ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আধা ঘণ্টায় গাজীপুর ॥ আশা জাগানিয়া প্রকল্প বিআরটি

প্রকাশিত : 08:44 AM, 14 September 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

যানজট কাটিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে এগিয়ে চলছে বাস র ্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে কাজের গতি কিছুটা মন্থর হলেও প্রকল্প থেমে নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানজট নিরসনে এটি আশা জাগানিয়া প্রকল্পের অন্যতম। নির্মাণ কাজ শেষ হলে শুধু ঢাকা-গাজীপুর জেলার যাত্রীরাই উপকৃত হবেন না এর সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইলসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের পথ সুগম হবে। এখন মহাখালী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা যেতে কখনও তিন ঘণ্টার বেশি লাগে। বিআরটি সড়ক ব্যবহার করে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টায় এইটুকু সড়ক অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার দাবি পরিবহন সংশ্লিষ্টসহ এই মহাসড়কে চলা সাধারণ যাত্রীদেরও।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিআরটি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি এখন ৪২ ভাগ। টঙ্গী-জয়দেবপুর সড়কে জনদুর্ভোগ কমাতে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, কাজ থেমে থাকবে না। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রকল্পের এখন অর্থ সঙ্কট কেটে গেছে। তাই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন রকম জটিলতা নেই। সব মিলিয়ে সকল অনিশ্চয়তা কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে আশা জাগিয়ে তুলেছে।

ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী চলাচলের সুযোগ ॥ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিআরটি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাসের মাধ্যমে ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট অনেকটাই কমে যাবে। যাতায়াতে সময় কম লাগার কারণে প্রতিটি বাস আগের তুলনায় বেশিবার যাতায়াত করতে পারবে। এর মাধ্যমে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের পথ সুগম হবে। যাত্রীরা দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছার ফলে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

পাশাপাশি যাত্রীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। এছাড়া ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাসের টিকেট বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত টাকা সরকারের রাজস্ব খাতকে শক্তিশালী করবে।

বিআরটি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাস মালিক, ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও পথচারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে শুল্ক প্রদান করবে তার ফলে সরকারের অর্থনৈতিক পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। ফলে জাতীয় অর্থনীতি ও জিডিপি বৃদ্ধি পাবে।

জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ফোর লেন প্রকল্প চালু হলেও এর সুবিধা যাত্রী ও পরিবহন মালিক শ্রমিকরা পাচ্ছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যানজটের কারণে মহাখালী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত যেতে যত সময় লাগে এর চেয়ে অনেক কম সময় লাগে ময়মনসিংহ পৌঁছাতে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি পোহাতে হচ্ছে বছরের পর বছর। আর পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আশা করি জনদুর্ভোগ কমবে। সেইসঙ্গে যাত্রীদের চলাচলের পথ আরও সুগম হবে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।

পৃথক লেনে চলবে গাড়ি ॥ ২০১২ সালে বিআরটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পে থাকছে, চার দশমিক ৫ কিলোমিটার এলিভেটেড ফ্লাইওভার ও সেতু। যার মধ্যে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার ৬ লেন বিশিষ্ট এবং ১ কিলোমিটার ২ লেন বিশিষ্ট। থাকছে ৬টি এলিভেটেড স্টেশন ও ১০ লেন বিশিষ্ট টঙ্গী সেতু। ছয়টি উড়াল সড়ক ও আন্ডারপাস। জলজট নিরসনে প্রকল্পের আওতায় টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক লেন থাকছে। দ্রুতগতির যান চলাচলের জন্য সড়কের মাঝ বরাবর দুই লেন পৃথক করা হবে।

শেষ হবে ২০২২ সালে ॥ ২০১২ সালে বাস র্যা পিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রথমে ঠিক হয় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এটি নির্মাণ করা হবে। উদ্দেশ্য গাজীপুর থেকে দ্রুত সময়ে ঢাকায় চলাচল। এর পর দাতা সংস্থার অর্থায়ন সাপেক্ষে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে বিআরটির আরেকটি অংশ। এ আশায় ২০১৭ সালের অক্টোবরে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় সেতু কর্তৃপক্ষ। ওই সময় মোট ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি শেষের মেয়াদ বলা হয়েছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে; কিন্তু ২০১৭ সালে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। ২০১৮ সালের ৪ নবেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়িয়ে উন্নীত করা হয় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার টাকায়; কিন্তু এই নির্ধারিত সময়েও বিআরটির কাজ শেষ করা যায়নি।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ অংশের ঠিকাদারের কার্যক্রম নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আপত্তি তুলেছে। তারা বলছে, ঠিকাদারের গ্রহণযোগ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির মতো দক্ষ জনবল, সরঞ্জাম, অর্থ, প্রয়োজনীয় উপকরণ কিছুই নেই। এ কারণে মিল নেই তাদের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবের। সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৯১৭ দিনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কর্মপরিকল্পনা বদল করেছে ছয়বার। তাদের ৭ম সংশোধিত পরিকল্পনায় ২০২২ সালের ২৯ আগস্ট কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মানে অতিরিক্ত ৭৭৩ দিন ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি বিআরটি প্রকল্পের ঠিকাদার জিয়াংসু প্রোভিন্সিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের (জেডটিইজি) নাম উল্লেখ করে বলেছে, ঠিকাদারের বর্তমান কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড যথেষ্ট না হওয়ায় আই গার্ডার নির্মাণ তরান্বিত হচ্ছে না। তা ছাড়া প্রিকাস্ট বক্স গার্ডার নির্মাণের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনও শুরু করেনি। তাই প্রকল্পের অগ্রগতি বাড়ছে না। শুধু তা-ই নয়, পিয়ার হেড নির্মাণে ধীরগতির কারণে আই গার্ডারের ইরেকশনের কাজও ধীরগতিতে চলছে। ঠিকাদার বিভিন্ন সময়ে বক্স গার্ডার পরিবর্তনের প্রস্তাব দাখিল করায় হেড নির্মাণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ বক্স গার্ডারে পরিবর্তন এলে পিয়ার হেডের ডিজাইনে পরিবর্তন আসে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ঠিকাদারের আর্থিক দুরবস্থা। এতে কাজ এগোনো যাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি আলোচনায় আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন খুব সন্তোষজনক নয়।

সেতু কর্তৃপক্ষের অংশের কাজ পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘স্মেক’ লিখিতভাবে আরও জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ এবং মাটির ওপরে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি লাইন থাকায় অনেক স্থানেই পাইল ক্যাপ রি-ডিজাইন করতে হচ্ছে। হাউজ বিল্ডিং থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত আর কোন পাইল অবশিষ্ট না থাকায় টঙ্গী ব্রিজ থেকে চেরাগ আলী পর্যন্ত অবশিষ্ট ১৬০টির মতো পাইল নির্মাণ করতে হবে। এ দূরত্ব পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

প্রকল্পের সারিতে (রো) কিছু স্থাপনা এখনও অপসারণ না হওয়ায় অধিগ্রহণের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ মাসে ব্রিজ ডেক কাজ সম্পন্ন হবে। তবে এ জন্য কাজ করতে হবে তিনটি ভিন্ন ধরনের ১১ সেট যন্ত্রপাতি একাধারে রাস্তায় ৩৫০ মিটার এলাকায় রেখে। এর জন্য দরকার আরও দক্ষ জনবল এবং মালামাল। একই সময় ওই রাস্তার যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখে বিকল্প রাস্তায় চলাচলের সুপারিশ করা হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে ঠিকাদার বলেছে, অক্টোবর থেকে ব্রিজ ডেক নির্মাণের কাজ তারা শুরু করবে।

বাস্তবায়নে তিন প্রতিষ্ঠান ॥ এ বিষয়ে বিআরটি, গাজীপুর-বিমানবন্দরের সেতু কর্তৃপক্ষ অংশের প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এলজিইডি, সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সওজ মিলে। তাই সার্বিকভাবে বলতে না পারলেও সেতু কর্তৃপক্ষ অংশের অগ্রগতি মাত্র ৩২ শতাংশ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ঠিকাদারের যেসব সমস্যা তুলে ধরেছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরামর্শক নিযুক্ত করা হয় এ কারণেই। ঠিকাদারের আর্থিক সমস্যা, জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবসহ যেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো চলতি সেপ্টেম্বরে সমাধান হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছে। তা ছাড়া কোভিড, বন্যা, বর্ষার কারণেও কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। করোনায় অনেক কর্মী চলে গিয়েছিলেন। সব মিলেই সমস্যা হয়। আশা করছি কেটে যাবে।’

অগ্রগতি ৪২ ভাগ ॥ গত মঙ্গলবার বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় অংশ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, কাজ থেমে নেই। সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪২ ভাগ। প্রকল্প এগিয়ে নিতে এখন আর কোন জটিলতা নেই। সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় আশা করছি দ্রুত কাজ শেষ হবে।

কাজের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার একে একে সবগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায়। সঙ্কট যতই আসুক উন্নয়ন থেমে থাকবে না। আমরা যে কোন মূল্যে সম্ভাবনার সবগুলো প্রকল্পের কাজ শেষ করব। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তা থেমে থাকার নয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গাজীপুর থেকে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণ করা বাস র্যাাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের সময় এর ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল দুই হাজার ৩৯ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন করে চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে এক হাজার ৪২৫ কোটি টাকা সরকারী তহবিল থেকে এবং বাকি দুই হাজার ৮৪২ কোটি টাকা বিদেশী সহায়তা থেকে আসবে বলে ধরে নেয়া হয়।

২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় ব্যয় না বাড়িয়ে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির মেয়াদ নিয়ে যাওয়া হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। রাজস্ব ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়, নতুন কয়েকটি কাজের অঙ্গ যুক্ত হওয়া এবং কিছু অঙ্গের কাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয় প্রকল্পটির।

প্রকল্পের ১ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ১৬ কিলোমিটার বিআরটি লেন ও ১৯টি স্টেশনসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনা গেঝুবা গ্রুপ কর্পোরেশন (সিজিজিসি)। গত জুনে প্যাকেজটির নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ এগিয়েছে মাত্র ৪২ দশমিক ৫২ শতাংশ। বৈঠকে এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্টদের কাজ এগিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেন।

প্রকল্প সম্প্রসারণের পরামর্শ ॥ এদিকে নগরবিদরা বলছেন, যানজট নিরসন করতে হলে এ ধরনের একটি প্রকল্পই যথেষ্ট নয়। প্রকল্পটি ঢাকার আশপাশের জেলা-উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরামর্শ নগর বিশেষজ্ঞদের। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ ড. নুরুল ইসলাম নাজেম বলেন, গাজীপুর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধান হবে না। এটা সত্য এবং বাস্তব। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, যানজট নিরসনে বিআরটি প্রকল্পটি আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ, সাভার, বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে মাওয়া ঘাট পর্যন্ত এই রুট সম্প্রসারণ করা গেলে সুফল মিলবে। সম্ভব হলে এই প্রকল্পটি ময়মনসিংহ-নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাসমূহ পর্যন্ত নেয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান নক্সা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সাময়িক কিছু সুবিধা বাড়বে। সীমিত আকারে হলেও সর্বোপরি কিছু র্যা পিড ট্রানজিটের ব্যবস্থা হবে। ঢাকা পূর্ব-পশ্চিম এলাকায় রাস্তা না বাড়ালে যানজট সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনার অভাবে ঢাকার চার ভাগের মধ্যে এক ভাগের বেশি রাস্তা ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু নিউইয়র্কে ছোট রাস্তা হলেও ওয়ানওয়ে করা আছে। সেখানে ব্যবস্থাপনা ভাল থাকায় চলাচলে সমস্যা নেই। আমাদের দেশের রাস্তা দখলমুক্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কোন সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন তিনি। তবে যথাসময়ে কাজ শেষ করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT