ঢাকা, রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

আকাশজুড়ে বিচরণ প্রখর দৃষ্টিশক্তি, শিকারে পটু

প্রকাশিত : 07:07 AM, 13 September 2021 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বগুড়ার আকাশে ভুবন চিল, শঙ্খ চিলের ওড়াউড়ির সঙ্গে হালে কুড়া ঈগল ও তিলা নাগ ঈগল উড়ছে। শিবগঞ্জের সৈয়দপুর ইউনিয়নের কুকিকালিদাস গ্রামে তিলা ঈগল দেখা যায়। আশপাশের এলাকাতেও এদের আনাগোনা বেড়েছে। আগে এতটা ছিল না। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতার বর্ণনায় চিলকে যে কত উপমায় টেনেছেন। চিল বাংলার প্রকৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ। কুড়া ঈগল ও তিলা নাগ ঈগলকেও বলা হচ্ছে চিলেরই কোন না কোন বড় জাত। ঈগলেরও অনেক জাত আছে। শিবগঞ্জ এলাকার প্রকৃতিপ্রেমী নয়ন দাস জানান, কুড়া ঈগল ও তিলা নাগ ঈগল দেখতে প্রায় একই।

চিল পাখির সঙ্গে কুড়া ঈগল ও তিলা নাগ ঈগল পাখির সম্পর্ক নিয়ে প্রাণীকুলের বিজ্ঞজন বলতে পারবেন। তবে এই সময়ে আকাশে চিল ও ঈগলের অবাধ বিচরণ সাধারণের দৃষ্টিতে এসেছে। বগুড়ায় আকাশে কুড়া ঈগল, তিলা নাগ ঈগল এবং ভুবন চিলের ওড়াউড়ি আকাশকে সাজিয়েছে। আকাশই এদের বিচরণক্ষেত্র। নিচে নেমে বড় গাছের শাখায় আশ্রয় নিচ্ছে। ফের উড়ছে। তিলা নাগ ঈগলের গলায় ও বুকে বাদামি রঙের ফোঁটা। ভুবন চিলের ডানায় বাদামি ফোঁটা দেখা যায়। এদের বিজ্ঞান নামের পরিচিতি পরিযায়ী চিল। বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। বিশেষ করে শীতের সময়টায় বাংলাদেশে এসে বড় একটা অংশ রয়েই যায়। এমন বক্তব্য এসেছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন নেচার (আইইউসিএন) থেকে।

তিলা নাগ ঈগল, কুড়া ঈগল, ভুবন ও শঙ্খ চিল শিকারী পাখি। ডানা দীর্ঘ। পা খাটো। প্রখর দৃষ্টিশক্তি। ডানা স্থির রেখে চক্রাকারে ঘুরে শিকার খুঁজতে পটু। এরা বাজ ঈগলের সঙ্গে মিলে অক্সিপিট্রিডাই গোত্রের সৃষ্টি করেছে। এদের উপগোত্র কালা ডানা চিল। ধলা লেজি চিল। শঙ্খ চিল। ভুবন চিল। বাদামি চিল। বৈজ্ঞানিক নাম মিলভাস মিগ্রাম। ইংরেজী নাম কাইট। এ্যাসিপ্রিটাইড পরিবার অন্তর্ভুক্ত। গ্রীক মিলভাস চিল। তিলা নাগ ঈগলের বিজ্ঞান নাম স্পিলরনিস চিলা। কুড়া ঈগলের ইংরেজী নাম পালাস সি ঈগল। রিং টেইলড ঈগল। সি ঈগলের একটি জাত সমুদ্রে ওড়াউড়ি করে। আরেকটি জাত গাংচিল। এই ঈগল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভুটান, চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়। বাংলাদেশে এরা কখনও পরিযায়ী পাখি হয়ে আসে। একটা অংশ থেকে যায়।

দেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে চিল ও ঈগলের সকল প্রজাতি সংরক্ষিত। এসব পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় কাছাকাছি। দৈর্ঘ্য ৬১ থেকে ৬৭ সেমি। ডানা ৪৩ থেকে ৪৪ সেমি। ঠোঁট সাড়ে তিন সেমি। পা ৫ সেমি। পুরুষ ও স্ত্রী পাখির চেহারা অভিন্ন। বন, প্রান্তর, নদীর তীর, বেলাভূমি, নির্জন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। বড় গাছের ডালে দলবদ্ধভাবে রাত কাটায়। দিনে আকাশে ওড়ে ঝাঁকবেঁধে। ডানার তুলনায় শরীর হালকা হওয়ায় এরা অনেকটা সময় ডানা না ঝাপটিয়ে আকাশে ভেসে থাকে। নৌকার হালের মতো লেজ ব্যবহার করে। উড়তে পারে বাতাসের প্রতিকূলেও।

তিলা নাগ ঈগল যে দেশে ওড়ে সেই দেশের নামে পরিচিতি পায়। যেমন ফিলিপিন্স নাগ ঈগল, আন্দামান নাগ ঈগল, নিকোবর দ্বীপ (আইল্যান্ড) নাগ ঈগল। এদের মাথা বড় আকারের। ঘাড়ে লম্বা পালক। কেশর ঝুঁটির উপস্থিতিতে মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। হলুদ ঠোঁট। পাখনা গাঢ় বাদামি। এদের আরেক পরিচিতি সারটিকাস। সারসিটিনা গোত্রের হওয়ায় এদের অন্যতম খাবার সাপ। বনের ওপর দিয়ে উড়ে এরা খেয়াল করে কোথাও সাপ লুকিয়ে আছে কিনা। এরা সাপ শিকারে এতটাই পটু যে সাপ নিয়ে আকাশে উড়ে জানান দেয় কত বড় এক কাজ করেছে। বড় সাপ হলে সঙ্গীকে নিমন্ত্রণ করে। সাপ শিকারের কারণে এদের নামকরণের সঙ্গে নাগ শব্দটি যুক্ত হয়েছে, এমনটি মনে করেন অনেক পাখি বিশারদ।

চিল ও ঈগল জাতের পাখিগুলোর প্রজনন মৌসুম শীতকাল। গ্রীষ্মের শুরুতে এরা ডিম দেয়। শীতের আগের সময়টা শরৎ ও হেমন্তে এরা উড়ে উড়ে সঙ্গী খোঁজে। সঙ্গী খুঁজে পেলে মধুরেণ প্রণয় শুরু হয় শীতকালে। এরা নীড় বানায় বড় কোন গাছের শাখায়। সাঁওতালি ভাষায় ঈগল ও চিলের নাম কুরিত। অসমে চিলানো। পৃথিবীজুড়ে এদের বিস্তৃতি। আইইউসিএন চিলকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলেছে। বিশ্বে চিল ও ঈগলের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখ। বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়ে আসা তিলা নাগ ঈগল ও ভুবন চিলের সংখ্যা কত, এর কোন তথ্য মেলে না। একজন পরিবেশবিদ জানান, চিল ও ঈগল পাখি যদি খাওয়া যেত, তাহলে এরা বিপদগ্রস্ত হতো। এদের একটি জাত আছে গারগিলা। অতীতে শিকারিরা গারগিলা শিকার করে খেত। এই পাখির অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। এদের আর দেখা যায় না। এতসবের মধ্যে ভুবন চিল, তিলা নাগ ঈগল, কুড়া ঈগল বাংলার আকাশকে সাজিয়েছে। গোধূলিবেলায় ঘরে ফেরার সময় এরা মিষ্টি শব্দে শিস দেয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT