ঢাকা, সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আজ শুভ বড়দিন

প্রকাশিত : 08:15 AM, 25 December 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

আজ ২৫ ডিসেম্বর। শুভ বড়দিন (ক্রিসমাস)। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আজ থেকে ২ হাজারের বেশি বছর আগে এই শুভদিনে পৃথিবীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। বেথলেহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারী মাতা মেরির কোলে জন্ম হয়েছিল যিশুর। খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করেন, কোন পুরুষের সহবাস ছাড়াই যিশুখ্রিস্টের জন্ম। সেই অর্থে তিনি ঈশ্বরের পুত্র। সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় সেখান হতেই বিকশিত হয় মুক্তির এই আলোর দিশারী। যার স্পর্শে পাপের আবর্তে নিমজ্জিত থাকা মানুষের অন্তরে এনে দেয় শান্তির পরশ।

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর ভিন্ন একটি পরিবেশে পালিত হবে বড়দিন। গির্জা ও পরিবারিক উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিটি অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করা হবে। প্রতিটি চার্চের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশবাসীকে বড়দিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খ্রীস্টান এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও মহাসচিব হেমন্ত আই কোরাইয়া। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশের খ্রীস্টান সম্প্রদায়। ইতোমধ্যে বড়দিন পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের সব গির্জা ও বড় হোটেল রঙিন বিজলিবাতি আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। খ্রীস্টান ধর্মে বিশ্বাসী অনেকের ঘরেই বসানো হয়েছে প্রতীকী গোশালা। বেথলেহেমের গরিব কাঠুরিয়ার গোয়ালঘরেই যিশু খ্রিস্টের জন্ম। সেই ঘটনা স্মরণ করে বাড়িতে ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি করতেই এটি করেন যিশুর অনুসারীরা। বড়দিনের কেনাকাটা অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রার্থনাসভার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদ্যাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রাতে প্রার্থনার বিশেষ মাহাত্ম্য হচ্ছে, পৃথিবীতে যিশুর আগমন উপলব্ধি করা। রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালে রাতে প্রধান প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়। বড়দিন উপলক্ষে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে এবং বেসরকারী টিভি চ্যানেলসমূহে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। দিনটি সরকারী ছুটির দিন। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই রাজধানীসহ খ্রীস্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বড়দিনের আমেজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবারই সম্পন্ন হয়েছে এদিন পালনের সব প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন খ্রীস্টান অধ্যুষিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গির্জাসহ বাসাবাড়ি বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়েছে। ক্যাথলিক খ্রীস্টানরা তৈরি করেছেন যিশুর জন্মদিনের গোয়ালঘর। প্রটেস্ট্যান্টদের স্থাপনাগুলোতে শোভা পাচ্ছে যিশুর আগমনী তারকা। এসব এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে প্রার্থনা সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার রাতভর অনুষ্ঠান চলার পর আজ শুক্রবার সকালে প্রতিটি গির্জায় অনুষ্ঠিত হবে এক থেকে দুটি বিশেষ খ্রিস্টযোগ। এ উপলক্ষে রমনার আর্চবিশপ হাউস সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালকে বিশেষ সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। এছাড়া রমনা সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল, তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চসহ রাজধানীর বিভিন্ন চার্চে বিশেষ খ্রিস্টযোগ অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য গির্জার প্রবেশপথে সাজানো হয়েছে ক্রশ, শুভেচ্ছা কার্ডসহ উপহারসামগ্রী বিক্রির দোকান।

বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা, র‌্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেনসহ অন্যান্য হোটেল স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে সীমিত পরিসরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বড়দিনে এসব হোটেলে শিশুদের জন্য থাকবে ক্রিসমাস কিডস্ পার্টিসহ নানা ধরনের খেলার আয়োজন। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি ও আলোকসজ্জায়। সেখানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো, জাদু প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ কেক ও কুকিজের ব্যবস্থা করেছে সোনারগাঁও হোটেল। র‌্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেনের লবিতে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল আকৃতির ক্রিসমাস ট্রি। হোটেলের চারটি রেস্তরাঁয় আয়োজন করা হয়েছে ক্রিসমাস স্পেশাল পুডিং, কেকসহ মুখরোচক নানা খাবার। সঙ্গে থাকবে সান্তা ক্লজ ও ফ্লেইকস। বড়দিন উপলক্ষে ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলকে আকর্ষণীয় রূপে সাজানো হয়েছে। শিশুদের জন্য তারা বিশেষ কিডস্ পার্টিসহ নানা ধরনের প্রতিযোগিতা ও খেলার আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশ খ্রীস্টান এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও জনকণ্ঠকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর ভিন্ন পরিবেশে ক্রিসমাস(বড়দিন) পালিত হচ্ছে। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে মানুষের মধ্যে করোনা আতঙ্ক বেড়েছে। অর্থাৎ এবার প্রতিটি পরিবারের ওপর আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি করোনা ভীতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বড়দিন পালন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সব কিছুর মাঝেও আনন্দমুখর পরিবেশেই পালিত হবে বড়দিন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT