ঢাকা, বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে গরিবের অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশিত : 07:24 PM, 10 November 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এলজিএসপি-২ (লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট) এর বরাদ্দে গ্রাম অঞ্চলে রোগী পরিবহনের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেই রূপ দেয়া হয়েছিল ‘অ্যাম্বুলেন্স’। এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না হওয়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দেখার কেউ নেই।

জানা যায়, যানবাহন সংকটের অজুহাতে বেশি ভাড়া আদায়ের রেওয়াজ ভাঙতে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুমূর্ষু রোগীরা জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত যেন না হয়, সে চিন্তা থেকেই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছিল। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু করা হয়েছিল ব্যাটারিচালিত এই অটোরিকশা। কম খরচে জরুরি সেবা পাওয়া যাবে বলে স্থানীয়ভাবে যার পরিচিতি পেয়েছিল ‘গরীবের ‘অ্যাম্বুলেন্স’।

এর সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছিলেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষ। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই এগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। অযত্ন আর অবহেলায় ফেলে রাখার কারণে নষ্ট হতে চলেছে। যার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেবার মান।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালু করা হয়েছিল। চর-বেষ্টিত চকরাজাপুর ইউনিয়নে একইভাবে নৌকায় সেই সেবা প্রচলিত ছিল। সাড়ে ১৭ হাজার টাকা ভ্যাট ও অন্যান্য খরচসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা অ্যাম্বুলেন্সের ছাদে ঘূর্ণায়মান লাল আলোর বিচ্ছুরণের জন্য লাগানো হয়েছিল সাইরেন হর্ন। আর ভেতরে ছিল দুই ছিটের গদির সাহায্যকারী ও রোগীর শুয়ে-বসে থাকার সুব্যবস্থা।

২৪ ঘণ্টা সার্ভিসের জন্য দেয়া সেই ফোন নম্বরে কল করে ঠিকানা জানিয়ে দিলেই বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে হাজির হতো রোগী পরিবহনের সেই অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সন্তান সম্ভবা নারীসহ মুমূর্ষু রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সহজেই আনা-নেয়া করা হতো।

এদিকে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব অনুসারে পরিবহন খরচ নির্ধারণ করা ছিল ৫০-১০০ টাকা। যাত্রী বহনের ভাড়ার টাকা থেকে ব্যয় করার কথা ছিল, চালকের বেতন, ব্যাটারি চার্জ ও অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের খরচ। খরচ বাদে বাড়তি টাকা ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হতো। পালা করে পরিবহনের দায়িত্ব দেয়া হতো দফাদার ও গ্রাম পুলিশকে।

বাজুবাঘা ইউনিয়নের দফাদার মুখলেচুর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেই সেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাজির হতেন রোগীর বাড়িতে।

বাউসা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ বিশু দেওয়ান বলেন, গত এক বছরে প্রায় ১৫০-২০০ রোগীকে বাঘা ও পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভাড়ার টাকা নিয়ে দরদাম হতো না। দরিদ্র মানুষ খুব উপকার পেয়েছিল।

এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক ও পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ সরকারের সঙ্গে কথা কলে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স নিয়মিত না চালানোর কারণে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। সেই কারণেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। একটি ব্যাটারি বদলাতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এ বিষয়ে কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ব্যাটারি পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জনস্বার্থে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT