ঢাকা, রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ অনুপ্রেরণাদায়ী বিশ্বের তিন নারী নেতাদের একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ◈ বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বিশ্ববাজারে দরপতনের আরও কমেছে স্বর্ণের দাম ◈ “স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক ক্ষণে বিএনপি ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে ব্যস্ত” ◈ বেরোবির অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত হয়েছে : ইউজিসি ◈ বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসায় ইতালির রাষ্ট্রপতি ◈ ৭ই মার্চের ভাষণের গ্রন্থ জাতিসংঘের ছয়টি দাফতরিক ভাষায় প্রকাশ ◈ ‘ভয়ঙ্কর একটি শক্তি’ ভিন্নমতের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে ॥ মির্জা ফখরুল ◈ মিয়ানমারের ৫ চ্যানেল ব্যান করেছে ইউটিউব ◈ “৭ মার্চ সারাদেশে নির্দিষ্ট সময়ে একযোগে প্রচার হবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ”

অ্যান্টিজেন টেস্ট কী? এটি কীভাবে কাজ করবে?

প্রকাশিত : 01:32 PM, 29 October 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ দ্রুত শনাক্তকরণে র‍্যাপিড টেস্ট কিটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সব ধরনের হেলথ ইন্সটিটিউটে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হবে।

তবে এই টেস্ট শুরু করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডাব্লিউএইচও বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভ্যন্তরীণ গাইডলাইন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব রোগীর মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ রয়েছে, তাদেরকে অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হবে। এতে যারা পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাদেরকে আইসোলেশনে নেয়া হবে। আর যাদের ক্ষেত্রে ফলাফল নেগেটিভ আসবে, তাদেরকে পিসিআর টেস্টের জন্য পাঠানো হবে।
এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

অ্যান্টিজেন টেস্ট কী?
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা বা সিডিসি-এর তথ্য মতে, অ্যান্টিজেন টেস্ট মূলত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য ভাইরাস শনাক্তের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এই টেস্টের মাধ্যমে বিশেষ ভাইরাল অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়, যা আসলে ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এ বিষয়ে ভাইরোলজিস্ট তাহমিনা শারমীন বলেন, অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে মূলত শনাক্ত হয় একটি ভাইরাসের প্রোটিন অংশ। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে যেমন ভাইরাসের নিউক্লিয়িক অংশ শনাক্ত করা হয়, ঠিক তেমন অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ভাইরাসের প্রোটিন অংশ শনাক্ত করা হয়।

অ্যান্টিজেন টেস্ট কীভাবে কাজ করে?

যখন একজন মানুষ অসুস্থ থাকবেন, তখন তার নমুনা সংগ্রহের পর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। এক্ষেত্রেও নাক বা গলা থেকে সোয়াব বা নমুনা সংগ্রহ করে দেখা হয়, সেখানে ভাইরাসের অস্তিত্ব আছে কি-না। জ্বরের সঙ্গে আরো কোভিডের অন্য উপসর্গ দেখা গেলে নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

জ্বরের সঙ্গে আরো কোভিডের অন্য উপসর্গ দেখা গেলে নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

পিসিআর পদ্ধতিতে খুব অল্প পরিমাণ ভাইরাসও শনাক্ত করা সম্ভব। কারণ এটি ভাইরাসকে বৃদ্ধি করে বা অ্যাম্পলিফাই করে তাকে শনাক্ত করে। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে ভাইরাসের ছোট একটা অংশ বা নিউক্লিয়িক এসিড থাকলেও সেটি শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি ভাইরাসকে অ্যাম্পলিফাই করে না। এই টেস্টের মাধ্যমে শুধু ভাইরাসের উপস্থিতি জানা যায়।

অনেক সময় কোন রোগীর দেহে ভাইরাসের পরিমাণ কম থাকলে সেক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে তার করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি নাও জানা যেতে পারে বলে জানান ভাইরোলজিস্ট তাহমিনা শারমীন।

অ্যান্টিজেন টেস্টের সুবিধা

অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি এর ফলাফল বা টেস্টের রেজাল্ট পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব বেশি হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টের ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এছাড়া এই টেস্টে তেমন কোন ধরণের প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি দরকার হয় না বলে ফিল্ডে বা মাঠ পর্যায়েই এই পরীক্ষা চালানো সম্ভব। র‍্যাপিড কিটের মতোই এই টেস্ট চালানো সম্ভব।

সময় কম লাগার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত এই টেস্ট কিটের অনুমোদন দিয়েছে, যাতে অল্প সময়ে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো যায়।

অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সমস্যা

অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সমস্যা হলো, এটি শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। ফলাফল কতটা নির্ভুল হবে, তা নির্ভর করে এই তিনটি বিষয়ের ওপর – কিটের মান, নমুনার মান এবং সংক্রমণের কোন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এ কারণে কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা সংক্রমিত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে এলে তার ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করাতে হবে।

অ্যান্টিজেন ডিটেক্ট করার জন্য বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কিট নির্ভরযোগ্য।

মানহীন কিট হলে বা নমুনার মান খারাপ হলে অ্যান্টিজেন টেস্টের ফলাফল ‘ফলস নেগেটিভ’ হতে পারে। তবে এই টেস্টে ‘ফলস পজেটিভ’ আসার আশঙ্কা কম বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

তবে অ্যান্টিজেন টেস্টে ফল পজিটিভ আসলে বুঝে নিতে হবে যে ওই নমুনা সংক্রমিত। ফল যদি নেগেটিভ আসে তাহলে আরেকবার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT