ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

অন্ধকার অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ

প্রকাশিত : 09:09 AM, 3 December 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। নয় মাসের প্রাণপণ লড়াই শেষে এ মাসেই দেশকে পরিপূর্ণ স্বাধীন ও শত্রুমুক্ত করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলা মায়ের অকুতোভয় সেই বীরদের অবদানের কথা এ সময়ে এসে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। প্রায় প্রতিদিনই থাকে গুরুত্বপূর্ণ সভা সেমিনার। সংস্কৃতিকর্মীরা সঙ্গীত নৃত্য কবিতার ভাষায় বিজয়ের আনন্দ প্রকাশ করেন।

তবে এবার অন্যরকম একটি সূচনা হলো। ডিসেম্বরের শুরুতে উৎসব অনুষ্ঠানের পরিবর্তে রাজপথে নেমে এলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ। অন্ধকার অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান গ্রহণ করলেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে প্রতিবাদ প্রতিরোধের এ কর্মসূচী চলমান থাকবে। আর তা হলে বিজয় দিবস উদ্যাপনে যোগ হবে ভিন্ন মাত্রা।

প্রেক্ষাপটটি তৈরি করে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী। স্বীকৃত ধর্মব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করে। নষ্ট করে দিতে চায় মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন। একই চিন্তার জায়গা থেকে সম্প্রতি সরব হতে দেখা যায় এক ফতোয়াবাজকে। কুয়োর ব্যাঙটি আশকারা পেয়ে যা তা বকে যাচ্ছিল। শেষতক ঔদ্ধত্য এই পর্যায়ে এসে ঠেকে যে, সে জাতির জনকের ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না বলে ফতোয়া দেয়। তার গলার সমস্ত রগ বের করা চিৎকার শুধু শব্দ দূষণের কারণ হয়নি, ভেতরে লুকিয়ে রাখা বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থানটুকু সবার সামনে স্পষ্ট করেছে। পশ্চাৎপদরা এ ধরনের আরও অনেক রঙ্গ করে বিভিন্ন সময়ে পার পেয়ে গেছে বটে। এবার হয়েছে উল্টো। ফতোয়াবাজ ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। খিস্তি খেউর শোনার পর থেকেই সোচ্চার সাধারণ মানুষ। যে যার অবস্থান থেকে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন তারা। বর্তমানে অভিযুক্ত মামুনুল ও বাবুনগরী গংকে গ্রেফতারের জোর দাবি উঠেছে।

গত ১ ডিসেম্বর রাজপথ থেকে দাবিটি স্পষ্ট করা হয়েছে। বিজয়ের মাসের প্রথম দিন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। টিএসসি দোয়েল চত্বর শাহবাগ থেকে শুরু করে মৎস্য ভবন পর্যন্ত জায়গাজুড়ে আয়োজন করা হয়েছিল মানববন্ধনের। ৬০টি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বহু সংগ্রাম করে বাঙালী স্বাধীনতাকে নিজের করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাওয়া বাংলাদেশে বাস করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। স্বীকার করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গড়া যাবে না এমন ফতোয়া যারা দেন তারা একাত্তরের চেতনাবিরোধী। একই অপরাধে মামুনুল ও বাবুনগরীকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

প্রতিবাদ কর্মসূচীর সম্মুখভাগে রয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এ সম্পর্কে জোটের সাবেক সভাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা রামেন্দু মজুমদার বলেন, বিজয়ের মাসে আমরা প্রতি বছর বড়সড় উৎসবের আয়োজন করি। ১৬ ডিসেম্বর সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উৎসবের আয়োজন করা হয়। তবে এবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বিজয় দিবস উদ্যাপনের কথা ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তির ঔদ্ধত্য দেখে আমরা আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। রাজপথে এসে প্রতিবাদ করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দেয়ার মধ্য দিয়ে এবারের বিজয় দিবস উদ্যাপনকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, একই লক্ষ্যে কর্মসূচী চলমান থাকবে। আগামী শনিবার সারাদেশের সব জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করবেন সংস্কৃতিকর্মীরা। ১১ ডিসেম্বর সব উপজেলায় একই কর্মসূচী পালন করা হবে। এর বাইরে বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে।

আন্দোলনে জোরালোভাবে রয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবি জনকণ্ঠকে বলেন, ডিসেম্বর মাস আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জনের মাস। এ মাসেই বর্বর পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। অথচ এতকাল পরও তাদের প্রেতাত্মারা নানান ছুঁতোয় ফনা তোলার চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বাধা দেয়ার সাহস দেখাচ্ছে ওরা। এত সাহস কী করে হয়? আমরা তাই জবাব দেয়ার জন্য মাঠে নেমেছি। বিজয়ের মাসে জাতি ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মান্ধদের এক চুলও আর ছাড় দেয়া হবে না। দেশবিরোধী মন্তব্য করায় দুই অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, এদের কড়া বার্তা দেয়ার মধ্য দিয়েই এবারের বিজয় দিবসের আনন্দ খুঁজে নেয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT