ঢাকা, বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আজারেঙ্কার স্বপ্ন ভেঙ্গে চ্যাম্পিয়ন ওসাকা

প্রকাশিত : 01:25 PM, 14 September 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ইউএস ওপেনের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলেন নাওমি ওসাকা। শনিবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। ফাইনালে প্রথম সেট হেরে গেলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁডান ওসাকা। শেষমেশ জাপানী তারকা ১-৬, ৬-৩ এবং ৬-৩ গেমে আজারেঙ্কাকে হারিয়ে খেতাব জিতে নেন। সেইসঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো ইউএস ওপেনের শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জিতেছিলেন বিশ্ব টেনিস র্যাোঙ্কিংয়ের সাবেক এই নাম্বার ওয়ান। সবমিলিয়ে এটা তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় মেজর শিরোপা। গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ওসাকা।

তবে এবারের টুর্নামেন্টে একেবারে অন্যভাবে ধরা দিয়েছিলেন ওসাকা। বিভিন্ন সময় পুলিশি অত্যাচারের বা বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন যারা তাদের নাম মাস্কে লিখে কোর্টে নেমেছিলেন প্রতিটি ম্যাচেই। তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে বিশ্বজুড়েই। আজারেঙ্কার বিরুদ্ধে শনিবারের ফাইনালে ‘তামির ব্লাইস’-এর নাম মাস্কে লিখে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। ছয় বছর আগে ক্লিভল্যান্ডে ১২ বছরের তামিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তাকে স্মরণ করেই এদিন ফাইনালে নেমেছিলেন ওসাকা। ফাইনালের প্রথম সেটেই কোর্টে আগুনে পারফর্মেন্স উপহার দিয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। সেমিফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে খেতাব জেতার স্বপ্নে এবার বিভোর ছিলেন তিনি। প্রথম সেট ৬-১ ব্যবধানে জিতে নেয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও ৩-০-এ এগিয়ে গিয়েছিলেন আজারেঙ্কা। ওসাকা যে ফাইনাল হারতে চলেছেন তা অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তখন। কিন্তু এরপরই কোর্টে ফেরার ইঙ্গিত দেন তিনি। খেলার স্টাইলে আনেন সামান্য কিছু পরিবর্তন। আজারেঙ্কার বেশ কয়েকটি শটের জবাব দেন ব্যাকহ্যান্ডে। নিখুঁত জায়গায় বল প্লেস করতে শুরু করেন। ম্যাচের রাশ ধীরে ধীরে নিজের হাতে তুলে নেন। আজারেঙ্কাও খেলা থেকে হারিয়ে যান। এগিয়ে থাকার সুবিধা নিতে পারলেন না। শিরোপা জয়ের জন্য ওসাকা এবার বদ্ধপরিকর ছিলেন। ম্যাচশেষে তার কথাতেই ফুটে উঠেছে যা। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি যখন অতিরিক্ত জেতার ব্যাপারে চিন্তা করি, তখনই সমস্যা হয়। আমি আর আমি থাকি না। জেতার জন্য শান্ত থাকা খুব জরুরী। কিছুক্ষণ খেলার পর মনে হচ্ছিল জেতা হবে না। পরে ভাবলাম আমি একটা ফাইনাল খেলতে এসেছি। অনেক মানুষ ফাইনাল খেলতে চায়। এমন অবস্থায় এক ঘণ্টায় ৬-৩, ৬-০ সেটে হারতে পারি না আমি।’ নাওমি ওসাকা এ সময় আরও বলেন, ‘শিরোপা জেতার মুহূর্তটা আমার জন্য সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি সে জন্য আমি খুবই আনন্দিত।’ যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জেতার পর প্রয়াত বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্টের নাম লেখা জার্সি পরে সাংবাদিক সম্মেলনে আসেন ওসাকা। তার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘কোবি যেমন ছিল, আমিও তেমনটাই হতে চাই। ও মনে করত ওই সেরা হবে। আশা রাখি আমিও একদিন সেরা হব।’ সেই শ্রেষ্ঠত্বের পথের প্রথম সিঁড়িটাই কি এদিন পেরোলেন ওসাকা? তার সঠিক উত্তর অবশ্য সময়ের হাতে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত শিরোপার দেখা পেলেন না ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। বেলারুশ সুন্দরীর সামনে এবার নতুন এক মাইলফলকের হাতছানিও ছিল। মা হওয়ার পর হাতে গোনা যে তিনজন নারী খেলোয়াড় গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন তাদের একজন মার্গারেট কোর্ট। ফাইনালে এবার ওসাকাকে হারালেই সেই চ্যাম্পিয়ন মায়েদের কাতারে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল তার। কিন্তু পারল না সেই রেকর্ডে ভাগ বসাতে। মার্গারেট কোর্ট ছাড়া অন্য দুই চ্যাম্পিয়ন মা হলেন-ইভোন গুলাগং ও কিম ক্লাইস্টার্স। স্বামী, বাচ্চা, সংসার সামলে গ্র্যান্ডস্লাম জেতা চাট্টিখানি কথা নয়! উন্মুক্ত যুগের টেনিসে চ্যাম্পিয়ন টেনিস মায়েদের সংখ্যাটা তাই তিনেই সীমাবদ্ধ থাকল। প্রথম সন্তানের জন্মের পরের বছর মার্গারেট কোর্ট ফিরেছিলেন পুরো ফিট হয়ে, চেনা ছন্দে। উইম্বলডন ছাড়া সে বছর বাকি তিনটি গ্র্যান্ডস্লামই জিতেছিলেন তিনি। প্রথম চ্যাম্পিয়ন মা হওয়ার কৃতিত্বটা মার্গারেট কোর্টের। তার ২৪টি শিরোপার শেষ তিনটি জিতেছিলেন মা হওয়ার পরই। ১৯৭২ সালের মার্চে প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন কোর্ট। সে বছর ইউএস ওপেনে অংশ নিয়ে উঠেছিলেন সেমিফাইনালে। সেবার শেষ চারেই মা কোর্টের দৌড় শেষ হলেও পরের বছর ফিরেছিলেন পুরো ফিট হয়ে, চেনা ছন্দে। উইম্বলডন ছাড়া সে বছর বাকি তিনটি গ্র্যান্ডস্লামই জিতেছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়ার জন্য টেনিস ছেড়ে দিয়েছিলেন কোর্ট। পরে ফিরে এসে ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্ট জিতলেও গ্র্যান্ডস্লামে আর সাফল্য পাননি। ১৯৭৫ সালে শেষ গ্র্যান্ডস্লাম হিসেবে ইউএস ওপেন খেলা কোর্ট টেনিস থেকে বিদায় নিয়েছিলেন ১৯৭৭ সালে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT