ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

‘আমি মারিনি, ৪-৫ জন মিলে মেরেছে, ছেলেটা মরে গেছে ভাই’

প্রকাশিত : 11:25 AM, 10 November 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অবশেষে বহুল আলোচিত সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যুবক রায়হান আহমদ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া গ্রেফতার হয়েছে। এসআই আকবর ধরা পড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রায়হানের মা ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা। রায়হানের স্ত্রী মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে দেয়ার দাবি করেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ এসআই আকবরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। তিনি জানান, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান জানান, জেলা পুলিশের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আকবর হোসেনকে গ্রেফতার করে। রায়হান হত্যাকাণ্ডের ২৮ দিন পর তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, রায়হান হত্যার পর থেকে আকবরকে গ্রেফতারে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছিল। তারা সীমান্তবর্তী অনেক বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদও করেন। রবিবার তাদের কাছে খবর আসে আকবর কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। এই খবরের ভিত্তিতে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হয়। একপর্যায়ে সকাল ৯টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়।

এ সময় সাংবাদিকরা একটি ভিডিওতে আকবরকে ভারতে অবস্থান করতে দেখা গেছে প্রশ্ন করলে পুলিশ সুপার বলেন, এটা আমরা এখনও দেখিনি। এমনও হতে পারে সে পালিয়ে গিয়েছিল, আবার ফেরত এসেছে। কিন্তু আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি।

সোমবার আকবর আটকের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ভাইরাল হয়। তাৎক্ষণিক আকবরকে আটক করে ভিডিও ধারণকারীরা আটকের চিত্র ও তার সঙ্গে কথোপকথন প্রচার করেন। যা থেকে পরিষ্কারভাবে আকবরের আটকের চিত্র ফুটে উঠে। সেই ভিডিও চিত্র থেকে বুঝা যায় ভারতীয় আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনদের হাতেই আটক হয়েছেন আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যাকা-ের মূল অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন।

একটি সূত্র জানায়, গত রবিবার রাতে ভারতের মেঘালয়ের শিলচরের ডোনা বস্তি এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে খাসিয়ারা আকবরকে আটক করে। আটকের পর তারা তাকে বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করে। গরু ব্যবসায়ীরা তাকে রহিম নামের স্থানীয় এক লোকের কাছে হস্তান্তর করেন। তাকে ডোনা ক্যাম্পে রাখা হয়।

সোমবার দুপুরে সিলেট জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তাকে কানাইঘাট থানায় নিয়ে আসা হয়। আকবর হোসেন ধরা পড়ার পর হাতজোড় করে কাঁদছিলেন, নিজেকে দাবি করছিলেন নির্দোষ হিসেবে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি মারিনি, আমি ইচ্ছে করে মারিনি, ৪-৫ জন মিলে মেরেছে, ছেলেটা (রায়হান) মরে গেছে ভাই। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশের একটি দল। এদিকে, আটক করার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়- একটি পাহাড়ী ছড়ায় পাথরের ওপর আকবর হোসেনকে বসিয়ে রেখে হাত-পা বাঁধছে কয়েক যুবক। এসময় আকবর হোসেন হাতজোড় করে কাঁদছিলেন এবং তার হাত-পা না বাঁধার জন্য অনুনয় করছিলেন। ‘আমি বাঁচবো না’- বলেও এ সময় অনুনয় করতে দেখা যায় আকবরকে। বাঁধার আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয়রা। এ সময় কেঁদে কেঁদে আকবর বলছিলেন- আমি মারিনি ভাই, আমি তাকে (রায়হানকে) প্রাণে মারার জন্য মারিনি। ৪-৫ জন মিলে মেরেছে, ওই সময় ছেলেটা মরে গেছে। অসুস্থ হওয়ার পর আমি তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ সময় আকবর আরও বলেন, আমি অন্য কোন কারণে ভাগিনি। আমি ভাগছি, আমার সাসপেনশন হয়েছে, এরেস্ট হতে পারি, আকবর বলেন, আমাকে সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছিল, তুমি আপাতত চলে যাও, কয়মাস পরে আইসো। দুইমাস পরে সব ঠা-া হয়ে যাবে। ঠা-া হয়ে গেলে আবার সব হ্যান্ডেল করা যাবে। তবে কারা এমনটি বলেছিলেন বা কার নির্দেশে তিনি পালিয়ে যান এ সম্পর্কে কিছু বলেননি।

এসময় ভিডিওতে দেখা যায়, আকবরের হাত-পা বাঁধতে বাঁধতে যুবকরা বলছেন- মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য সে মানুষকে মেরে ফেলেছে। ওই যে ইন্টারনেটে ভিডিও ছাড়ছে। রায়হান নাম। আকবরকে আটককারী যুবকরা এ সময় বাংলা ভাষার পাশাপাশি আদিবাসী ভাষায়ও কথা বলেন। এরপর রায়হানের হাত-পা বেঁধে পাহাড়ী ছড়া দিয়ে তাকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসেন ওই যুবকরা। এদিকে, ভিডিওর যুবকদের কথাবার্তা ও এলাকা দেখে অনেকেই সে স্থানকে ভারত এবং যুবকদের খাসিয়া আদিবাসী বলে মন্তব্য করেছেন। ওই যুবকরা বাংলায় কথা বললেও তাদের কণ্ঠস্বর ছিল অবাঙ্গালীদের মতো। এ সময় তাদের একজন আরেকজনকে একটি বাংলাদেশী সিগারেটের একটি প্যাকেট দিয়ে বলতে শোনা যায়- নে তুই তো বাংলাদেশী সিগারেট পাস না। এর আগে অবশ্য গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছিল আকবর ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পালিয়ে গেছেন।

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত, পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের খবর শুনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা। সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও সিলেট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে শতাধিক মানুষ আকবরের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দেয়। এ সময় সিলেটের সচেতন ছাত্রসমাজ নামে একটি সংগঠন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে।

সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত ইনচার্জ এসআই আকবর হোসনে ভূঁইয়া আত্মগোপনে থাকাকালীন খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বেশভূষা ধারণ করেছিলেন। আটকের পর দেখা যায়, তার বেশভূষা অনেকটা খাসিয়া পল্লীতে বসবাসকারীদের মতো ছিল। পুঁতির মালাও দেখা যায় আকবরের গলায়। ডোনা সীমান্তের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেফতারের সময় আকবর আগ বাড়িয়ে পুলিশকে নিজের পরিচয় দেন। এ সময় তার বেশভূষা অনেকটা খাসিয়া পল্লীতে বসবাসকারীদের মতো ছিল। গলায় পুঁতির মালাও দেখা যায়।

রায়হান আহমদ হত্যাকা-ে মূল অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গ্রেফতারের খবর শুনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম ও স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। তারা বলেন, আকবর ধরা পড়ায় আমরা খুশি। আমরা চাই সঠিক বিচার হোক। আকবরের সঙ্গে তার সকল সহযোগীরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন রায়হানের মা সালমা বেগম ও স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। রায়হান হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সিলেট বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশী নির্যাতনে নিহত রায়হানের স্বজনরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে যান রায়হানের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় মুরব্বি। এ সময় তারা রায়হান হত্যা মামলার বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন। পরে রায়হান হত্যার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে তাদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন রায়হানের চাচা মইনুল ইসলাম কুদ্দুস, ভগ্নিপতি মোফাজ্জেল আলী, মামাত ভাই শওকত আলী, সিসিকের কাউন্সিলর মুখলেছুর রহমান কামরান এবং ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমেদ। এছাড়াও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের যুবক রায়হান নিহত হওয়ার ঘটনার পর সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোঃ আজবাহার আলী শেখের তত্ত্বাবধানে মহানগর পুলিশের তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ মোট ছয় সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক ছিল। তাকে পালানোতে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির আরেক এসআই হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তখন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুইদিন পরই আকবর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান। গত ১৩ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাতেন। পরে গত ১৫ অক্টোবর পিবিআই সিলেটের আখালিয়া নবাবি মসজিদ কবরস্থান থেকে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন কাজ শেষ করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয়। পিবিআই এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুন উর রশিদকে দুই দফায় আটদিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেননি।

এছাড়া রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাকে একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

রায়হান হত্যা ঘটনার পর অভিযুক্ত এসআই আকবর পালিয়ে যেতে সহযোগিতাকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সদর দফতর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ পেলে হয়তো উর্ধতন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ফেঁসে যেতে পারেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সদর দফতর গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও প্রতিবেদনে কারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিষয়ে কোন তথ্য প্রকাশ পায়নি।

গত ২৫ অক্টোবর আইজিপি ড. বেনজির আহমেদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান এআইজি (ক্রাইম এ্যানালাইসিস) মোঃ আয়ুব। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রত্যাশা করেন রায়হানের পরিবার।

ঘটনার পর দিন চারটার দিকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে এস আই হাসানের কাছে অস্ত্র, ওয়্যারলেস সেট ও মোবাইল সিম হস্তান্তর করে আকবর বেরিয়ে যায়। কিন্তু হাসান বিষয়টি উর্ধতন কর্তাদের জানান সন্ধ্যা ৬টার দিকে। এছাড়া এসআই হাসান যে বন্দর ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পাল্টানোর সঙ্গে জড়িত ছিল তা এসএমপির তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে। আকবরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের দায়ে হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর বিকেলে সিলেটের বন্দর বাজার ফাঁড়ির পুলিশ রায়হান আহমেদ (৩৪) নামের একজনকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ মোতাবেক, রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য টাকা দাবি করে। ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল ফোন থেকে রায়হানের পিতাকে কল করা হয়। সকালে পিতা থানায় গেলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলা হয়। রায়হানের পিতা হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, তার ছেলে মারা গেছে। লাশের গায়ে নির্যাতনের ভয়াবহ চিহ্ন দেখতে পান তিনি।

এমন ঘটনার পর ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আকবর হোসেন ভূঁইয়া দাবি করেন, ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুিনতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে গণপিটুনির ঘটনাস্থলের কথা বলা হয়, সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় গণপিটুনিতে রায়হানের নিহত হওয়ার কোন তথ্য পাওয়া যায় না।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলার দায়েরের পর তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইকে।

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হচ্ছেন, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ ও টিটু দাশ। ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া তিন পুলিশ সদস্য হচ্ছেন, এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন।

মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জনকণ্ঠকে বলেন, ঘটনার পর থেকেই রায়হানের মৃত্যুর সঙ্গে এসআই আকবরের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তখনও এস আই আকবর পুলিশের মধ্যেই অর্থাৎ থানা বা ফাঁড়িতে ছিল। এমনকি মামলা দায়েরের পরেও এস আই আকবর পুলিশের মধ্যেই ছিল। তারপরেও একজন অভিযুক্ত এস আই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে পালিয়ে গেল তা একটি রহস্যের বিষয়। গ্রেফতারকৃত আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদে সেই রহস্যের কিনারা হবে। রায়হান হত্যার রহস্যেরও কিনারা হবে।

ঘটনার পর পরই এসআই আকবর যাতে বিদেশ পালিয়ে যেতে না পারে, এজন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগ ও সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে ছবিসহ বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছিল।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৪ অক্টোবর সকাল নয়টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিসবাহ উদ্দিন ও সজিব আহমদের নেতৃত্বে আখালিয়া এলাকার নবাবি মসজিদের পঞ্চায়েত করবস্থান থেকে রায়হানের লাশ তোলা হয়। পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT