রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অস্তমিত সূর্যের দিকে তাকিয়ে ভাবি, আরও অনেক দেয়ার আছে

প্রকাশিত : 05:56 AM, 31 October 2021 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

শুভ জন্মদিন, বাকের ভাই। ছোট মির্জা, আপনাকে অভিনন্দন।

হ্যাঁ, আজ ৩১ অক্টোবর রবিবার বিপুল জনপ্রিয় বাকের ভাই বা বড় ভালবেসে বুকে বাঁচিয়ে রাখা ছোট মির্জা কিংবা নান্দাইলের ইউনুসের জন্মদিন। আর সব নাম একত্রিত করে চাইলে আপনি বলতেই পারেন, আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিন আজ! দেশের বরেণ্য শিল্পী সবার এবং সব সময়ের প্রিয় অভিনেতা, নেতাও তিনি। জীবনের আজ ৭৫ বছর পূর্ণ করলেন! নিজের জন্য তো বটেই, সংস্কৃতির গোটা অঙ্গনটির জন্য এটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, মানতে হবে। প্লাটিনাম জুবিলি সামনে রেখে তাই গত শুক্রবার তার বাসায় গিয়ে হাজির হয়েছিলাম আমরা। তিনিও মহা ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করলেন। তার পর নাতিদীর্ঘ আড্ডা। আলাপচারিতা। নানা বিষয়ে কথা হলো।

প্রথমেই উঠে এলো জন্মদিন উদ্যাপন প্রসঙ্গ। শিল্পকলা একাডেমিতে আজ বর্ণাঢ্য আয়োজনে তার জন্মদিন উদ্যাপন করা হবে। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে একটু গুটানো স্বভাবের অভিনেতা বললেন, আমি তো এগুলো আসলে এভয়েডই করে এসেছি। কিন্তু এবার সবাই মিলে চাইল। পরে ভাবলাম ঠিক আছে, এই উপলক্ষে হয়ত অনেকের সঙ্গে সাক্ষাত হবে। সেটা শেষ সাক্ষাতও হতে পারে!

কী অলক্ষুণে কথা! শুনে ভক্ত অনুরাগীদের, নিশ্চিত জানি, বুক কেঁপে উঠছে। কিন্তু কিংবদন্তি অভিনেতা ‘শেষ সাক্ষাত’ কথাটি হাসতে হাসতে এবং খুব অবলীলায় উচ্চারণ করলেন। তার মানে, মৃত্যুকে থোড়াই কেয়ার করেন? এ উত্তরটিও বেশ মজা করে দিলেন। বললেন, সেদিন কে যেন জিজ্ঞেস করল, মৃত্যু চিন্তা হয় না? আমি বললাম, চিন্তা হয়। কিন্তু এটা নিয়ে কোন দুর্ভাবনা নেই।

এটা কী এ কারণে যে, জীবনে ভীষণ সফল আপনি? ‘না, মানুষকে তো যাইতে হবে রে ভাই’, সরল স্বীকারোক্তি তার। কঠিনকে সহজ করে বলা। কথা শুনে মনে যে কারও মনে হবে, এ যেন বেইলি রোডের বাসা থেকে মহিলা সমিতি বা মহিলা সমিতি থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে যাওয়া!

সে যাই হোক, এই যে এতদিনের জীবন, কেমন কাটিয়েছেন? উত্তরে পূর্বের কথার রেশ ধরে রেখেই বলেন, সব কিছুই সহজভাবে শান্তভাবে নেয়ার চেষ্টা করেছি। নিতে চাই। টেনশন থাকে। চাপ থাকে। এরপরও জীবনকে যতটা সম্ভব জটিলতা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করি। করে যাচ্ছি।

আপনার জীবনে, দেখে পাঠ করে মনে হয়েছে, তেমন কোন চড়াই-উতরাই ছিল না। স্ট্র্যাগল ছিল না। লাইফলাইনটাকে বেশ সরলই মনে হয়েছে। আসলে কি তাই? এবার কিছু নতুন গল্পই শোনান তিনি। বলেন, না, একটা সময় আমি তো খুব অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগেছি। এটা স্বাধীনতার পরে। আর স্বাধীনতার আগের সময়টাতে, যখন বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন পরিবারের দিকে দৃষ্টি ছিল না। ছাত্ররাজনীতি আন্দোলন দেশ মুক্তিযুদ্ধÑ এসব করে কেটে গেছে। পরিবারের দিক থেকে দেখলে হয়ত অনুচিত কাজ হয়েছে। তবে তখন কষ্টটাকে আসলে কষ্ট মনে হয়নি। হয়ত একবেলা আমরা খাইওনি। এমনও হয়েছে যে, ঘুম থেকে দেরি করে উঠেছি, যাতে সকালের নাস্তাটা না করা লাগে। একবারে দুপুরে ভাত খেয়েছি। সেকেন্ডহ্যান্ড কাপড় পরতে হয়েছে। আমাদের সময় গার্মেন্টসের রিজেক্ট কাপড়ও ছিল না। রিজেক্ট কাপড়ে হয়ত অল্প খুঁত থাকে কিন্তু নতুন। বিদেশে থেকে আসা সেকেন্ডহ্যান্ড কাপড়গুলো ছিল পুরনো। আমার মনে আছে, ’৭২ সালে কলকাতায় ‘ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী মেলা’ হলো। সেখানে কালচারাল টিমের সঙ্গে আমিও গেলাম। যাওয়ার আগে সেকেন্ডহ্যান্ড কাপড় কিনেছি। কারণ তখন আমার ওরকম ভাল কাপড় ছিল না যে, সেখানে পরতে পারি!

মঞ্চে কাজ করা, টিভি নাটকে প্রতিষ্ঠা লাভ- এগুলো কতটা সহজ বা কঠিন ছিল? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি একটা অনুকূল পরিবেশই পেয়েছিলাম। নাট্যাঙ্গনের সিনিয়রদের সঙ্গেও ভাল পরিচয় ছিল। সম্পর্ক ছিল। তাই বলে এ কারণে বাড়তি সুবিধা পাইনি। নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে। ’৭৩ সাল থেকে মঞ্চে। ’৭৪-এর মাঝামাঝি থেকে টিভিতে কাজ করছি। প্রথমে একেবারেই ছোট ছোট চরিত্র করেছি। আস্তে আস্তে সব হয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো, আসাদুজ্জামান নূর নাটক বা সিনেমার নায়ক হিসেবে পরিচিত নন। কিন্তু অভিনেতা হিসেবে অনন্য এক মর্যাদার আসন পেয়েছেন। তার ভাষায়, তথাকথিত নায়ক আমি হতে চাইনি কখনও। ক্যারেক্টার এ্যাক্টিং করেছি। জমিদার থেকে শুরু করে মাস্তান, খুনী, চোর, ভবঘুরে- এসব চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভেঙ্গেছি। সুনাম দুর্নাম যাই বলেন, এভাবে বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কুড়িয়েছি।

আপনার যুগে, মানে, বিটিভি যুগে অভিনয়টাই ছিল মুখ্য। অন্য অভিনয় শিল্পীরাও কি এভাবেই ভাবতেন? এমন প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ সূচক মাথা নাড়িয়ে তিনি বলেন, তখন সবারই আসলে অভিনয়ে মন ছিল। প্রত্যেকের অভিনয়ের একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যেত। নিজস্ব স্টাইল ছিল। ডিভোসন ছিল। আর এখন…

কী যেন বলতে গিয়েও থামলেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে সহানুভূতির সুরে বললেন, এখন মানুষের জীবনটাও তো কঠিন হয়ে গেছে রে ভাই। আমরা চাকরি বাকরি যাই করি, অভাব থাকুক দারিদ্র্য থাকুক, সন্ধ্যা বেলাটা ফ্রি ছিলাম। তখন গিয়ে নাটক করতাম। এখন মানুষ তো দৌড়ের ওপরে আছে। আমাদের সময় এত দৌড় ছিল না।

আলোচনার এক পর্যায়ে নিশ্চয় আসত ‘বাকের ভাই’ প্রসঙ্গ। কিন্তু তারও আগে এক দোকান কর্মচারী ডাক পেয়ে আসাদুজ্জামান নূরের বাসায় এসে হাজির হন। পণ্য বিক্রি করে ফিরে যাওয়ার সময় হঠাৎ থামেন তিনি। বলেন, ‘স্যার, যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা বলি?’ অনুমতি দেয়া হলে ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের স্মৃতি তুলে ধরলেন তিনি। বলেন, ‘আমার তো মনে হয় নাটক নিয়ে বাংলাদেশে বা কোন দেশে এমন মিছিল হয় নাই। এইটা, স্যার, ভোলার মতো না।’

মজার ব্যাপার হলো, প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আসাদুজ্জামন নূরকে ‘বাকের ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। একটু কি বিরক্তও হন আপনি? ‘না, বিরক্ত হই না খুব একটা’, জানান তিনি। বলেন, ঠিক আছে। ভালই তো লাগে। সবাই ভাল বলে। তবে নাটক চলাকালে বিড়ম্বনা চরমে পৌঁছেছিল। যেখানেই যেতাম হাজার হাজার মানুষ ঘিরে ধরত। চট্টগ্রামে একবার, একবার দিনাজপুরে ঘেরাও হয়ে গিয়েছিলাম। দিনাজপুরে পুলিশ না থাকলে চ্যাপ্টা হয়ে যেতাম। চট্টগ্রামে একটা স্কুলে ঢুকে পড়েছিলাম। পরে পুলিশের সাহায্যে বের হই।

তবে এতকিছুর পরও মির্জা চরিত্রটির প্রতি আলাদা দুর্বলতা কাজ করে এ অভিনেতার। যুক্তি দিয়ে বলেন, আমার নিজের কাছে মনে হয় যে, ‘অয়োময়’ নাটকে আমার অভিনয়ের কাজটা অনেক বেশি ম্যাচিওর ছিল। ‘বাকের ভাই’ পপুলার হয়েছে টিকই। বেটার মনে হয়েছে ‘মির্জাকেই।’

‘অয়োময়’ নিয়ে অভিনেতার ভালবাসার কথা সে সময়ের একটি ঘটনা থেকেও অনুমান করা যায়। নাটকের শূটিংয়ের প্রয়োজনে একটি বজ্রার ব্যবস্থা করা চাই। কিন্তু বিশেষ এই নৌকার জন্য যে বাড়তি খরচ, বিটিভির বাজেটে তা ছিল না। অগত্যা প্রযোজক নওয়াজেশ আলী খান হুমায়ূন আহমদকে সিকুয়েন্সটা একটু বদলে দিতে বললেন। কিন্তু আসাদুজ্জামান নূর ঠিক এগিয়ে এলেন তখন। প্রস্তাব দিয়ে বললেন, বজ্রা ভাড়া করার ১০ হাজার টাকা আমি দেব। আপনি বজ্রার শূটিংটা করুন। সেভাবেই হলো। প্রসঙ্গটি তুললে এই এতকাল পরও জাত-অভিনেতা চোখে মুখে একইরকম আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, সে সময় ১০ হাজার টাকা অল্প ছিল না। তবে কাজটা করে আনন্দ পেয়েছি। এটা শিল্পীর সেটিসফেকশন। একটা ভাল কাজ করলাম সবাই মিলে, আনন্দ আছে না?

কথা প্রসঙ্গে এদিন আরও এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে চলে আসে। বিপুল চাহিদা সম্পন্ন অভিনেতা জানান, কোন নাটক বা সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রে ভাল স্ক্রিপ্টটাকেই প্রাধান্য দেন তিনি। টাকা কত পাওয়া গেল তা নিয়ে বিশেষ ভাবেন না। বলছিলেন, যে যা দেন, তাই। খাম নেয়ার সময় আমি খুলে দেখি না সেখানে কত টাকা আছে! কেউ কেউ এমনও টাকা দিয়েছে যে, দেখে মনে মনে হেসেছি। বলেছি, ‘এইটা কী রকম টাকা হইল।’

আসাদুজ্জামান নূর তার সিনিয়রদেরও অনেককে অনেক ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছেন। এই অনুভূতিটা কেমন? জানতে চাইলে তিনি নাম ধরেই বললেন, রামেন্দু দা (রামেন্দু মজুমদার), আতাউর রহমান বা আরও অনেকে আমার আগে থেকে নাটকের কাজ করছেন। এখনও সক্রিয়। আমি সব সময় তাদের অবদান স্বীকার করি। তাদের সঙ্গে শ্রদ্ধা এবং ভালবাসার সম্পর্ক।

তবে তিনি স্বীকার করেন শিল্পী যারা, যারা পারফর্মার তারা অন্য কারও ভাল পারফর্মেন্স দেখলে ঈর্ষান্বিত বোধ করবেন। ওইটাই হয়ত তাকে আরও ভাল করতে অনুপ্রাণিত করে। সুতরাং এমন ঈর্ষার প্রয়োজন আছে। তবে শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

রাজনীতির আলোচনায়ও ঢুকতে হয়। বর্তমানে আসাদুজ্জামান নূর অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির মানুষ হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে বাম রাজনীতি। আর এ সংক্রান্ত আলোচনায় মূলত উঠে আসেন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে। তিনি যখন অভিনেতা হিসেবে সারাদেশের মানুষের কাছে বিপুল জনপ্রিয়, যখন ছেলে বুড়ো সবার ভালবাসায় সিক্ত তখন তার দলীয় পরিচয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে। ভালবাসাটা ভাগ যাওয়ার জোর শঙ্কা দেখা দেয় তখন। বর্তমানে কী অবস্থা? জানতে চাইলে নেতা ও অভিনেতা বলেন, খুব বেশি ভাগ হয়েছে বলে মনে হয় না। আমি তো দেশের জন্য, মানুষের জন্য রাজনীতি করি। এতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে কেউ কেউ আমার সঙ্গে ছবি তুলতে এসে বলেন, আপনাকে আমার খুব পছন্দ। কিন্তু আপনি তো আওয়ামী লীগ করেন! তখন আর কী করা? খুব হাসতে থাকি।

আসাদুজ্জামান নূরের মন্ত্রী পরিচয়টিও ছিল বড় চমক। অভিনেতা থেকে নেতা, নেতা থেকে মন্ত্রী। চমক তো বটেই। বিশেষ করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সংস্কৃতির মানুষ, এটি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। আপনার নিজের উপলব্ধিটা কী? এমন প্রশ্নে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতির মানুষ সংস্কৃতিটা জানেন। বুঝেন। ভালবাসেন। সংস্কৃতির মানুষে মানুষে যোগাযোগটাও ভাল। ফলে সংস্কৃতিমন্ত্রী সংস্কৃতির লোক হলে কিছু বাড়তি সুবিধা হয়ত পাওয়া যায়। তাই বলে এই নয় যে, সংস্কৃতির বাইরের কেউ মন্ত্রণালয় ভাল চালাতে পারবেন না। সংস্কৃতির লোকেরাও যেসব সময় ভাল চালাবেন, তাও বলা যাবে না।

বর্তমানে আসাদুজ্জামান নূর একজন সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্য হিসেবে তার যে চর্চা, যে রাজনীতি সেটিও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের। তাকে তার সংসদীয় এলাকায় একাধিকবার অনুসরণ করে এমন ধারণা হয়েছে আমাদের। নূরের শহর নীলফামারীতে, কী আশ্চর্য, কোন পোস্টার বা ব্যানার চোখে পড়ে না। রাজনৈতিক পোস্টার দিয়ে দেয়াল নোংরা করা নিষেধ। বরং বিভিন্ন দেয়ালে শত শত ছেলে-মেয়ে ছবি আঁকছে! লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চা করছে শিক্ষার্থীরা। নেপথ্যে থেকে এসবে উৎসাহ দেন সংসদ সদস্য নূর। ব্যতিক্রমী এসব চর্চা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেয়ালে আমার ছবি লাগাতে একদম বারণ করে দিয়েছি। এমপির ছবি নেই শহরের কোথাও। এটা দেখে অন্য নেতারাও তাদের ছবি সংবলিত পোস্টার লাগিয়ে অহেতুক দেয়াল নষ্ট করতে যান না। সঙ্কোচ বোধ করেন। অমরা বিভিন্ন দেয়ালে শিশুদের ছবি আঁকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ছবি আঁকার এ উৎসবটি স্কুলের বাচ্চাদের ভীষণ পছন্দ।

নীলফামারীর বিখ্যাত কবিতা উৎসবের কথাও রাজধানীর কেউ তেমন জানেন না। অথচ এ উৎসবে স্বরচিত ছড়া কবিতা নিয়ে প্রতি বছর ৩০-৩২ হাজার ছেলে-মেয়ে যোগ দেয়। এসবের মধ্য দিয়ে কী অর্জন করতে চান? স্থানীয় এমপি বলেন, আগামী প্রজন্মটাকে গড়ে তুলতে হবে তো। ওরা লেখালেখি করছে। ছবি আঁকছে। গান করছে। এভাবে ওদের মনের দরজাগুলো খুলে যাবে। বড় মানুষ হবে ওরা। এই তো চাওয়া। আর রাজনীতির মাধ্যমে যে জনসেবা সেটি তো অব্যাহত আছেই।

এমপি সাহেবের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার খবরে বহু দরিদ্র মানুষ এসে হাজির হন সেখানে। ‘ছাওয়াল’ বলে আপনাকে ঘিরে ধরেন। হাত ধরে টানেন। গাড়িতে ওঠার সময় এমনকি পাঞ্জাবি ধরে টানতেও দেখা গেছে। এর কী ব্যাখ্যা? জানতে চাইলে চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে থাকা আসাদুজ্জামান নূর পরিচিত হাসিটা হাসেন। বলেন, হ্যাঁ, এটা তো আপনিও কিছু কিছু জানেন। আমি রাজধানী ছেড়ে এই মানুষদের কাছে নিয়মিত যাই। তখন অন্যরকম লাগে। এই যে দেখলেন, আমার পাঞ্জাবি ধরে টানছে, আমার ওপর আমার মানুষদের সেই অধিকারটা জন্মেছে তো, না? তারা মনে করে, তাদের নেতার পাঞ্জাবি ধরে টানা যায়। এই ভালবাসাটা পাওয়া আমরা জন্য অনেক বড় পাওয়া বলে মনে করি।

এ পর্যায়ে স্মরণ করা যেতেই পারে আসাদুজ্জামান নূর নম্র স্বভাবের মানুষ। উচ্চকণ্ঠ হতে বা রাগে খটমট করতে কখনও তাকে দেখা যায় না। এর পরও সব কিছুর ওপর তার সূক্ষ্ম একটি নিয়ন্ত্রণ পরিলক্ষিত হয়। এটা কী করে সম্ভব? এত কিছু সামাল দিতে গিয়ে নিশ্চয়ই কৌশল করতে হয় আপনাকে। কী সে কৌশল? কিছুটা তীর্যক প্রশ্ন বটে। তার উত্তরটা ছিল সরল। বললেন, কৌশল না। আমি একটা ডিসিপ্লিন তৈরি করেছি। এটা আমাকে হেল্প করে। আমি একটা নিয়মের মধ্যে কাজ করি। এর বাইরে যাই না।

কারও সঙ্গ খারাপ ব্যবহার করে কিছু অর্জন করা যায় না বলে মনে করেন তিনি এবং এভাবে এমনকি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন। তার মতে, কোন অসুবিধা তো হয়নি।

আলোচনার শেষও হয় জন্মদিন প্রসঙ্গ টেনে। এ নিয়ে সবশেষ মন্তব্য জানতে চাইলে আরও একটু যেন ভাবার চেষ্টা করেন তিনি। খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী কবিতার মতো করে বলেন, অস্তমিত সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছি আমি। শেষ বেলার যাত্রাও শুরু হয়ে গেছে।

তাই বলে মৃত্যু নয় একদমই, জীবনের পক্ষে ঠায় দাঁড়াতে দেখা গেল তাকে। বলেন, অস্তমিত সূর্যের দিকে তাকিয়ে ভাবি, আমার আরও অনেক কিছু করার আছে। দেয়ার আছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT