মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার

প্রকাশিত : 07:13 PM, 26 September 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দেশের অবকাঠামোগত অগ্রগতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার দেয়া আট মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে অগ্রগতি বিচারে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু। সবশেষ জুলাই মাসের হিসাব বলছে, প্রকল্পটির মূল সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে সার্বিকভাবে প্রকল্পটির ৮১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে এরই মধ্য। করোনাভাইরাসের আঘাত মোকাবেলা না করতে হলে এই অগ্রগতির হার আরও বেশি হতো।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু ছাড়াও বাকি মেগা প্রকল্পগুলোর কাজও এগিয়ে চলেছে। ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে এসব প্রকল্প। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র, মেট্রোরেল, এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, মাতারবাড়ি বিদ্যুত কেন্দ্র এবং দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতিও প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। করোনাভাইরাসের কারণেই মূলত প্রকল্পগুলোতে গত কয়েক মাসে স্থবিরতা এসেছিল। তবে করোনার প্রভাব কাটিয়ে প্রকল্পগুলো ফের গতি পেতে শুরু করেছে।

শুধু এই আট মেগা প্রকল্পই নয়, শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে আরও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে নিয়েছেন কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ। নদীর তল দিয়ে টানেল নির্মাণ এদেশের মানুষ কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও কোন নদীর তলদেশে টানেল নেই। সেই প্রথম কাজটি করার পদক্ষেপ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। বিশাল কর্মযজ্ঞে চলছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শেখ হাসিনার উন্নয়নের গল্প এখানেই শেষ নয়। তার সর্বশেষ পদক্ষেপ হচ্ছে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বড় বড় জাহাজ যাতে সরাসরি সমুদ্র বন্দরে ভিড়তে পারে সেজন্য তিনি সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের। এতে যেমন ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানি রফতানি খরচ কমবে, তেমনি সময়ও বাঁচবে অনেক। গতি আসবে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।

শেখ হাসিনার সর্বশেষ সফলতা হলো- অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বৈশ্বিক মহামারী করোনা কোভিড-১৯ ভাইরাস মোকাবেলা। কোভিড মহামারীর কারণে পুরো বিশ^ই স্থবির হয়ে পড়ে। দেশে দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। এই ভাইরাস মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং কর্মহীন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা। দ্বিতীয় পর্যায়ে তার সামনে চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়াল দেশের মানুষকে বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনীতিকে সচল করা। সেই চ্যালেঞ্জ তিনি দক্ষতার সঙ্গেই মোকাবেলা করেছেন।

করোনা মহামারী থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, জনগণকে সচেতন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি চাঙা রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নির্দেশনার পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারী থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং জীবিকা নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার (জিডিপির ৪ দশমিক ৩ শতাংশ) ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার কারণে স্থবির হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন সর্বকালের সেরা অবস্থানে রয়েছে।

এখনও করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে মহামারীর মধ্যে দেশ ও মানুষের কল্যাণে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিটি বিষয়ের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন এবং সে অনুযায়ী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিজের জীবনের চেয়ে দেশ ও দেশের জনগণকে তিনি বড় মনে করেন। তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি জনগণের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করতে দিনরাত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আজ বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও সমাদৃত। এখানে পৌঁছতে তাকে অনেক চ্যালেঞ্জ আর বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন, কারাগারে থেকেছেন। ২৪ বার তার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, যাতে নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন আর আহত হলেন শত শত।

শেখ হাসিনা শুধু আমাদের দেশ বা আমাদের এই অঞ্চলেই নন, গোটা বিশ্বেই একজন বিশিষ্ট রাষ্ট্রনেতা হিসেবে দেশে-বিদেশে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রবল প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও একপাও তিনি পিছু হটেননি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ তাকে বিশ্বখ্যাতি এনে দিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নে বিশ্ব এক মমতাময়ী রূপ দেখেছে। তাইতো তিনি ভূষিত হয়েছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে। চার দফা প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় দক্ষতার সঙ্গে সরকার পরিচালনার কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সম্মানসূচক ডিগ্রী, পদক ও স্বীকৃতি দিয়ে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানকে সম্মানিত করা হয়েছে। সর্বশেষ, টিকা দান কর্মসূচীতে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যদাপূর্ণ ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী থেকে তিনি হয়েছেন রাষ্ট্রনায়ক। এদেশে প্রথম রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারপর দীর্ঘ বিরতি। এই দীর্ঘ সময়ে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় অনেক পানি গড়িয়েছে। অনেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেউ রাষ্ট্রনায়ক হতে পারেননি। জাতি আবার একজন রাষ্ট্রনায়ক পেয়েছে, তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ এবং ২০০৯ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কারণ, রাষ্ট্রনায়ক হবার কতগুলো সোপান থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসব উৎরে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সময় বিশ্ব পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। তিনি তখন ছিলেন সংগ্রামী নেতা, যিনি একক নেতৃত্বে একটি দেশ এনেছেন, বাঙালী জাতিকে দিয়েছেন একটি মানচিত্র। কিন্তু শেখ হাসিনার জন্য পরিস্থিতি ছিল আরও প্রতিকূল। বার বার সামরিক শাসনের যাঁতাকলে তিনি পেয়েছেন একটি ভঙ্গুর বিশৃঙ্খল দেশ। বাংলাদেশ সৃষ্টির সঙ্গে একটি বেমানান রাজনীতির তিনি মুখোমুখি হন দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনে। ফলে ১৯৯৬-২০০১-এর শাসনামলে তাঁকে ঠেকে ও ঠেকে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। ২১ বছরের দুঃশাসন এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি তাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে।

এক-কেন্দ্রিক বিশ্বে বাংলাদেশের মতো একটি দেশ থেকে একজন সরকারপ্রধানের রাষ্ট্রনায়ক হতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। বিশেষত পর পর দুটি নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষের বিতর্ক সামলে রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন তিনি। দোষে গুণেই মানুষ। কিন্তু একের পর এক নানা সমস্যা সামলে বাংলাদেশকে তিনি বিশ্ব-পরিমন্ডলে যে অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন, এ কৃতিত্ব তাঁকে দিতেই হবে। এ জন্যই তিনি রাষ্ট্রনায়ক। দেশকে এগিয়ে না নিলে রাষ্ট্রনায়ক হওয়া যায় না। এ জন্য তাকে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা। সেই সোনার বাংলার আধুনিক রূপ হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি সুখের দেশ গঠনে শেখ হাসিনা সরকার বদ্ধপরিকর।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে অনেক আগেই সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলার কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছে যেত দেশ। তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ৩৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে দেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করেছেন। মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু উন্নয়নই নয় সুশাসন প্রতিষ্ঠায়ও তার নিরলস প্রচেষ্টা উন্নত দেশের কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে বাংলাদেশকে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সোমবার ৭৪তম বছরে পদার্পণ করবেন। শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আমরা আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

(সমাপ্ত)
কাওসার রহমান
লেখক : সাংবাদিক

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT