ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ চট্টগ্রামে করোনায় একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫ ◈ ৭৩ বস্তা নকল সারসহ ছেলে আটক, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বাবার বিষপান ◈ আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্য ভারত পাকিস্তান এশিয়া আফ্রিকা ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আমেরিকা যুক্তরাজ্য মালয়েশিয়া অন্যান্য আন্তর্জাতিক সব খবর প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক আফগানিস্তানের সর্ব শেষ ইহুদি ব্যক্তি কাবুল ছেড়েছেন আফগানিস্তানের সর্ব শেষ ইহুদি ব্যক্তি কাবুল ছেড়েছেন ◈ টেকনিশিয়ানের স্বীকৃতি চান মোবাইল ফোন মেরামতকারীরা ◈ সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়ছে ◈ ২০ গজ দূরত্বে একই ট্রেনে কাটা পড়লেন নারী-পুরুষ ◈ কুষ্টিয়ায় অস্ত্রসহ ২০ বছর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আটক উদ্ধারকৃত পিস্তল – ২টি, ম্যাগাজিন – ৩টি, গুলির খোসা – ২ রাউন্ড ◈ পরাজয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ ◈ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ হেরে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ ◈ ‘যারা রাজপথ পাহারা দেবে, তাদেরই নেতৃত্বে আনা হবে’

অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ পরিচালিত হবে ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : 10:35 AM, 17 December 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সবাইকে যে কোন পরিস্থিতি সহনশীলতার সঙ্গেই মোকাবেলা করতে হয়, সেটাই করতে হবে। ভাস্কর্য নিয়ে কথা ওঠার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আর কে কি বলল না বলল, সেগুলো শুনার থেকে আমরা কতটুকু দেশের জন্য করতে পারলাম সেটিই আমাদের চিন্তায় থাকবে। তাহলেই আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব, সঠিক কাজ করতে পারব। সেই ভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মহান বিজয় দিবস-২০২০ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর্য ইস্যুতে আরও বলেন, অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস সবকিছু আমরা দেখেছি। বাংলাদেশ অসম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে চলবে। সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। আমরা একটা কথাই বলব, এই মাটিতে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, সকল ধর্মের মানুষ এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে একইসঙ্গে রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। আমরা মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে অন্য ধর্মের মানুষকে অবহেলা করব, এটা কোনভাবেই উচিত নয়। এ দেশের মাটিতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে সমান অধিকার নিয়েই বাস করবে, যার যার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সকলেরই থাকবে। সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি। পবিত্র ইসলাম ধর্মও আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে থাকে। নবী করিম (স.) আমাদের সেই শিক্ষা দিয়ে থাকবে।

বিজয় দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ গ্রহণের জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এটাই প্রতিজ্ঞা হবে জাতির পিতার যে স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ তিনি গড়তে চেয়েছিলেন, আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করব। জাতির পিতার আদর্শ বুকে নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করে এ দেশের মানুষের পাশে থাকব। এ দেশের মানুষ কখনও কারও কাছে মাথানত করে চলবে না। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে বাঙালী জাতি চলবে, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল- সেটাই আমরা পূরণ করব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে উপস্থিত থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মন্নাফী। গণভবন প্রান্ত থেকে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

আলোচনা সভায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারার তার বেদনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার খুব কষ্ট লাগছে দুঃখ লাগছে যে, সবাই ওখানে (আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়) বসে আছে। আর আমি দূরে জেলখানার মতো আরেকটা বন্দী শিবিরে (গণভবন) বসে আছি। এই বন্দী শিবির কতদিন ? করোনা নামক এই বন্দীত্ব থেকে দেশ যেন দ্রুত মুক্তি পায় আমরা আল্লাহ’র দরবারে সেই প্রার্থনাই করি।

দ্রুতই করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বাংলাদেশ না, সারাবিশ্বেরই তো একই অবস্থা। কাজেই এখান থেকে কীভাবে মুক্তি আসবে সেটিই বড় কথা। তবে করোনার ভ্যাকসিন আনার ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের চুক্তিও হয়ে গেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে অনুমোদনও দিয়ে দিয়েছে। কাজেই আমরা মনে করি এবং আশা করি- খুব তাড়াতাড়িই আমরা ভ্যাকসিন পেয়ে যাব।

অযথা ঘুরাঘুরি না করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, শুধু দলের নেতাকর্মীই নয়, দেশবাসীকেও বলব স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে। সব থেকে বড় সুরক্ষা হচ্ছে সবাই একটু মাস্ক পরে থাকা, হাতটা পরিষ্কার রাখা এবং দূরত্ব বজায় রাখা। ঘোরাঘুরিটা কম করা, বেশি ঘুরঘুর না করে যার যার জায়গায় থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে নিয়ে সবাইকে চলতে হবে। এটা আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য যেমন দরকার, তেমনি দেশের মানুষের জন্যও দরকার। তারপরও সব থেকে বড় সুরক্ষা হচ্ছে সবাই একটু মাস্ক পরে থাকা, হাতটা পরিষ্কার রাখা এবং দূরত্ব বজায় রাখা ঘোরাঘুরিটা কম করা, বেশি ঘুরঘুর না করে যার যার জায়গায় থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে নিয়ে আপনারা চলবেন, যাতে আপনাদের সুস্থ থাকা এটা আমাদের সংগঠনের জন্য দরকার, দেশের জন্য দরকার দেশের মানুষের জন্যও দরকার। দেশের মানুষের প্রতিও আমার অনুরোধ, সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানতে হবে।

দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের মানুষ উপলব্ধি করতে পারে সরকার হচ্ছে জনগণের সেবক। সরকার জনগণের সেবা করে, জনগণের মঙ্গল করতে পারে, দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আজ আমরা দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পেরেছি। কেননা আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা সবসময় বলতেন, ভিক্ষুকের জাতির কোন ইজ্জত থাকে না। সেই ভিক্ষুক জাতি হিসাবে আমরা থাকতে চাই না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছি, সেইভাবেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা কারোর কাছে মাথানত করে চলব না। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি বলেই আমরা দেশকে শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেছি। রিজার্ভ আজ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সবদিক থেকে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন মুজিববর্ষ পালন করছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলব। দেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না, গৃহহীনদের আমরা গৃহ নির্মাণ করে দেব। আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালাবো। ইতোমধ্যে শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই আমরা শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত সেবা পৌঁছে দেব।

করোনা মহামারীর দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী দলের নেতাকর্মীসহ সবার প্রতি সমবেদনা ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এবারও করোনা মহামারীর সময় কৃষকের ধান কাটা থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সবসময় মানুষের সেবার জন্য রাজনীতি করে, সেই সেবা আমরা করে যাব।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার তার সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেছিলেন। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি হয়েছি। ২০২৪ সাল থেকে এটি কার্যকর হবে, এর জন্য যা যা করার আমরা তা করে যাচ্ছি।

এখন যে শিশুটি জন্ম নেবে, তারও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তার সরকারের ঘোষিত এক শ’ বছরের ডেল্টা প্ল্যান- ২১০০ প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বদ্বীপের জন্য ১০০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছি। আজকে যে শিশুটি জন্ম নেবে, তার সুন্দর জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য কী কী করতে হবে, সেসব পরিকল্পনার কথাও এটাতে উল্লেখ করা রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় দেশের জনগণের জন্য কাজ করে, তাদের সুন্দর ও উন্নত জীবনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

জাতির পিতা আর মাত্র পাঁচটি বছর বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারতো উল্লেখ করে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির দুর্ভাগ্য, আমাদের স্বাধীনতাবিরোধীরা এবং আমাদের এ দেশীয় তাদের দালাল এজেন্ট যারা বা পরাজিত শক্তির খোষামদি তোষামদি ও চাটুকার যারা ছিল, যারা স্বাধীনতা চায়নি, যারা পরাধীনতা অর্থাৎ সেই হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর পদতলেই থাকতে চেয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল জাতির পিতার দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লবের কর্মসূচী যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেভাবে হবে, আর কোনদিন এই বাংলাদেশকে তারা (পরাজিত শত্রু) কখনও দাবিয়ে রাখতে পারবে না। সেই কারণেই ১৫ আগস্ট, আমাদের জাতীয় জীবনে একটা কালো দিন নেমে আসে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ আমার মা-ভাইসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার পরও অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ওই সময় খুনী ও তাদের দোসররা বলার চেষ্টা করেছিল, এটা একটা পারিবারিক ঘটনা। কিন্তু ৩ নবেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এটা পারিবারিক নয়, দেশের স্বাধীনতাকে নস্যাত ও দেশকে পেছনে ঠেলে দিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। এরপর যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসানো হয়, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করে ইতিহাসের উল্টো পথে দেশকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে।

দলকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। ইউনেস্কো আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে। এটা বাঙালী জাতি হিসেবে আমাদের জন্য একটা বিশাল প্রাপ্তি। তাই দলের নেতাকর্মীদেরও বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে। করোনাকালে আমরা প্রত্যেক অসহায় মানুষের ঘরে সাহায্য পৌঁছে দিয়েছি, অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ২১ দফা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসের আলোচনার শুরুতেই দেশবাসীকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতাকারী ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ভারতের ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীসহ ভারতের সকল জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় সকলের সহযোগিতা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ওই সময় যেসব দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, ওইসব দেশের জনগণ কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের পক্ষেই ছিল। আমাদের জন্য কাজ করেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT