ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আরও ৫ মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থান মিলল ত্রিপুরায়

প্রকাশিত : 11:05 AM, 5 November 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই করেছে। এ রকম ভাসাভাসা ধারণা ছিল বছর বারোর ছেলেটির। কৌতূহলের বশে হাজির হয়েছিল বাড়ির কাছেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে। ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে ডেকে নিয়ে যান একজন। বলেন, পরের দিন সে যেন পড়ার বই নিয়ে আসে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

একষট্টিতে পা দেয়া প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল ছবুরের এখনও স্পষ্ট মনে আছে, বইখাতা নিয়ে সেই ক্যাম্পে যেতে, সে দিন আলাপ হওয়া মানুষটি, ‘ইমদাদুল স্যার’ পড়াতে বসেছিলেন। অঙ্ক দেখিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ওর মতো তার বাড়িতেও ভাইবোন রয়েছে। ঊনপঞ্চাশ বছর পর সেই ‘ইমদাদুল স্যারের’ কবরের সামনে দাঁড়িয়ে বহু কথার ভিড় প্রবীণ ছবুরের মনে। বলেন, কয়েক দিন পর বলেছিলেন, ক্যাম্পে আর এসো না। আমরা অপারেশনে যাব। এর চার দিন পরে ক্যাম্পে গেলে সবাই আমাকে বলেন, ইমদাদুল স্যার মারা গেছেন। শুনে হতভম্ব হয়ে যাই। ক্যাম্পের অন্যরা জানান, বাংলাদেশের সাগরনাল এলাকা থেকে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার দেহ আনতে গিয়ে ইমদাদুল স্যারকে পাকিস্তানের সেনারা মেরে ফেলেছে। শহীদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমদাদুল হক শুধু নয়, আরও চার বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধি এতদিন পরে খুঁজে পেয়েছেন ছবুর। কবরস্থানটি ধর্মনগরের কাছে, কদমতলা ব্লকের চল্লিশ দ্রোন এলাকায়। কদমতলা থেকে দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। ছবুর বলেন, ‘দেশ স্বাধীন করতে প্রাণ দিয়েছেন তাঁরা। এতদিন এখানে সকলের অগোচরে, অযতেœ রয়ে গেছে তাঁদের সমাধি। খবর পাননি তাঁদের আত্মীয়স্বজনও।’

ছবুর জানিয়েছেন, সমাধিফলকের লেখা অনুযায়ী তিন জনই ছিলেন ৮ বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর বেঙ্গল রেজিমেন্টে। তাঁদের একজন হলেন সিপাহী মোকমেদ আলি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩৯৪০০৮৮)। বাড়ি কুমিল্লা জেলার গোয়ালপাড়ার কিসমত নয়াপাড়ায়। তিনি শহীদ হন ১৯৭১ সালের ১২ অক্টোবর। দ্বিতীয় জওয়ান মহম্মদ জামালউদ্দিন (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩৯৫০০১৭)। তিনি শহীদ হয়েছেন ১৯৭১-এর ১৭ অক্টোবর। বাড়ি কুমিল্লা জেলার বিজয়নগর গ্রামের পারারবানে। তৃতীয়জন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমদাদুল হক। বাড়ি কুমিল্লায়। শহীদ হয়েছিলেন ১৯৭১-এর ১১ অক্টোবর। তাঁদের কবরের পাশেই শায়িত রয়েছেন আর দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু কালের গ্রাসে নষ্ট হয়ে গেছে সমাধিফলক। ফলে তাঁদের নামধাম এখনও জানা যায়নি।

সম্প্রতি দিল্লীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান ত্রিপুরা সফরে এসেছিলেন। তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ত্রিপুরার সহকারী হাইকমিশনারকে এই বিষয়ে খোঁজ নিতে বলবেন। সন্ধান করতে বলবেন, ত্রিপুরার আর কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে এমন মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থান।

এর আগে ত্রিপুরার ধলাই জেলার আমবাসায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ হামিদুর রহমানের কবরস্থানের খোঁজ মিলেছিল। ২০০৭-এর ৯ ডিসেম্বর ভারত এবং বাংলাদেশের উদ্যোগে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দেহাবশেষ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশে। শিক্ষক ছবুরের এখন প্রত্যাশা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হবে ২০২১-এর মার্চে। তার আগে যেন এই পাঁচ শহীদের দেহাবশেষ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে পৌঁছে দেয়া হয় তাঁদের পরিবারের কাছে। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি যেন ফিরে পায় তার বীর সন্তানদের।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT