ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আরপিও খসড়া চূড়ান্ত, আজ বৈঠক প্রার্থিতা বাতিল ক্ষমতা ইসির হাতেই রাজনৈতিক দল নিবন্ধন সংক্রান্ত ধারা ৯০ বিলুপ্তির প্রস্তাব

প্রকাশিত : 02:35 PM, 2 November 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) থেকে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে এ সংক্রান্ত ৯১ই ধারা অন্তর্ভুক্ত করেই খসড়া আরপিও চূড়ান্ত করেছে কমিশন সচিবালয়। এছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো প্রস্তাবে যে ১০টি মৌলিক ধারা বাদ দেয়া হয়েছিল সেগুলোও খসড়ায় রাখা হয়েছে।

তবে এতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধান ৯০এ, ৯০বি, ৯০সি, ৯০ডি, ৯০ই, ৯০এফ, ৯০জি, ৯০এইচ ও ৯০আই উপধারা বাদ দেয়া হচ্ছে। আজ সোমবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচন কমিশনের ৭২তম সভায় খসড়াটি অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের এ সভায় পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আগামী জুলাই পর্যন্ত পৌরসভার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের আয়োজন করা হবে কিনা- সেই সিদ্ধান্তও এ সভায় হতে পারে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ছুটিতে থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, আরপিও বাংলায় অনুবাদ ছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে না। আমার জানা মতে, যেসব ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলো বহাল রাখা হচ্ছে।

প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখার মধ্য দিয়ে ইসি নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা সংক্রান্ত ৯১ই ধারাটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসির বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এ বিধান শুধু আইনে রাখলেই চলবে না, বাস্তবিক প্রয়োগও করতে হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গে মৌলিক ও পদ্ধতিগত ১০টি ধারা বাদ দিয়ে আরপিওর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, প্রিসাইডিং অফিসারের ভোটগ্রহণ বন্ধের ক্ষমতা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এছাড়া আরপিওকে আইনে রূপান্তরের প্রস্তাবও করেছিল ইসি। তবে এতে আপত্তি জানিয়ে প্রস্তাবটি ফেরত পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়।

কমিশন দাবি করেছিল, সব বিষয় আইনে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই। কিছু বিষয় বিধিতে রাখা হবে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে ওই দাবি থেকে সরে এসেছে ইসি। এর তিন মাস পর আবারও আরপিওর খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে কমিশন। এতে বলা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ জারি করেন।

সেই ঐতিহ্য ধারণ আরপিও অধ্যাদেশ আকারেই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি আইনে রূপান্তর হচ্ছে না। আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ও কমিশনারদের মতবিরোধের কারণে আরপিওতে বড় ধরনের সংশোধন থেকে সরে এসেছে ইসি।

জানা গেছে, আরপিওর খসড়া থেকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন সংক্রান্ত ধারা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে কমিশন সভার কার্যপত্রে। এতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে অধ্যাদেশ বলে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন সংক্রান্ত একটি অধ্যায় আরপিওতে সংযোজন করা হয়। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কিছু পদে রাজনৈতিক দলে প্রার্থী মনোনয়নের বিধান রয়েছে।

সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রণীত আরপিওর অধীনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন সংক্রান্ত ধারা বিলুপ্ত করে ‘নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন, ২০২০’ শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র আইনের খসড়া ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন : সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে ২৫৯টি নির্বাচন উপযোগী বলে ইসিকে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে যেসব পৌরসভার মেয়াদ আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে শেষ হবে সেগুলোর নির্বাচনী কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে।

আর যেগুলোর মেয়াদ ফেব্রুয়ারির শেষার্ধে বা মার্চের প্রথমার্ধে শেষ হবে সেগুলো নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতে নির্বাচনযোগ্য হবে। বাকিগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নির্বাচনযোগ্য হবে। কার্যপত্রে বিভিন্ন ধরনের ছুটি, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় আচার অনুষ্ঠান বিবেচনায় রেখে তফসিল ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT