ঢাকা, বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি ১৭ বছরেও ॥ রিমান্ড ও গ্রেফতার

প্রকাশিত : 08:27 AM, 14 November 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ২৬৭ ধারায় রিমান্ড ও গ্রেফতারে আদালতের নির্দেশনা ১৭ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। আদালতের নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, আসামি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়ে নির্যাতন করা যাবে না। পাশাপাশি গ্রেফতারের সময় ও স্থান এবং আটক রাখার জায়গা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বজনকে জানাতে হবে। সংবিধান অনুসারে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। অথচ জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী এমনকি রিমান্ডে নির্যাতনের ফলে অনেক সময় আটক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানতে সবাই বাধ্য এবং মানা হচ্ছে। যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে তাহলে হাইকোর্টের নজরে আনতে পারেন। ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল সন্দেহভাজন কোন আসামি বা ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয় হাইকোর্ট। ২০১৬ সালে আপীল বিভাগ তা বহাল রাখেন। আপীল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রিভিউটি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কোন প্রকার নির্যাতন করা যাবে না। রিমান্ড প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের অভ্যন্তরে কাচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন। যাতে নির্যাতন করা হচ্ছে কিনা দেখা যায়। বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ১৬৭ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত আপীল বিভাগ। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দশ দফার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে আপীল বিভাগ। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য ৯ দফা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সাত দফা নির্দেশনা দেয়া হয়।

সম্প্রতি রাজশাহীতে রাজপাড়া থানা পুলিশ হত্যা মামলার আসামি কনক চৌধুরীকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা তাকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেছিলেন বলে অভিযোগ তার খালা বেগম রোকেয়ার। অন্যদিকে যশোরে পুলিশের নির্যাতনে ইমরান হোসেন নামে এক কলেজ ছাত্রের দুটি কিডনিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। সে কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বর্তমানে ইমরান সুুুুুস্থ বলে জানা গেছে। শুধু এ ঘটনাই নয় অহরহ এমন ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে এ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেছেন, ফৌজদারি এ দুটি ধারা বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানতে সংশ্লিষ্ট সবাই বাধ্য। নির্দেশনাগুলো মানাও হচ্ছে। মানা না হলে কেউ না কেউ অভিযোগ করত। ধারা দুটির রিভিউর বিষয়ে তিনি বলেন, এখন রিভিউ শুনানি হচ্ছে না। রিভিউ শুনানি শুরু হলেই এ বিষয়ে আমি উদ্যোগ নিব।

ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জনকণ্ঠকে বলেছেন, রিভিউ শুনানি হলেই সমাধান হবে। উচ্চ আদালত দুটি ধারার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। তা সর্বক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে। যদি কারো অভিযোগ থাকে তা হলে হাইকোর্টের নজরে আনতে পারে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, যদি রিমান্ড বা গ্রেফতারের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানা না হয়, তা হলে আইনজীবীরা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তারা এর বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে। হাইকোর্ট এক রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি প্রতিপালন হওয়া উচিত। সংবিধান অনুসারে উচ্চ আদালতের রায় মান্য করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক।

সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক জনকণ্ঠকে বলেন, একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায় এইটা আমার দৃষ্টিতে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না। কোন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আদেশে তাকে আবার পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া, তার পর রিমান্ড শেষে আদালতে জাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায় করা এই প্রক্রিয়াটি আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। রিভিউ প্রসঙ্গে বলেন, যদি রিভিউতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়, তখন আগের রায়ের কার্যকারিতা থাকবে না। রিভিউয়ে স্থগিতাদেশ হয় না কখনও। আগের রায়ই বহাল আছে, বলবৎ আছে। সেই জন্য এটা অনুকরণীয় অনুসরণীয়।

সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মনজিল মোরসেদ জনকণ্ঠকে বলেন, সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুসারে সবাই এটা মানতে বাধ্য। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না এটা আমরা দেখছি। এ জায়গাটায় আমি মনে করি, রায়ের যে নির্দেশনাগুলো আছে সেটা যেন মানা হয়। মানা হলে পুলিশের বিরুদ্ধে কোন মামলা হতো না। চাঁদাবাজির অভিযোগ আসত না। সেটা বন্ধ হয়ে যেত। এতে করে পুলিশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে বেড়ে যেত। আইনের শাসনটাও প্রতিষ্ঠিত হতো।

মূল মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহবশত বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার এবং ১৬৭ ধারায় অধিকতর তদন্তের নামে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি রিমান্ডে নিয়ে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু ঘটানোর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছিল। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ছাড়াও আইন সালিশকেন্দ্র, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন এবং আরও কতিপয় ব্যক্তি ছিলেন ওই রিটে দায়েরকারীর মধ্যে। আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপুলিশ পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপারসহ ৫ জনকে বিবাদী করে এই রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। রিট পিটিশনে গ্রেফতার ও তদন্ত সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক বিধি বিধান (অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫) যথাযথভাবে পালন এবং গ্রেফতারের পর আসামিকে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগদানের জন্য আবেদন করা হয়।

হাইকোর্ট ১৯৯৮ সালের ২৯ নবেম্বর সন্দেহবশত কাউকে গ্রেফতার এবং তদন্তের নামে রিমান্ডে এনে আসামিকে শারীরিক নির্যাতন করা থেকে নিবৃত্ত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে ব্যাপারে সরকারের ওপর রুলনিশি জারি করেন। রুলের শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল বিচারপতি হামিদুল হক এবং বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের জন্য এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। উক্ত রায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও ১৬৭ ধারায় রিমান্ডে নিয়ে প্রচলিত বিধান পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে সংশোধন করার জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এই ধারাগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত রায় ঘোষণার পর থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে ১৫ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে নির্দেশ দেন। ২০০৪ সালে আপীল বিভাগ সরকারের লিভ টু আপীল (আপীলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। ২০১৬ সালের ২২ মার্চ আপীল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। দুই কার্যদিবস শুনানি করে ২০১৬ সালের ১৭ মে আদালত রায়ের জন্য ২৪ মে দিন ঠিক করে দেয়। ২৪ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট আপীল বেঞ্চ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার (৫৪ ধারা) ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ধারা (১৬৭ ধারা) সংশোধনে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপীল খারিজ করে দেন। কিছু সংশোধন সাপেক্ষে হাইকোর্টের রায়ই আপীল বিভাগ বহাল রাখেন। ২০১৬ সালের ১০ নবেম্বর ৩৯৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ভিত্তিতে যে কোন ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে। যদিও যুক্তিসঙ্গত এর কোন ব্যাখ্যা নেই। এর ফলে এ ধারায় কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের নিয়ন্ত্রণহীন (unfetterd) ক্ষমতা প্রয়োগ করে। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপব্যবহার করে থাকে। ক্ষমতার অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যখন কোন ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ ধারায় নিবর্তনমূলক আটক (preventive detention) আদেশ প্রদান করা হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ব্যতীত আরও কয়েকটি ধারায় পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। সেগুলো হলো ধারা ৫৫, ১৫০, ১৫২ ও ১৫৫। পুলিশ রংপুর ছাড়া অন্য সকল মেট্রোপলিটন এলাকায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫, ১৫০, ১৫২ ও ১৫৫ প্রয়োগের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশও প্রয়োগ করতে পারে। এছাড়াও পুলিশ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে। এছাড়া পুলিশ ১৬৭ ধারায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়ে থাকে। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মতে রিমান্ড প্রয়োজনীয়, কারণ জরুরী তথ্য বের করা, তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, দাগি অপরাধীর কাছ থেকে তথ্য বের করা কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদে বড় ধরনের অপরাধীর সূত্র পাওয়া এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের অপরাধীর প্রকৃত পরিচয় জানার জন্য। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা ঔপনিবেশিক আমলের আইন যা ১৮৬০ সালে লর্ড ম্যাকুলে প্রবর্তন করেন।

রায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, উঁচুমানের পেশাগত দায়িত্বশীলতা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মানুষকে সুরক্ষা ও কমিউনিটিকে সেবা দেবে; নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা পালন করবে আইন মেনে। দায়িত্ব পালনকালে তারা মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও সম্মান করবেন এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখবে। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কেবল দায়িত্ব পালনে আবশ্যক হলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিষ্ঠুর-অমানবিক-মর্যাদাহানিকর কোন আচরণ, নির্যাতন বা শাস্তি প্রদান অথবা তাতে উসকানি দেয়ার ঘটনা সহ্য করবে না। সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকারের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেবল সম্মানই দেখাবে না, তা মেনেও চলবে। মানুষের জীবন যেহেতু সবচেয়ে মূলবান সম্পদ, সেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে এবং তাদের প্রাথমিক চেষ্টা থাকবে অপরাধের পথ বন্ধ করার দিকে। একটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সক্রিয় হওয়ার চেয়ে আগেই তা প্রতিহত করা উত্তম।

রায়ে বিচারকদের জন্য দেয়া গাইডলাইনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (২) ধারা অনুসারে ডায়েরির অনুলিপি ছাড়া কাউকে আদালতে হাজির করে আটকাদেশ চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট, আদালত, ট্রাইব্যুনাল একটি বন্ড গ্রহণ করে তাকে মুক্তি দিয়ে দেবে। আটক থাকা কোন ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্য কোন সুনির্দিষ্ট মামলায় যদি গ্রেফতার দেখাতে চায়, সেক্ষেত্রে যদি ডায়েরির অনুলিপিসহ তাকে হাজির না করা হয়, তাহলে আদালত তা মঞ্জুর করবেন না। গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের ভিত্তি না থাকলে বিচারক আবেদন খারিজ করে দেবেন। উপরোক্ত শর্ত অনুসারে গ্রেফতার ব্যক্তিকে আটকের পর ১৫ দিনে মামলার তদন্ত শেষ না হলে এবং মামলাটি যদি কেবল দায়রা আদালত বা ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যক্তিকে ৩৪৪ ধারা অনুসারে রিমান্ডে পাঠানো যাবে, যা একবারে ১৫ দিনের বেশি হবে না। ফরওয়ার্ডিং লেটার এবং মামলার ডায়েরিতে কোন ব্যক্তিকে আটক রাখার জন্য সন্তোষজনক কারণ পাওয়া গেলে বিচারক পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপের আগ পর্যন্ত তাকে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন। সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকা- থেকে বিরত রাখার জন্য আটক করা হয়েছে- এমন সন্দেহভাজন কাউকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর আবেদন বিচারক মঞ্জুর করবেন না। ১৬৭ ধারায় আটক ব্যক্তিকে কোন আদালতে হাজির করা হলে শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি-না, তা দেখা ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে আটক করে থাকেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট দ-বিধির ২২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন। হেফাজতে কারও মৃত্যু হলে বিচারক মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে মৃত ব্যক্তিকে পরীক্ষা করবেন। এমনকি দাফন হয়ে গেলেও লাশ তুলে তা করতে হবে। নিপীড়নে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুসারে ওই কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কমান্ডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে হবে। মেডিক্যাল প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে নির্যাতনের ফলে হেফাজতে মৃত্যু বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হলে বিচারক স্বঃপ্রণোদিত হয়ে অপরাধ আমলে নেবেন; মামলা দায়েরের অপেক্ষা করবেন না।

উচ্চ আদালত গ্রেফতার-হেফাজত নীতিমালায় বলেন, কাউকে গ্রেফতারের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে একটি নথি তৈরি করবেন, যেখানে গ্রেফতারের স্থান, সময় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকবে। গ্রেফতারের সময় ও স্থান এবং আটক রাখার জায়গা গ্রেফতার ব্যক্তির স্বজনকে জানাতে হবে। স্বজনদের কাউকে না পেলে ব্যক্তির নির্দেশনা অনুসারে তার বন্ধুকে জানাতে হবে। আর তা করতে হবে ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই। কোন যুক্তিতে, কার তথ্যে বা অভিযোগে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ঠিকানাসহ তা কেস ডায়েরিতে লিখতে হবে। আটক ব্যক্তি কোন কর্মকর্তার তদারকিতে রয়েছেন, তাও উল্লেখ করতে হবে। গ্রেফতারের পর কাউকে রিমান্ডে নিতে হলে আগে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা দায়ের করতে হবে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক রাখার জন্য কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে না। কাউকে গ্রেফতারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে অবশ্যই তার পরিচয় জানাতে হবে। প্রয়োজনে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। গ্রেফতার ব্যক্তির শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন থাকলে চিকিৎসার জন্য তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের কাছ থেকে সনদ নিতে হবে। ব্যক্তিকে যদি তার বাসা বা কর্মক্ষেত্রের বাইরে অন্য কোথাও থেকে গ্রেফতার করা হয়, সেক্ষেত্রে থানায় নেয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি তার স্বজনদের লিখিতভাবে জানাতে হবে। গ্রেফতার ব্যক্তি চাইলে যে কোন স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত বা আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ পাবেন। কোন ব্যক্তিকে যখন আদালতে হাজির করা হয়, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার ফরওয়ার্ডিং লেটারে ব্যাখ্যা করবেন- কেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার পক্ষে তদন্ত শেষ করা সম্ভব না। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে, তাও উল্লেখ করতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT