখী শিল্প ও সেবা খাত, গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের সুবিধা সম্প্রসারণে নতুন করে সাজানো হচ্ছে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন কৌশল। কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর ঋণসুবিধা চলতি ২০২০ সালের পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২২ সালেও অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, করোনার শুরুতে যারা প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ পাননি পরের বছরগুলোতে ঋণসুবিধা নিতে পারবেন সেসব গ্রাহক। এক্ষেত্রে সরকারের সুদ ভর্তুকি সুবিধা কোন গ্রাহক একবারই পাবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং নতুন ধরনের করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ^জুড়ে অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পুনরায় লকডাউন দেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। দেশেও সংক্রমণ ও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত শীত মৌসুম চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল করোনার প্রথম পর্যায়ের আক্রমণ। এ কারণে পৃথিবীর অন্য দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে দেশের অর্থনীতির অভিঘাত মোকাবেলা করাটা কিছুটা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নতুন কর্মকৌশল ঠিক করতে ইতোমধ্যে ৩ পর্বের সিরিজ সংলাপ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংলাপের শেষ পর্বের অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান আরও একটি প্যাকেজ ঘোষণার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আরও একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর গত বুধবার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২৫) চূড়ান্তকরণ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ সামনে রেখে আর্থিক প্রণোদনার একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

অর্থ বিভাগের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি সভা করে। ওই সভায় প্রণোদনা প্যাকেজের নীতিমালা কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এর আগে করোনাভাইরাসের প্রভাব থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার ২১টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়, তার মধ্যে কয়েকটি বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে। কয়েকটির বাস্তবায়ন চলমান। তবে সঠিক তথ্য-উপাত্তের অভাব, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সুবিধা পৌঁছানোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি প্যাকেজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের জন্য যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, তার পুরোটা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি সেগুলোর বাস্তবায়ন কৌশল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে নতুন প্যাকেজ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

জানতে চাইলে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তারা প্রকৃত অর্থে এই প্রণোদনা ঋণ নিতে পারেনি। এর কারণ ব্যাংকের কোলেটারালসহ আরও কিছু শক্ত শর্ত। কিন্তু তাদেরই এই প্রণোদনা অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। নতুন প্রণোদনা প্যাকেজে যেন এসএমই খাতের জন্য শর্ত শিথিল করা হয় সেই পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, এমন একটি পদ্ধতি বের করতে হবে যাতে তারা সহজেই প্রণোদনার টাকা পান। একইসঙ্গে কৃষি খাতে প্রণোদনা যেন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকেরাই পান তা নিশ্চিত করতে হবে। সার-বীজ যেন তাদের কাছেই পৌঁছায়। আর নিম্নবিত্ত মানুষকে সহায়তার ব্যাপারে মনিটরিং বাড়াতে হবে।

সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রণোদনার সুবিধা পৌঁছানোর বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দু’দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণের অর্ধেকও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। ফলে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতটি করোনার আঘাত মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে প্যাকেজটি বাস্তবায়নে এনজিওদের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কাছে সুবিধা পৌঁছানোর জন্য এনজিও ফাউন্ডেশন, এসএমই ফাউন্ডেশন, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ) অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ খাতে প্রণোদনার যে অর্থ বিতরণ অবশিষ্ট রয়েছে, তা ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি এসব সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। বিতরণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমে সকল ব্যাংকের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে। সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধনে জোগান দিতে গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত এই প্যাকেজের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ, যার ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে। বাকি ৪ শতাংশ সুদ ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য বাজেটে পিকেএসএফ, কর্মসংস্থান ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে যে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, তার এক হাজার কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। বাকি এক হাজার কোটি টাকা এ মাসেই ছাড় করে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদেশফেরত বেকারসহ অন্যদের ছোট ছোট ব্যবসা শুরুর জন্য এই অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়া হবে।

চামড়া শিল্পের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের তিন মাসের ভাতা দেয়ার জন্য নতুন প্যাকেজ নেয়া হচ্ছে। এজন্য একটি তহবিল গঠন করা হবে। ওই তহবিলে রফতানিমুখী শিল্পে বেকার হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার সঙ্গে সরকার ৩৬৮ কোটি টাকা দেবে। ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শীঘ্র চামড়া শিল্পের শ্রমিকদের এই অর্থ দেয়া হবে। তৈরি পোশাক, চামড়াপণ্য ও পাদুকা শিল্পের শ্রমিকদের মাসে তিন হাজার টাকা করে তিন মাস ধরে নগদ সহায়তা দেয়া হবে। এটিকে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ বলছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য যে তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম নেয়া হয়, তাও ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি, সবজি ব্যবসায়ী, মুদি ব্যবসায়ীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে ব্যবসা ও উৎপাদনে অর্থায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও এনজিওদের সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া রফতানিমুখী খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ ঋণ পরিশোধের সময় ও গ্রেস পিরিয়ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এর পাশাপাশি প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কতটুকু প্রভাব ফেলেছে এবং আরও কী করা দরকার সে জন্য একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস বা বেসরকারি কোনো গবেষণা সংস্থাকে দিয়ে এই মূল্যায়ন করা হবে।

নতুন প্যাকেজে ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে নীতিমালা ॥ করোনার প্রভাব মোকাবেলায় দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) দ্রুত প্রণোদনা ঋণ দিতে এ প্যাকেজটি তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য ঋণ নীতিমালাও প্রায় চূড়ান্ত। এ খাতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন করবে এবং অন্য দিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে এমএফআইগুলোকে অর্থায়ন করবে। এমএফআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যমান ঋণ স্থিতির সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রণোদনা ঋণ তহবিলের আওতায় ঋণ নিতে পারবে। একটি ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ তিনটি ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবে, তবে মোট গৃহীত ঋণ নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে থাকতে হবে। গৃহীত ঋণের ন্যূনতম মেয়াদ হবে দুই বছর। ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক পর্যায়ে তাদের মোট প্রদেয় ঋণের ৪৫ শতাংশ ট্রেডিং খাতে এবং ৫৫ শতাংশ উৎপাদন ও সেবা খাতে বিতরণ করতে পারবে। বিতরণকৃত ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে গ্রাহক পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। তবে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্বাচন, ঋণ বিতরণ সংশ্লিষ্ট ব্যয়, গ্রেস পিরিয়ড, ঋণের কিস্তি, ঋণ আদায়, ঋণ শ্রেণীকরণ ও মনিটরিং ইত্যাদি বিষয় ‘এমআরএ’ ও ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালায় বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।

প্রণোদনা ঋণ আড়াই লাখ কোটি টাকা বিতরণের পরিকল্পনা ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর ঋণসুবিধা চলতি ২০২০ সালের পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২২ সালেও অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। মূল প্রণোদনা প্যাকেজগুলো তিন বছরের জন্য ঘোষণা করা হলেও অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। ফলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নতুন প্যাকেজ ঘোষণার দাবি উঠছে। কিন্তু বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের তহবিল বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় কয়েকটি প্যাকেজ তিন বছর মেয়াদের জন্য নেয়ার কথা স্পষ্ট বলা আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, করোনা সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সব গ্রাহককে ঋণসুবিধা দিতে কয়েকটি প্রণোদনা প্যাকেজ তিন বছরের জন্য নেয়া হয়েছে। এটা সংশ্লিষ্ট তহবিলগুলোর জন্য ঘোষিত নীতিমালায়ও বলা আছে। এর মানে ব্যাংকগুলো তিন বছর পর্যন্ত এই ঋণসুবিধা চালু রাখবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক সমপরিমাণ টাকার অর্ধেক পুনঃঅর্থায়ন করবে। তবে সরকারের সুদ ভর্তুকি সুবিধা কোন গ্রাহক একবারই পাবেন। তিনি আরও বলেন, এই প্যাকেজগুলোর ঋণসুবিধা তিন বছরের জন্য চালু থাকায় বেশিসংখ্যক গ্রাহক উপকৃত হবেন। কারণ তখন প্রথম বছরের বঞ্চিতরা পরের বছরগুলোতে ঋণসুবিধা নিতে পারবেন।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় ঋণনির্ভর সাতটি প্যাকেজ রয়েছে, যাতে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্যাকেজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি প্যাকেজের মেয়াদ নীতিমালা জারির সময়ই তিন বছরের জন্য নেয়া হয়েছে। এগুলো হলো বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা (যা বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে), কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএমএমই) খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, রফতানিকারকদের জন্য প্রাক-জাহাজীকরণ খাতে পুনঃঅর্থায়নে পাঁচ হাজার কোটি টাকার নতুন তহবিল (প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফিন্যান্স স্কিম) এবং নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সিরাজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, এমনও হতে পারে আগামী বছরগুলোতেও করোনার একটা প্রভাব থাকবে। এই আশঙ্কা থেকে হয়তো মূল তহবিলগুলোর মেয়াদ তিন বছর করা হয়েছে। এতে বেশি মানুষের ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ এক বছরের ভেতরে ১০০ কোটি টাকা দিলে হয়তো ১০০ জন উপকৃত হবেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT