সোমবার ২৩ মে ২০২২, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আজ থেকে শুরু হলো আল্লাহর অশেষ দয়ার ভান্ডার থেকে মাগফিরাত লাভের পালা

প্রকাশিত : 07:48 AM, 24 April 2021 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

আজ থেকে শুরু হলো ১৪৪২ হিজরির একাদশ রমজানুল মোবারক। আলহামদুলিল্লাহ, ইতিমধ্যে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে রহমতের প্রথম ১০টি দিবস। আজ থেকে শুরু হলো আল্লাহর অশেষ দয়ার ভান্ডার থেকে মাগফিরাত লাভের পালা। নবিয়ে করিম (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে রমজান শরিফের রোজা রাখে, তার আগের সব গুনাহ আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন মাফ করে দেন।

এখানে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, যারা এ দুটি শর্ত পালন করবে তাদের গুনাহ আল্লাহপাক মাফ করে দেবেন। এক. ইমান থাকতে হবে, ইমানের অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা, আঁকড়ে ধরা, বোঝা। অর্থাত্, আমি যে একজন মুমিন হিসেবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি ইমান এনেছি, সেই ইমানের পেছনে কতটুকু মেহনত করেছি। আমার ইমান কতটুকু মজবুত, আমার ইমান সঠিক আছে কি না, তা বুঝে নেওয়া। দুই. ইহতিসাব অর্থ মনে মনে হিসাব করে দেখতে হবে যে, মূল শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য আল্লাহপাক রোজাকে ফরজ করেছেন, সেই মূল শিক্ষাটা আমি গ্রহণ করছি কি না। অর্থাত্ রোজার মাসে দিনের বেলায় যেমন আল্লাহর হুকুম নেই বলেই খানাপিনা ও স্ত্রী-মিলন থেকে দূরে থাকি, ঠিক তেমনি সমাজের যাবতীয় ভুল কাজ যদি পরিত্যাগ করে আল্লাহর হুকুম মেনে চলার মতো মন তৈরি করতে না পারি, তাহলে এ রোজায় কাজ হবে না।

মানুষ যে খাবার খায় তা যদি পরিপাকযন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন এবং দেহের ক্ষয়পূরণ ও দেহকে সুস্থ রাখার মতো উপাদানগুলোর নির্যাস বের করে নিয়ে শরীরের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে অক্ষম হয়, তবে ঐ খাদ্যে যেমন দেহের উপকার হয় না, ঠিক তেমনি রোজার মৌলিক শিক্ষা যদি সমাজ-জীবন বা সামগ্রিক জীবনের সর্বত্র কার্যকরী না হয়, তবে ঐ রোজা রেখে কোনো ফায়দা হবে না। এসব কথা হিসাব করে দেখার নামই হচ্ছে ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা রাখা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিয়ে করিম (স.) বলেছেন যে, আদম সন্তানের প্রত্যেকটি নেক আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত করা হয়। আল্লাহপাক বলেন, তবে রোজা ব্যতীত। কারণ রোজা আমার জন্যই হয়ে থাকে, তাই এর প্রতিদান আমি নিজেই দেব। যেহেতু বান্দা আমার জন্যই তার কামনা বাসনা ও খানাপিনা ত্যাগ করেছে (মুসলিম শরিফ)

হজরত আবু উমামা বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিয়ে করিম (স.) বলেছেন যে, আমি শুয়েছিলাম এমতাবস্থায় আমার কাছে দুজন ফেরেশতা এলেন। তারা আমাকে সঙ্গে নিয়ে একটি পাহাড়ের কাছে গেলেন। তারা উভয়েই আমাকে বললেন, পাহাড়ে আরোহণ করুন। আমি বললাম, তাতে আরোহণ করা আমার জন্য একটু কঠিন হবে। তারা বললেন, আমরা আপনার জন্য তা সহজ করে দেব। তখন আমি সেখানে আরোহণ করলাম, এমনকি আমি পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে গেলাম। সেখানে আমি কঠিন চিত্কারের আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি জিগ্যেস করলাম, এ আওয়াজ কীসের তারা আমাকে বললেন, এটা হলো জাহান্নামিদের কান্নাকাটির আওয়াজ।

অতঃপর, তারা আমাকে নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হলেন। সেখানে আমি কিছু লোককে উলটো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখলাম, যাদের মুখ ফাটা এবং রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি জিগ্যেস করলাম এরা কারা? তারা আমাকে বললেন, এরা ঐ সব লোক যারা রোজার দিন সময় হওয়ার আগেই ইফতার করে নিত অর্থাত্ তারা যথানিয়মে রোজা পালন করত না। আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন আমাদের যথানিয়মে রোজা রাখার তওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT